নতুন জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু, খসড়া পাঠানো হয়েছে বিজি প্রেসে
তুন জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের পথে আরও এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস)-এ পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খসড়াটি প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফিরে আসবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং আনুষ্ঠানিক এসআরও নম্বর পাওয়ার পর এটি গেজেট আকারে প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। সর্বশেষ অগ্রগতিতে পে স্কেলের খসড়া বিজি প্রেসে পাঠানোকে গেজেট প্রকাশের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গতকালই খসড়া পাঠানো হয়েছে
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গতকালই নতুন পে স্কেলের খসড়া বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামোকে আনুষ্ঠানিক আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তবে খসড়া বিজি প্রেসে পাঠানো মানেই সঙ্গে সঙ্গে গেজেট প্রকাশ—এমনটি নয়। সরকারি প্রজ্ঞাপন বা এসআরও জারির ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রশাসনিক ও আইনি ধাপ অনুসরণ করতে হয়।
সূত্র জানায়, বর্তমানে খসড়াটি প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াকরণের জন্য বিজি প্রেসে রয়েছে।
এরপর কী হবে?
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে এগোবে।
প্রথমে খসড়াটি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় মুদ্রণ ও প্রক্রিয়াগত কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর এটি আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হতে পারে। আইনগত দিকগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় মতামত বা সংশোধনের পর চূড়ান্ত নথি প্রস্তুত করা হবে।
সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনটি আনুষ্ঠানিক এসআরও নম্বর পাবে। এরপর সরকারি গেজেট হিসেবে এটি প্রকাশের পথ সুগম হবে।
সম্ভাব্য প্রক্রিয়ার ধাপ
পে স্কেলের খসড়া প্রস্তুত
↓
বিজি প্রেসে পাঠানো
↓
প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াকরণ শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রত্যাবর্তন
↓
আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং
↓
চূড়ান্ত অনুমোদন ও এসআরও নম্বর
↓
সরকারি গেজেট/প্রজ্ঞাপন প্রকাশ
কেন আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং গুরুত্বপূর্ণ?
সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির আগে নথির আইনি ভাষা, বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং প্রয়োজনীয় আইনগত বিষয়গুলো পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংকে গেজেট প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিশেষ করে নতুন জাতীয় পে স্কেলের মতো বড় আর্থিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপনের ভাষা, কার্যকারিতার তারিখ, প্রযোজ্যতার ক্ষেত্র এবং অন্যান্য শর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
আইনগত ভেটিং সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট হবে।
এসআরও নম্বর পাওয়ার পরই আনুষ্ঠানিক প্রকাশ
এসআরও (Statutory Regulatory Order) নম্বর পাওয়া সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক ধাপ। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ করে এসআরও নম্বর বরাদ্দ হলে নতুন পে স্কেল কার্যকরসংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
তবে সংশ্লিষ্ট সব প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
অর্থাৎ, খসড়া বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে—এটি গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হলেও, চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের আগে আরও কিছু আনুষ্ঠানিক ধাপ বাকি রয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের নজর এখন গেজেটের দিকে
নতুন জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোতে কোন গ্রেডে কত বেতন নির্ধারণ হবে, বিদ্যমান চাকরিজীবীদের বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে, ইনক্রিমেন্ট ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার কাঠামো কী হবে—এসব বিষয়ের চূড়ান্ত উত্তর মিলবে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর।
বিশেষ করে পে স্কেলের কার্যকারিতার তারিখ, বেতন ফিক্সেশনের পদ্ধতি, গ্রেডভিত্তিক মূল বেতন এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
খসড়া থেকে গেজেট—শেষ ধাপের অপেক্ষা
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নতুন জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের পথে প্রশাসনিক কার্যক্রম দৃশ্যমানভাবে এগিয়েছে। খসড়া বিজি প্রেসে পাঠানোর পর এখন পরবর্তী ধাপগুলোর দিকে নজর সংশ্লিষ্টদের।
বিজি প্রেস থেকে নথি অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসা, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং এসআরও নম্বর পাওয়ার পরই গেজেট প্রকাশের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা প্রকাশিত গেজেটের আগে পে স্কেলের চূড়ান্ত কার্যকারিতা, বেতন হার কিংবা বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে, নতুন জাতীয় পে স্কেলের খসড়া বিজি প্রেসে পাঠানো সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এখন সবার দৃষ্টি পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি ধাপ সম্পন্ন করে কখন আনুষ্ঠানিকভাবে এসআরও নম্বরসহ নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হয়, সেদিকেই।



