প্রশাসন I একাউন্টস I অডিট আপত্তি

বাজেট সাশ্রয়ের দুই নির্দেশনা প্রত্যাহার, অর্থ বিভাগের নতুন চিঠিতে আগের সিদ্ধান্ত বাতিল

সরকারের ২০২৬–২৭ অর্থবছরের ব্যয় সাশ্রয় উদ্যোগকে ঘিরে জারি হওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা কয়েক দিনের মধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে জারি করা নতুন এক চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, গত ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা দুটি পৃথক পত্রের বিষয়ে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে পূর্ণ বেতন-ভাতার পরিবর্তে শিক্ষা ছুটি প্রদানের প্রস্তাব এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মোটরযানের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানোর উদ্যোগ কার্যকর হচ্ছে না।

কী ছিল আগের দুই নির্দেশনায়?

অর্থ বিভাগের বাজেট অনুবিভাগ-১ থেকে ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা প্রথম চিঠিতে জানানো হয়েছিল, দেশে ও বিদেশে পিএইচডি অর্জনের জন্য অধ্যয়নরত অবস্থায় পূর্ণ ছুটি বা ফেলোশিপপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা বর্তমানে ফেলোশিপের পাশাপাশি পূর্ণ বেতন-ভাতাও পাচ্ছেন। ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে পূর্ণ বেতন-ভাতার পরিবর্তে শিক্ষা ছুটি প্রদানের সুযোগ বিবেচনার কথা বলা হয় এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়।

একই দিনে জারি হওয়া আরেকটি পৃথক চিঠিতে সরকারি কর্মকর্তাদের মোটরযানের মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বর্তমান ৫৫ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এতে সরকারি ব্যয় কমানোর যুক্তি তুলে ধরা হয়।

নতুন চিঠিতে কী বলা হয়েছে?

১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে অর্থ বিভাগের উপসচিব স্বাক্ষরিত নতুন চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৯ জুলাই জারি করা ওই দুই পত্রে উল্লিখিত বিষয়ের ওপর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না। অর্থাৎ, পূর্বের নির্দেশনা কার্যত প্রত্যাহার করা হয়েছে।

চিঠিতে ৯ জুলাইয়ের দুটি স্মারক নম্বরও উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন এ সিদ্ধান্ত?

নতুন চিঠিতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আগের দুটি নির্দেশনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছিল।

বিশেষ করে—

  • পিএইচডি বা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে অবস্থানরত কর্মকর্তাদের পূর্ণ বেতন-ভাতা বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
  • সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা এক ধাপে প্রায় অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।

এমন প্রেক্ষাপটে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে অর্থ বিভাগ আগের দুই নির্দেশনা থেকে সরে এসেছে।

প্রশাসনে নতুন আলোচনা

সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ চললেও, এই দুটি নির্দেশনা প্রত্যাহারের ঘটনায় প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত এবং প্রশাসনিক বাস্তবতা আরও গভীরভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে, কয়েক দিনের মধ্যে একটি নির্দেশনা জারি এবং পরে তা প্রত্যাহারের ঘটনা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সারসংক্ষেপ

  • ৯ জুলাই ২০২৬: অর্থ বিভাগ ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দুটি নির্দেশনা জারি করে।
  • প্রথম নির্দেশনা: পিএইচডি/ফেলোশিপপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পূর্ণ বেতন-ভাতার পরিবর্তে শিক্ষা ছুটির বিষয় বিবেচনা।
  • দ্বিতীয় নির্দেশনা: সরকারি কর্মকর্তাদের মোটরযানের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৫৫ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকায় নামানোর প্রস্তাব।
  • ১৬ জুলাই ২০২৬: নতুন চিঠিতে জানানো হয়, ৯ জুলাইয়ের ওই দুই নির্দেশনার বিষয়ে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না।

এর ফলে আপাতত উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত সুবিধা এবং মোটরযানের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় সংক্রান্ত বিদ্যমান ব্যবস্থা অপরিবর্তিত থাকছে।

সোর্স

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *