সঞ্চয়পত্র খবর । ক্রয় সীমা । নগদায়ন

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ২০২৬ । কোন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বেশি লাভ?

২০২৬ সালের সর্বশেষ সরকারি সিদ্ধান্ত ও বাজেট প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি লাভ বা মুনাফা পাওয়া যায় পেনশনার সঞ্চয়পত্রে এবং এর পরেই রয়েছে পরিবার সঞ্চয়পত্র

তবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা প্রাপ্তি এখন আপনার বিনিয়োগের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। বিনিয়োগকে দুটি স্ল্যাবে ভাগ করা হয়েছে: ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বেশি

২০২৬ সালের জুলাই মাসের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, কোন সঞ্চয়পত্রে কত মুনাফা এবং কোনটিতে সবচেয়ে বেশি লাভ, তার একটি সহজ হিসাব নিচে দেওয়া হলো:

১. কোন ধরনের সঞ্চয়পত্রে সবচেয়ে বেশি লাভ?

সবচেয়ে বেশি লাভ পাওয়া যায় নিচের দুটি সঞ্চয়পত্রে:

  • ১ম স্থান: পেনশনার সঞ্চয়পত্র (সর্বোচ্চ ১১.৯৮%)

    • কারা কিনতে পারবেন: অবসরপ্রাপ্ত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পিআরএল-এ থাকা ব্যক্তিবর্গ।

    • লাভের হার: ৭.৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা ১১.৯৮%। ৭.৫০ লক্ষ টাকার বেশি বিনিয়োগ করলে এই হার কমে হয় ১১.৮০%। এটি প্রতি ৩ মাস পর পর মুনাফা দেয়।

  • ২য় স্থান: পরিবার সঞ্চয়পত্র (সর্বোচ্চ ১১.৯৩%)

    • কারা কিনতে পারবেন: ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যেকোনো বাংলাদেশি নারী, যেকোনো শারীরিক প্রতিবন্ধী (পুরুষ বা নারী) এবং বিশেষ ক্ষেত্রে প্রবীণ নাগরিক।

    • লাভের হার: ৭.৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা ১১.৯৩%। ৭.৫০ লক্ষ টাকার বেশি বিনিয়োগ করলে এই হার হয় ১১.৮০%। এটি প্রতি মাসে মুনাফা দেয় এবং সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয়।

২. অন্যান্য সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার (২০২৬)

সাধারণ পুরুষ বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বাকি সঞ্চয়পত্রগুলোর লাভও ৭.৫০ লক্ষ টাকার স্ল্যাব অনুযায়ী নির্ধারিত হয়:

সঞ্চয়পত্রের ধরন৭.৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লাভ৭.৫০ লক্ষ টাকার বেশি লাভমুনাফা দেওয়ার সময়কাল
৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র১১.৮৩%১১.৮base% (১১.৮০%)মেয়াদ শেষে একসাথে
৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র১১.৮২%১১.৭৭%প্রতি ৩ মাস পর পর
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক (৩ বছর মেয়াদি)১১.৮২%১১.৭৭%মেয়াদ শেষে/বছরে

⚠️ বাজেট ২০২৬-এর গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম (উৎস কর ফেরত): সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে আগের মতোই ১০% উৎসে কর (Source Tax) কেটে রাখা হবে। তবে ২০২৬ সালের নতুন বাজেটের নিয়ম অনুযায়ী, এই উৎসে কর আর “চূড়ান্ত কর দায়” নয়। অর্থাৎ, আপনার যদি কোনো করযোগ্য আয় না থাকে, তবে বছর শেষে আয়কর রিটার্ন (Tax Return) জমা দিয়ে আপনি কেটে নেওয়া অতিরিক্ত করের টাকা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ফেরত (Refund) নিতে পারবেন।

সংক্ষেপে সিদ্ধান্ত: আপনি যদি একজন নারী বা সাধারণ যোগ্য বিনিয়োগকারী হন এবং প্রতি মাসে নির্দিষ্ট আয় চান, তবে পরিবার সঞ্চয়পত্র আপনার জন্য সেরা এবং সবচেয়ে লাভজনক। আর আপনি যদি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরিজীবী হন, তবে পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনে সবচেয়ে বেশি মুনাফা পেতে পারেন।

লাখে কত টাকা পাওয়া যায়?

সঞ্চয়পত্রে ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতি মাসে বা ৩ মাস পর পর ঠিক কত টাকা হাতে পাবেন, তা নির্ভর করে আপনি কোন সঞ্চয়পত্রটি কিনছেন এবং আপনার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ কত (৭.৫০ লক্ষ টাকার নিচে নাকি ওপরে) তার ওপর।

নিচে ২০২৬ সালের বর্তমান নিয়ম ও ১০% উৎসে কর (Source Tax) কাটার পর ১ লক্ষ টাকায় আসল মুনাফা কত টাকা পাবেন, তার একটি সহজ হিসাব দেওয়া হলো:

১. পরিবার সঞ্চয়পত্র (প্রতি মাসে লাভ)

নারীদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় এই সঞ্চয়পত্রে প্রতি মাসে মুনাফা দেওয়া হয়।

  • বিনিয়োগ ৭.৫০ লক্ষ টাকার নিচে হলে (১১.৯৩% হারে):

    • ১ লক্ষ টাকায় সরকারি মোট মুনাফা: প্রতি মাসে ৯৯৪ টাকা।

    • ১০% কর কাটার পর আপনার হাতে থাকবে: প্রতি মাসে ~৮৯৫ টাকা।

  • বিনিয়োগ ৭.৫০ লক্ষ টাকার বেশি হলে (১১.৮০% হারে):

    • ১০% কর কাটার পর আপনার হাতে থাকবে: প্রতি মাসে ~৮৮৫ টাকা।

২. ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র (প্রতি ৩ মাস পর পর লাভ)

এটি পুরুষ-মহিলা সকলেই কিনতে পারেন এবং প্রতি ৩ মাস পর পর মুনাফা তুলে নেওয়া যায়।

  • বিনিয়োগ ৭.৫০ লক্ষ টাকার নিচে হলে (১১.৮২% হারে):

    • ১ লক্ষ টাকায় ৩ মাস পর পর মোট মুনাফা: ২,৯৫৫ টাকা।

    • ১০% কর কাটার পর আপনার হাতে থাকবে: ৩ মাস পর পর ~২,৬৬০ টাকা (যা মাসে গড়ে প্রায় ৮৮৬ টাকা)।

  • বিনিয়োগ ৭.৫০ লক্ষ টাকার বেশি হলে (১১.৭৭% হারে):

    • ১০% কর কাটার পর আপনার হাতে থাকবে: ৩ মাস পর পর ~২,৬৪৮ টাকা (যা মাসে গড়ে প্রায় ৮৮৩ টাকা)।

৩. পেনশনার সঞ্চয়পত্র (প্রতি ৩ মাস পর পর লাভ)

শুধুমাত্র অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এই সঞ্চয়পত্র।

  • বিনিয়োগ ৭.৫০ লক্ষ টাকার নিচে হলে (১১.৯৮% হারে):

    • ১০% কর কাটার পর আপনার হাতে থাকবে: ৩ মাস পর পর ~২,৬৯৫ টাকা (যা মাসে গড়ে প্রায় ৮৯৮ টাকা)।

  • বিনিয়োগ ৭.৫০ লক্ষ টাকার বেশি হলে (১১.৮০% হারে):

    • ১০% কর কাটার পর আপনার হাতে থাকবে: ৩ মাস পর পর ~২,৬৫৫ টাকা (যা মাসে গড়ে প্রায় ৮৮৫ টাকা)।

৪. ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র (মেয়াদ শেষে লাভ)

এটি ৫ বছর পর মেয়াদ শেষ হলে মুনাফাসহ একসাথে আসল টাকা তোলা যায়। তবে প্রতি বছর শেষে মুনাফার একটি নির্দিষ্ট হার রয়েছে। ৫ বছর পূর্ণ হলে গড়ে ১ লক্ষ টাকায় ১১.৮৩% হার অনুযায়ী (১০% কর কেটে) একবারে প্রায় ৫৩,০০০ টাকার মতো শুধু লাভই পাওয়া যায়।

সহজ হিসাব: আপনি যদি সাধারণ বিনিয়োগকারী হিসেবে ১ লক্ষ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র কেনেন, তবে প্রতি মাসে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিশ্চিত ৮৯৫ টাকা এসে জমা হবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *