১১-২০ গ্রেডের বাড়িভাড়া বৈষম্য ও জটিলতা নিরসনের প্রস্তাব: এক ধাপ নির্ধারণের দাবি জোরালো
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোতে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রা এবং সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে এই গ্রেডগুলোর মূল বেতনের খুব বেশি ব্যবধান না থাকায় বাড়িভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমান ব্যবস্থার চিত্র ও মূল সমস্যা
বর্তমান পে-স্কেল অনুযায়ী ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতনের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমার মধ্যে ব্যবধান মাত্র ৫,০০০ টাকার মতো। অথচ প্রচলিত নিয়মে বাড়িভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রেডভিত্তিক বিভিন্ন স্তর ও ভিন্ন হার রয়েছে।
বেতনের স্বল্প ব্যবধান: ১১ ও ২০ গ্রেডের মূল বেতনের পার্থক্য খুবই সামান্য হওয়ায়, বাড়িভাড়া কাটার বা পাওয়ার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া বৈষম্য নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করে।
শ্রেণিভেদের জটিলতা: ১১-২০ গ্রেডকে আলাদা ধাপে ভাগ করায় বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসনিক জটিলতা এবং কর্মচারীদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হয়।
জীবনযাত্রার ব্যয়: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সামান্য বেতনের ওপর ভিত্তি করে গ্রেডভেদে বাড়িভাড়া নির্ধারণ করায় কম গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়ছে।
প্রস্তাবিত সমাধান: ১৬-২০ গ্রেডের হারে একীভূত বাড়িভাড়া
বিশেষজ্ঞ ও কর্মচারী প্রতিনিধিদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, ১১-২০ গ্রেডকে আলাদা কোনো ধাপ হিসেবে না রেখে যদি ১৬ থেকে ২০ গ্রেডের জন্য নির্ধারিত একক ও অভিন্ন হারে বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হয়, তবে এই দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান ঘটতে পারে।
মূল প্রস্তাব: ১১ থেকে ২০ গ্রেডের সমস্ত কর্মচারীর জন্য বাড়িভাড়ার হার একক বা ১৬-২০ গ্রেডের নির্ধারিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হারে নির্ধারণ করা হোক। এতে গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য যেমন দূর হবে, তেমনি হিসাব-নিকাশের জটিলতাও কমে আসবে।
এই পরিবর্তনের ইতিবাচক দিকসমূহ
১. প্রশাসনিক সরলতা: হিসাবরক্ষণ ও বিল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে জটিলতা হ্রাস পাবে। 2. সামাজিক ন্যায়বিচার: কম মূল বেতন পাওয়া কর্মচারীদের আবাসন সংকট ও আর্থিক টানাপোড়েন কিছুটা হলেও লাঘব হবে। 3. বৈষম্য হ্রাস: গ্রেড বৈষম্যের ব্যবধান কমিয়ে এনে একটি সমতাভিত্তিক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।
সার্বিক দিক বিবেচনায়, ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের বাড়িভাড়া সংক্রান্ত জটিলতা চিরতরে দূর করতে নীতিনির্ধারক মহল বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।



