সরকারি বাসা বরাদ্দ এখন সম্পূর্ণ অনলাইনে: বাধ্যতামূলক করলো আবাসন পরিদপ্তর
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসা বরাদ্দ প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে বাসা বরাদ্দের জন্য আর কোনো ম্যানুয়াল বা কাগজের আবেদন গ্রহণ করা হবে না; বরং সকল সেবাগ্রহীতাকে আবশ্যিকভাবে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন দাখিল করতে হবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সরকারি আবাসন পরিদপ্তর (প্রশাসন শাখা) সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনা জারি করেছে। পরিদপ্তরের পরিচালক মোঃ জহিরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক স্মারকে (স্মারক নম্বর: ২৫.৪৩.০০০০.০০০.০১৬.০১.০০০২.১৮.৪৩) এই তথ্য জানানো হয়।
অনলাইন আবেদনের মূল কারণ ও লক্ষ্য
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সরকারি বাসা বরাদ্দের আবেদন দাখিল, গ্রহণ ও প্রক্রিয়া করার পুরো ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জনদুর্ভোগ হ্রাস পাবে, অন্যদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগ্যতা ও প্রাক্ততা (সিনিয়রটি) অনুযায়ী নির্ভুলভাবে বাসা বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে। প্রচলিত আবেদন ফর্মের আদলেই অনলাইনের এই নতুন সিস্টেমটি সাজানো হয়েছে।
নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের জারি করা নির্দেশনায় বিশেষ করে ২টি বিষয় আবশ্যিকভাবে পরিপালন করতে বলা হয়েছে:
১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর: গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ হতে সকল সেবাগ্রহীতাকে সম্পূর্ণভবে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন করার জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইট www.bashaonline.com-এ প্রবেশ করে “সাধারণ আবেদন” মেন্যু ব্যবহার করে আবেদন দাখিল করতে হবে।
আইনি বিধিমালা অনুসরণ: বাসা বরাদ্দের আবেদন দাখিল ও তা যাচাই-বাছাই করে অগ্রায়নের ক্ষেত্রে Bangladesh Allocation Rules, 1982-এর Rule 4 এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য সকল প্রজ্ঞাপন বা গেজেট যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।
সংযুক্তিসমূহ
নতুন এই নির্দেশনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা স্পষ্ট করার জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ নথি সংযুক্ত করা হয়েছে: ১. Temporary 19.12.2018 ২. Bangladesh Allocation Rules 1982 Rule 4 10.04.2019
ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট গভর্ন্যান্সের অংশ হিসেবে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের (www.doga.gov.bd) এই অনলাইন সেবা চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর ফলে দাপ্তরিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমবে এবং দ্রুততম সময়ে বাসা বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


