বৈষম্য । দাবীর খতিয়ান । পুন:বিবেচনা

২২ লাখ সরকারি কর্মচারীর জন্য শিক্ষা ভাতা বাড়ানোর দাবি, ৫০০ থেকে ১,৫০০ টাকা করার প্রস্তাব

দেশের প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মচারীর সন্তানদের শিক্ষাব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান শিক্ষা ভাতা বাড়ানোর দাবি উঠেছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি জনাব আব্দুল মালেক সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রচলিত শিক্ষা ভাতা বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় উল্লেখ করে তা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে একজন সরকারি কর্মচারীর সন্তানের জন্য যে শিক্ষা ভাতা দেওয়া হয়, তা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে ১ সন্তানের ক্ষেত্রে মাসিক ১,৫০০ টাকা এবং ২ সন্তানের ক্ষেত্রে মাসিক ৩,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমানে কত শিক্ষা ভাতা দেওয়া হয়

সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রচলিত শিক্ষা ভাতার হার অনুযায়ী—

  • ১ সন্তানের জন্য: মাসিক ৫০০ টাকা
  • ২ সন্তানের জন্য: মাসিক ১,০০০ টাকা

অর্থাৎ দুই সন্তানের ক্ষেত্রে একজন সরকারি কর্মচারী বর্তমানে মাসে মোট ১,০০০ টাকা শিক্ষা ভাতা পেয়ে থাকেন।

অন্যদিকে প্রস্তাবিত হারে এ ভাতা নির্ধারণ করা হলে—

  • ১ সন্তানের জন্য: মাসিক ১,৫০০ টাকা
  • ২ সন্তানের জন্য: মাসিক ৩,০০০ টাকা

ফলে একজন কর্মচারীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য বর্তমানের তুলনায় মাসে অতিরিক্ত ২,০০০ টাকা শিক্ষা ভাতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রস্তাব কার্যকর হলে কতটা বাড়বে

প্রস্তাবিত হার ও বর্তমান হারের তুলনা করলে দেখা যায়, এক সন্তানের ক্ষেত্রে শিক্ষা ভাতা ৫০০ টাকা থেকে ১,৫০০ টাকা হলে মাসিক ভাতা তিনগুণ হবে। অর্থাৎ মাসে অতিরিক্ত ১,০০০ টাকা পাওয়া যাবে।

দুই সন্তানের ক্ষেত্রে শিক্ষা ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে ৩,০০০ টাকা হলে একইভাবে মাসিক ভাতা তিনগুণ হবে। এতে মাসে অতিরিক্ত ২,০০০ টাকা এবং বছরে অতিরিক্ত ২৪,০০০ টাকা পাওয়া যেতে পারে।

সন্তানের সংখ্যাবর্তমান ভাতাপ্রস্তাবিত ভাতামাসিক বৃদ্ধি
১ সন্তান৫০০ টাকা১,৫০০ টাকা১,০০০ টাকা
২ সন্তান১,০০০ টাকা৩,০০০ টাকা২,০০০ টাকা

কেন শিক্ষা ভাতা বাড়ানোর দাবি

সরকারি কর্মচারীদের সন্তানদের স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষায় বই-খাতা, পোশাক, পরিবহন, কোচিং বা অতিরিক্ত শিক্ষা কার্যক্রমসহ নানা ধরনের ব্যয় রয়েছে। সময়ের সঙ্গে এসব ব্যয় বাড়লেও দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত শিক্ষা ভাতার হার অপরিবর্তিত থাকায় এর প্রকৃত আর্থিক সহায়তার সক্ষমতা কমে গেছে—এমন যুক্তি থেকেই ভাতা বাড়ানোর দাবি সামনে এসেছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেকের দাবির মূল বিষয় হলো, বর্তমান বাস্তবতায় সন্তানদের শিক্ষার ব্যয় বিবেচনা করে সরকারি কর্মচারীদের শিক্ষা ভাতা পুনর্নির্ধারণ করা।

২২ লাখ কর্মচারীর পরিবারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

দেশে প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী রয়েছেন—দাবিটি বাস্তবায়িত হলে এর প্রভাব বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মচারী পরিবারের ওপর পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব কর্মচারীর দুই সন্তান রয়েছে, তাদের জন্য মাসিক শিক্ষা ভাতার পরিমাণ ১,০০০ টাকা থেকে ৩,০০০ টাকা হলে পারিবারিক শিক্ষা ব্যয়ের একটি অংশ মেটাতে বাড়তি সহায়তা পাওয়া যাবে।

তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—২২ লাখ সরকারি কর্মচারীর প্রত্যেকের সন্তান সংখ্যা একই নয়। ফলে প্রস্তাবিত হার কার্যকর হলে সরকারের মোট অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয় কত হবে, তা নির্ভর করবে কতজন কর্মচারী এক সন্তানের জন্য এবং কতজন দুই সন্তানের জন্য শিক্ষা ভাতা পাওয়ার যোগ্য তার ওপর।

অতএব, শুধু ২২ লাখ কর্মচারীর সংখ্যা দিয়ে সরকারের মোট অতিরিক্ত ব্যয় নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা যাবে না। এজন্য যোগ্য কর্মচারীর সংখ্যা, ভাতা পাওয়ার বয়সসীমা, প্রকৃত সুবিধাভোগীর সংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট বাজেটীয় হিসাব প্রয়োজন হবে।

কর্মচারীদের জন্য কী পরিবর্তন আসতে পারে

প্রস্তাবটি অনুমোদিত ও কার্যকর হলে একজন কর্মচারীর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য পরিবর্তন হবে—

এক সন্তান থাকলে:
বর্তমান ৫০০ টাকা → প্রস্তাবিত ১,৫০০ টাকা
অতিরিক্ত ১,০০০ টাকা মাসে।

দুই সন্তান থাকলে:
বর্তমান ১,০০০ টাকা → প্রস্তাবিত ৩,০০০ টাকা
অতিরিক্ত ২,০০০ টাকা মাসে।

অর্থাৎ দুই সন্তানের ক্ষেত্রে বছরে অতিরিক্ত ২৪ হাজার টাকা শিক্ষা সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

এখনো এটি দাবি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ১,৫০০ টাকা ও ৩,০০০ টাকা এখনো প্রস্তাবিত/দাবিকৃত হার। দাবি উত্থাপিত হলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি ভাতা হিসেবে কার্যকর হয় না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনা, নীতিগত সিদ্ধান্ত, আর্থিক সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি আদেশ বা বিধিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই নতুন হার কার্যকর হতে পারে।

তাই বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের জন্য কার্যকর শিক্ষা ভাতা হিসেবে ১ সন্তানের জন্য ৫০০ টাকা এবং ২ সন্তানের জন্য ১,০০০ টাকা-ই বিবেচ্য; প্রস্তাবিত ১,৫০০ ও ৩,০০০ টাকা কার্যকর হয়েছে—এমন তথ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা

ক্রমবর্ধমান শিক্ষা ব্যয়ের বাস্তবতায় শিক্ষা ভাতা পুনর্নির্ধারণের দাবি সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে দুই সন্তানের ক্ষেত্রে ভাতা তিনগুণ করার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে কর্মচারীদের পরিবারের শিক্ষা ব্যয়ে সরাসরি অতিরিক্ত সহায়তা যুক্ত হবে।

এখন দেখার বিষয়, ২২ লাখ সরকারি কর্মচারীর সন্তানদের শিক্ষাব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা ভাতা বৃদ্ধির এই দাবি সরকার কীভাবে মূল্যায়ন করে এবং শেষ পর্যন্ত নতুন কোনো হার নির্ধারণ করা হয় কি না।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *