সার্ভিস রুলস । নীতি । পদ্ধতি । বিধি

সরকারি অফিসে তালা খোলা ও লাগানো: কার দায়িত্ব এবং প্রবিধান কী বলে?

সরকারি দপ্তর মানেই শৃঙ্খলা, সুনির্দিষ্ট কার্যপরিধি এবং নির্ধারিত দায়িত্ববণ্টন। তবে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করার আগে প্রতিদিন সকালে অফিসের তালা খোলা এবং ছুটির পর তালা লাগানোর বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোতে নানা ধরনের ভুলিসূত্র ও কর্মীর মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়। বিশেষ করে ‘অফিস সহায়ক’ এবং ‘নিরাপত্তা প্রহরী’ পদের দায়িত্বের পরিধি নিয়ে একধরনের বিভ্রান্তি লক্ষ্য করা যায়। সম্প্রতি এ বিষয়ে কার্যবিধি ও দাপ্তরিক নিয়মের আলোকে একটি স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে।

দায়িত্বের ক্রমানুযায়ী নির্ধারিত ধারা

সরকারি দপ্তরের সাধারণ নিয়ম এবং প্রশাসনিক প্রটোকল অনুযায়ী অফিস খোলা ও বন্ধ করার দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত থাকে:

  1. নিরাপত্তা প্রহরী (Security Guard): যেসকল সরকারি অফিসে ডেডিকেটেড বা নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রহরী বা নাইট গার্ড পদায়ন করা থাকে, অফিসের মূল গেট ও প্রধান দরজা খোলা এবং বন্ধ করার প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তায়।

  2. অফিস সহায়ক (Office Assistant): সংশ্লিষ্ট অফিসে যদি নিরাপত্তা প্রহরীর পদ না থাকে কিংবা ওই পদে কেউ অনুপস্থিত থাকেন, তবে সেই দায়িত্ব বর্তায় অফিস সহায়কদের ওপর।

  3. অন্যান্য পদের কর্মী: নিরাপত্তা প্রহরী ও অফিস সহায়ক—উভয় পদেই কেউ না থাকলে দাপ্তরিক ধারাবাহিকতা অনুযায়ী তার উপরের স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা এই কাজটি সম্পন্ন করে থাকেন।

  4. অফিস প্রধানের ভূমিকা: সর্বশেষ বা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে যদি অফিসে ওই মুহূর্তে অন্য কোনো উপযুক্ত স্টাফ উপস্থিত না থাকেন, তবে দপ্তরের স্বার্থে অফিস প্রধান (প্রধান কর্মকর্তা) নিজেই নিজ দায়িত্বে অফিস খোলা বা লাগানোর ব্যবস্থা করেন।

দায়িত্ব বনাম মানসিকতা: বিরাজমান বাস্তব চিত্র

মাঠপর্যায়ের অনেক সরকারি দপ্তরের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোনো কোনো কর্মী নিয়োগপ্রাপ্ত পদের চেয়ে নিজেদের পদমর্যাদা বা অহংকারকে বড় করে দেখতে পছন্দ করেন। দাপ্তরিক পদবি ‘অফিস সহায়ক’ বা এ জাতীয় হলেও অনেকেই নিজেদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতো আচরণ করেন এবং কায়িক বা রুটিনভিত্তিক এই দায়িত্বগুলো পালন করতে অনীহা প্রকাশ করেন।

অথচ সরকারি চাকরির বিধিমালা এবং কার্যবণ্টন অনুযায়ী, দপ্তরের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে অফিস খোলা ও তালাবদ্ধ করার কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ছোট কোনো কাজের বিষয় নয়, বরং সরকারি সম্পদ ও নথিপত্রের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

প্রশাসনিক নির্দেশনা ও উপসংহার

দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রত্যেক কর্মীর উচিত নিজ নিজ পদের অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা। অফিসভেদে জনবল কাঠামো (Organogram) আলাদা হতে পারে; তাই যেখানে নিরাপত্তা প্রহরী আছেন, তার দায়িত্ব তাকেই পালন করতে হবে। আর যেখানে ওই পদ শূন্য বা অনুপস্থিত, সেখানে অফিস সহায়কদের পারস্পরিক সমঝোতা বা অফিস প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী এই দায়িত্ব পালন দাপ্তরিক শৃঙ্খলারই অংশ। পদমর্যাদার অহংকার পরিহার করে অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে পালন করলেই সরকারি সেবার মান ও সুশাসন সুদৃঢ় হয়।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *