আইবাস++ । পে ফিক্সেশন । ই-ফাইলিং

আগস্টের এমপিও বিল ২১ আগস্টের মধ্যে অনলাইনে সাবমিটের নির্দেশ, ভুল তথ্যে অর্থ গেলে দায় প্রতিষ্ঠান প্রধানের

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের আগস্ট ২০২৬ মাসের এমপিও অর্থ EFT-এর মাধ্যমে পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আগামী ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে অনলাইনে এমপিও বিল সাবমিট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আগস্ট ২০২৬ মাসের এমপিওর অর্থ EFT-তে প্রেরণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে EMIS সিস্টেমের MPO-EFT মডিউলে লগইন করে Bill Submit করতে হবে।

২১ আগস্টের মধ্যে বিল সাবমিট

মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে আগস্ট-২০২৬ মাসের এমপিও বিল অনলাইনে সাবমিট করতে হবে। ফলে আজ ২০ আগস্ট হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিল সাবমিটের সময়সীমা কার্যত শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিল সাবমিটের আগে প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এমপিওর অর্থ EFT-এর মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান থেকে সাবমিট করা তথ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

কীভাবে এমপিও বিল সাবমিট করতে হবে

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানকে EMIS সিস্টেমের MPO-EFT মডিউলে লগইন করে Bill Submit করতে হবে। এরপর প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য আলাদাভাবে বিধিমোতাবেক প্রাপ্য এমপিওর অর্থ হিসাব করে বিল সাবমিট করতে হবে।

অর্থাৎ, শুধু প্রতিষ্ঠানের মোট এমপিও বিল প্রস্তুত করলেই হবে না; তালিকাভুক্ত প্রত্যেক শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য সংশ্লিষ্ট মাসে প্রকৃত প্রাপ্য অর্থ সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক দাখিল করা তথ্যের ভিত্তিতেই এমপিওর অর্থ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীর ব্যাংক হিসাবে EFT-এর মাধ্যমে পাঠানো হবে।

কেউ মারা গেলে বা পদত্যাগ করলে কী হবে?

মাউশির নির্দেশনায় এমপিও তালিকায় থাকা কোনো শিক্ষক-কর্মচারী সংশ্লিষ্ট মাসে মৃত্যুবরণ বা পদত্যাগ করলে বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সংশ্লিষ্ট মাসে বিধিমোতাবেক ওই শিক্ষক-কর্মচারীর প্রাপ্য অর্থ নির্ধারণ করে বিল সাবমিট করতে হবে। অর্থাৎ, পুরো মাসের বেতন-ভাতা প্রাপ্য না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রকৃত প্রাপ্যতার ভিত্তিতেই বিল প্রস্তুত করতে হবে।

সাময়িক বরখাস্ত, অনুমোদনহীন অনুপস্থিতি বা বেতন কর্তনের ক্ষেত্রেও সতর্কতা

শুধু মৃত্যু বা পদত্যাগ নয়, সাময়িক বরখাস্ত, অনুমোদনহীন অনুপস্থিতি কিংবা অন্য কোনো কারণে কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর আংশিক বা সম্পূর্ণ বেতন কর্তন/বন্ধ করার প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে Bill Submit করার সময় সেটি উল্লেখ করতে হবে।

এখানে মূল বিষয় হলো—এমপিও তালিকায় নাম থাকলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরো মাসের অর্থ পাঠানোর সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট মাসে প্রকৃত প্রাপ্যতা ও বিধিসম্মত কর্তন বিবেচনায় নিয়ে বিল প্রস্তুত করতে হবে।

ভুল তথ্য দিলে দায় কার?

এই নির্দেশনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো ভুল তথ্যের দায় প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর বর্তাবে

মাউশি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানের দাখিল করা তথ্যের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওর অর্থ EFT-তে প্রেরিত না হলে অথবা ভুল তথ্যের কারণে অতিরিক্ত অর্থ প্রেরিত হলে এর দায় প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর বর্তাবে।

অর্থাৎ, বিল সাবমিট করার আগে শিক্ষক-কর্মচারীদের নাম, এমপিও স্ট্যাটাস, প্রাপ্যতার পরিমাণ, অনুপস্থিতি, বরখাস্ত, পদত্যাগ, মৃত্যু বা বেতন কর্তনের মতো বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই করা প্রতিষ্ঠান প্রধানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য বড় সতর্কতা

নতুন EFT-ভিত্তিক অর্থপ্রেরণ ব্যবস্থায় ভুল তথ্যের আর্থিক প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে। কোনো কর্মচারী প্রকৃতপক্ষে যে পরিমাণ অর্থ পাওয়ার অধিকারী, তার চেয়ে বেশি অর্থ চলে গেলে সেটি পরবর্তীতে সমন্বয় বা পুনরুদ্ধারের বিষয় তৈরি করতে পারে। আবার প্রাপ্য অর্থের চেয়ে কম বা কোনো অর্থই না গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারী আর্থিক ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।

তাই ‘Bill Submit’ করার আগে চূড়ান্ত যাচাই করাই এখন প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

EFT ব্যবস্থায় সরাসরি ব্যাংক হিসাবে যাবে এমপিওর অর্থ

মাউশির নির্দেশনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হলো, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা EFT ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে বিল প্রস্তুত ও অনলাইনে সঠিকভাবে সাবমিট করা পুরো অর্থপ্রেরণ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

মাউশির ওয়েবসাইটেও এর আগে জুন ও জুলাই ২০২৬ মাসের এমপিও অর্থ EFT-তে পাঠানোর জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক অনলাইনে বিল সাবমিটের পৃথক নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছিল। জুলাই মাসের নির্দেশনাটিও ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়।

কারা নির্দেশনার আওতায়?

বিজ্ঞপ্তির বিতরণ তালিকা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ/প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য প্রযোজ্য। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিদেরও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিষয়টি অবগতির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, মাউশির পরিচালক, আঞ্চলিক পরিচালক, উপপরিচালক, প্রোগ্রামার এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এর অর্থ কী?

এই নির্দেশনা মূলত আগস্ট ২০২৬ মাসের এমপিও অর্থ EFT-তে পাঠানোর প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা। তবে বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে ঠিক কোন তারিখে অর্থ জমা হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

তাই ২১ আগস্টের মধ্যে প্রতিষ্ঠান থেকে Bill Submit করা মানেই ওই দিনই শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে টাকা চলে যাবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বরং ২১ আগস্ট হলো প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে বিল সাবমিটের নির্ধারিত সময়সীমা। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে EFT-এর মাধ্যমে অর্থ প্রেরণ করা হবে।

শেষ মুহূর্তে যা যাচাই করা জরুরি

আগস্টের এমপিও বিল সাবমিটের আগে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিশেষভাবে যাচাই করা উচিত—

  • এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের তালিকা;
  • সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আগস্ট মাসের প্রকৃত প্রাপ্যতা;
  • মৃত্যু বা পদত্যাগের তথ্য;
  • সাময়িক বরখাস্তের তথ্য;
  • অনুমোদনহীন অনুপস্থিতির তথ্য;
  • আংশিক বা সম্পূর্ণ বেতন কর্তনের বিষয়;
  • ব্যাংক/EFT-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য;
  • বিলের মোট অর্থের হিসাব।

সারসংক্ষেপ

আগস্ট ২০২৬ মাসের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা EFT-তে পাঠানোর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আগামী ২১ আগস্টের মধ্যে EMIS-এর MPO-EFT মডিউলে অনলাইনে Bill Submit করতে হবে। একই সঙ্গে মাউশি সতর্ক করেছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানের দাখিল করা ভুল তথ্যের কারণে কোনো শিক্ষক-কর্মচারী প্রাপ্য অর্থ না পেলে কিংবা অতিরিক্ত অর্থ পেলে তার দায় প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর বর্তাবে।

ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল সাবমিট করার পাশাপাশি সঠিক তথ্য, প্রকৃত প্রাপ্যতা এবং প্রয়োজনীয় কর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগস্ট মাসের এমপিও অর্থ EFT-তে পাঠানোর প্রক্রিয়াটি পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাবে।

সূত্র: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখের বিজ্ঞপ্তি।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *