পে-ফিক্সেশনের পথে বড় অগ্রগতি: iBAS++-এ তথ্য চাওয়া হলো মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোর
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নে নতুন প্রশাসনিক পদক্ষেপ, ৩ কর্মদিবসের মধ্যে জনবল তথ্য পাঠানোর নির্দেশ
দীর্ঘ অপেক্ষা, নানা জল্পনা-কল্পনা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির পর জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ বা Pay Fixation কার্যক্রম বাস্তবায়নের পথে আরও একটি দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে iBAS++-এর Pay Fixation Sub-system প্রস্তুত করার অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের জনবল-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য চাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রশাসন শাখা-১ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা চিঠিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে এ তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিঠির ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় বেতন স্কেল/২০২৬-এর বেতন নির্ধারণী কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার নিমিত্ত iBAS++-এর Pay Fixation Sub-system-এ প্রয়োজনীয় তথ্য অন্তর্ভুক্তির জন্য বিভাগের অধীন দপ্তর/সংস্থার মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
কেন এই তথ্য সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন পে-স্কেলে একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন নির্ধারণ শুধু নতুন গ্রেডের বেতন জানার বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পদ, মূল বা Substantive Grade, পদসংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক কাঠামোর তথ্যও সিস্টেমে সঠিকভাবে থাকা প্রয়োজন।
এই কারণেই iBAS++-এর Pay Fixation Sub-system চালুর আগে বিভিন্ন দপ্তরের জনবল কাঠামো হালনাগাদ করার কাজ চলছে।
চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, চাহিত জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাঠাতে বিলম্ব হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের iBAS++ Pay Fixation Sub-system-এ বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম বিলম্বিত হতে পারে।
অর্থাৎ, এটি নিছক তথ্য চাওয়ার একটি সাধারণ প্রশাসনিক চিঠি নয়; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের নতুন বেতন নির্ধারণের প্রস্তুতির সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
৩ কর্মদিবসের মধ্যে তথ্য পাঠানোর নির্দেশ
চিঠিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তথ্য পাঠাতে হবে নির্ধারিত ছকে। সেখানে উল্লেখ করতে হবে—
- ক্রমিক নম্বর
- পদের নাম—বাংলা
- পদের নাম—ইংরেজি
- পদের মূল গ্রেড বা Substantive Grade
- পদটির সংখ্যা
- প্রয়োজনীয় মন্তব্য
এছাড়া তথ্যের MS Word সফট কপি এবং স্বাক্ষরিত হার্ড কপি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এতে বোঝা যায়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জনবল কাঠামোকে iBAS++-এর নতুন Pay Fixation ব্যবস্থার উপযোগী করে সাজানোর কাজ একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
কোন কোন তথ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
চিঠির ছকটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পদের মূল গ্রেড বা Substantive Grade-এর ওপর।
কারণ কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্তমানে যে পদে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার মূল/স্থায়ী পদ বা substantive grade—দুটি সবসময় একই নাও হতে পারে। নতুন বেতন নির্ধারণের সময় এই তথ্যের সঠিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট পদের সংখ্যা কত—সেটিও চাওয়া হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে সিস্টেমে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জনবল কাঠামো যাচাই ও বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই তথ্য ব্যবহার করা হতে পারে।
যেসব দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানকে তথ্য দিতে বলা হয়েছে
চিঠির সংযুক্ত তালিকায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লা; সমবায় অধিদপ্তর; বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি); পল্লী উন্নয়ন একাডেমি; বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন (মিল্কভিটা); পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ); বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।
অর্থাৎ তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগটি একটি নির্দিষ্ট অফিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বিভাগের অধীন একাধিক দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ের জনবল কাঠামো এর আওতায় আনা হচ্ছে।
গেজেটের পর এবার বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ ইতোমধ্যে অনুমোদিত ও জারি হয়েছে। সরকার ৩১ আগস্ট ২০২৬ নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করে। এতে ২০টি গ্রেড বহাল রেখে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডে সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অর্থ বিভাগ নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।
এখন বাস্তব চ্যালেঞ্জ হলো—এই নতুন কাঠামো প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে কীভাবে প্রয়োগ করা হবে। আর সেই বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে Pay Fixation।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি iBAS++-এর মাধ্যমে অনলাইনে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।
পে-ফিক্সেশনের আগে কেন দপ্তরভিত্তিক তথ্য দরকার?
একজন কর্মচারীর নতুন বেতন নির্ধারণের আগে সিস্টেমে তার বর্তমান বেতন ও চাকরিসংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে থাকা প্রয়োজন। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পদ ও গ্রেড কাঠামোও সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি।
তাই পুরো প্রক্রিয়াটিকে মোটামুটি কয়েকটি ধাপে দেখা যায়—
প্রথম ধাপ: দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের জনবল তথ্য সংগ্রহ।
দ্বিতীয় ধাপ: পদ, পদসংখ্যা ও Substantive Grade যাচাই।
তৃতীয় ধাপ: iBAS++ Pay Fixation Sub-system-এ প্রয়োজনীয় কাঠামো প্রস্তুত করা।
চতুর্থ ধাপ: কর্মকর্তা-কর্মচারী পর্যায়ে নতুন বেতন নির্ধারণ।
পঞ্চম ধাপ: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই ও পরবর্তী বেতন প্রদানের প্রক্রিয়া।
তবে ২৪ সেপ্টেম্বরের চিঠিটি মূলত প্রথম ধাপের তথ্য সংগ্রহের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এই চিঠিকে সব সরকারি কর্মচারীর পে-ফিক্সেশন শুরু বা সম্পন্ন হওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় আগ্রহ—কখন নিজের বেতন ফিক্সেশন হবে এবং নতুন বেতন কবে পাওয়া যাবে?
সাম্প্রতিক সময়ে iBAS++-এ অনলাইন Pay Fixation নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশিত হয়েছে এবং সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া অনলাইনে নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
তবে কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার তারিখ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য প্রস্তুতি, সিস্টেমে তথ্য অন্তর্ভুক্তি, যাচাই এবং কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার ওপর।
তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—নিজ নিজ দপ্তরের চাকরি ও পদসংক্রান্ত তথ্য সঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করা।
বিশেষ করে নাম, পদ, গ্রেড, মূল পদ বা substantive grade এবং চাকরির রেকর্ডে কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে পরবর্তী সময়ে পে-ফিক্সেশনে জটিলতা তৈরি হতে পারে। নতুন পে-স্কেলের অনলাইন প্রক্রিয়ায় তথ্যের সামান্য অমিলও সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
তাহলে কি বলা যায়—পে-ফিক্সেশন একেবারে সামনে?
২৪ সেপ্টেম্বরের এই চিঠির গুরুত্ব এখানেই যে, iBAS++ Pay Fixation Sub-system-এর জন্য মাঠপর্যায়ের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের কাজ বাস্তবে এগোচ্ছে।
অর্থাৎ নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পর এখন শুধু নীতিগত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে বিষয়টি নেই; বরং বিভিন্ন দপ্তরের জনবল কাঠামোকে সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তুতিও চলছে।
তবে পে-ফিক্সেশনের চূড়ান্ত সময়সূচি, সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের জন্য একই তারিখে কার্যক্রম শুরু হবে কি না এবং নতুন বেতন ঠিক কোন মাসের বেতনে প্রতিফলিত হবে—এসব বিষয়ে এই নির্দিষ্ট চিঠিতে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা নেই।
এক নজরে চিঠির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| চিঠির তারিখ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| বিষয় | iBAS++ Pay Fixation Sub-system-এ জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ |
| কী চাওয়া হয়েছে | মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ জনবল তথ্য |
| সময়সীমা | ৩ কর্মদিবস |
| তথ্যের ধরন | পদ, ইংরেজি পদনাম, Substantive Grade, পদসংখ্যা, মন্তব্য |
| জমা দেওয়ার ধরন | MS Word সফট কপি ও স্বাক্ষরিত হার্ড কপি |
| মূল উদ্দেশ্য | Pay Fixation Sub-system-এর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত করা |
শেষ কথা
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এখন বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি শুরু হয়েছে—বেতন নির্ধারণ বা Pay Fixation।
২৪ সেপ্টেম্বরের এই সরকারি চিঠি দেখাচ্ছে, iBAS++ Pay Fixation Sub-system-কে কার্যকর করার জন্য শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নয়, মাঠপর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর জনবল কাঠামোর তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তিন কর্মদিবসের মধ্যে তথ্য চাওয়া এবং তথ্যের সঙ্গে Substantive Grade ও পদসংখ্যা যুক্ত করার নির্দেশ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সঠিক তথ্য ছাড়া স্বয়ংক্রিয় ও অনলাইনভিত্তিক বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম নির্ভুলভাবে পরিচালনা করা কঠিন।
সুতরাং, এই চিঠিকে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা নয়, বরং পে-ফিক্সেশনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে দেখা যায়।
এখন সরকারি কর্মচারীদের নজর থাকবে—iBAS++ Pay Fixation Sub-system কবে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়, নিজ নিজ দপ্তরে তথ্য যাচাই কখন শেষ হয় এবং এরপর ব্যক্তিগতভাবে নতুন বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম কবে শুরু হয়।



