প্রশিক্ষণ । সংযুক্তি । উচ্চশিক্ষা। প্রেষণ

আংশিক বৃত্তি নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বিদেশে উচ্চশিক্ষার নীতিমালায় স্পষ্টীকরণ

বিদেশে প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৃত্তি সংক্রান্ত নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ স্পষ্টীকরণ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে ‘আংশিক বৃত্তি’ (Partial Scholarship) বলতে কী বোঝাবে এবং এ ধরনের বৃত্তিপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে কী কী শর্ত প্রযোজ্য হবে, তা পরিপত্রের মাধ্যমে পরিষ্কার করা হয়েছে।

গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিপি-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এতে ‘জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা নীতিমালা, ২০২৩ (তৎপর নীতিমালা) (অতিথির নীতিমালা)’-এর (vi) অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘আংশিক বৃত্তি’ বিষয়ে সংশোধনী প্রজ্ঞাপনের আলোকে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।

আংশিক বৃত্তির নতুন সংজ্ঞা

পরিপত্রে বলা হয়েছে, পিএইচডি (PhD) কোর্সের ক্ষেত্রে আংশিক বৃত্তি বলতে এমন বৃত্তিকে বোঝানো হবে, যেখানে—

  • প্রশিক্ষণ বা উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ কোর্স ফি (Course/Tuition Fee) এবং
  • জীবনধারণ ব্যয় (Living Allowance)-এর অন্তত ৫০ শতাংশ

বৃত্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষ বহন করবে।

অর্থাৎ, পিএইচডি পর্যায়ে কেবল আংশিক আর্থিক সহায়তা নয়, নির্ধারিত ন্যূনতম আর্থিক সহায়তার মান পূরণ করলেই সেটি ‘আংশিক বৃত্তি’ হিসেবে গণ্য হবে।

মাস্টার্স প্রোগ্রামের ক্ষেত্রেও ব্যাখ্যা

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, মাস্টার্স প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে আংশিক বৃত্তি বলতে বোঝাবে—

  • কোর্স সম্পন্নের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ কোর্স/টিউশন ফি, এবং
  • জীবনধারণ ব্যয়ের (Living Allowance) একটি অংশ

বৃত্তি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ বহন করবে।

এর মাধ্যমে মাস্টার্স পর্যায়ে আংশিক বৃত্তির গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রেও একটি সুস্পষ্ট নীতিগত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ গ্রহণ করা যাবে না

পরিপত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণ বা উচ্চশিক্ষা গ্রহণকালে বৃত্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি বৃত্তির বাইরে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে—

  • Teaching Assistantship,
  • Graduate Assistantship,
  • Research Assistantship,
  • Casual Enrollment,
  • Employment,
  • অথবা অন্য কোনো ধরনের চাকরি বা কাজের প্রস্তাব

গ্রহণের জন্য বিবেচিত হবেন না।

অর্থাৎ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদেশে প্রশিক্ষণ বা উচ্চশিক্ষাকালে বৃত্তির বাইরে অতিরিক্ত আয়ের উদ্দেশ্যে এসব কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারবেন না।

কেন এই স্পষ্টীকরণ গুরুত্বপূর্ণ

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ‘আংশিক বৃত্তি’ শব্দটির ব্যাখ্যা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ছিল। নতুন এই পরিপত্রের মাধ্যমে পিএইচডি ও মাস্টার্স—উভয় পর্যায়েই আংশিক বৃত্তির আর্থিক কাঠামো স্পষ্ট হওয়ায় আবেদন, অনুমোদন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জটিলতা কমবে।

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পারমিয়া সুলতানা প্রিয়াংকা স্বাক্ষরিত এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদেরসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।

সোর্স

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *