আয়কর । ভ্যাট । আবগারি শুল্ক

জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল, ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সুযোগ

জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন eVAT সিস্টেমে দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট করদাতারা আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন eVAT সিস্টেমে দাখিল করতে পারবেন।

এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব শেখ মো. মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আদেশটি জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে।

কেন সময় বাড়ানো হলো

এনবিআরের আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ ভ্যাট রিটার্ন সংক্রান্ত সংশোধিত বিধান অনুযায়ী প্রতি তিন কর মেয়াদ সমাপ্তির পর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ থাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন eVAT সিস্টেমে দাখিল করেনি।

অর্থাৎ, সংশোধিত ব্যবস্থার কারণে রিটার্ন দাখিলের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসায় অনেক প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট মাসের রিটার্ন নির্ধারিত সময়ে eVAT সিস্টেমে জমা দিতে পারেনি। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এনবিআর সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে চলতি ২০২৬ সালে বিভিন্ন কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়ও এনবিআর বাড়িয়েছে। এনবিআরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রেও সময় বৃদ্ধির পৃথক আদেশ জারি হয়েছিল।

যেসব প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে রিটার্ন দাখিল করেছে

এনবিআরের নতুন আদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্ন ইতোমধ্যে eVAT সিস্টেমে দাখিল করেছে, তাদের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪-এর উপ-ধারা (৩)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ওই রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

এর ফলে জুলাই ও আগস্ট কর মেয়াদের অনলাইন রিটার্ন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে অতিরিক্ত সময় তৈরি হলো।

সেপ্টেম্বর কর মেয়াদের রিটার্নও দাখিল করতে হবে

শুধু জুলাই ও আগস্টের রিটার্ন নয়, এনবিআরের আদেশে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্ন নিয়ে বিশেষ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্ন অবশ্যই eVAT সিস্টেমে দাখিল করতে হবে।

অর্থাৎ, সময় বৃদ্ধির সুযোগকে জুলাই-আগস্টের রিটার্নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হিসেবে দেখলেও সেপ্টেম্বর কর মেয়াদের রিটার্নও সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী eVAT ব্যবস্থায় দাখিল করার বাধ্যবাধকতা থাকছে।

ব্যবসায়ীদের জন্য কী অর্থ দাঁড়াচ্ছে

এনবিআরের এই সিদ্ধান্তের ফলে জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্ন এখনই দাখিল করতে না পারা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলো।

বিশেষ করে নতুন সংশোধিত রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান সময়সূচি নিয়ে বিভ্রান্তিতে ছিল, তাদের জন্য আদেশটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সময় বৃদ্ধি পাওয়াকে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নিজস্ব হিসাব, বিক্রয়, ক্রয়, ভ্যাট-সংক্রান্ত নথি এবং প্রযোজ্য করের তথ্য যাচাই করে eVAT সিস্টেমে রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করতে হবে।

সংশোধিত রিটার্ন ব্যবস্থার প্রেক্ষাপট

২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সূচি নিয়ে পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি তিনটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রিটার্ন দাখিলের পরিবর্তে প্রতিটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রিটার্ন দাখিলের বিধান আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে অনলাইনভিত্তিক ভ্যাট রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত কমপ্লায়েন্সের গুরুত্ব আরও বাড়ছে। এনবিআরও eVAT ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে সিস্টেমসংক্রান্ত সমস্যা বা বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়িয়ে আসছে। এনবিআরের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালে eVAT সিস্টেম সংক্রান্ত বিভিন্ন নোটিশ ও রিটার্ন দাখিলের সময় বৃদ্ধির তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

সময়সীমা এক নজরে

বিষয়সিদ্ধান্ত
কর মেয়াদজুলাই ও আগস্ট ২০২৬
রিটার্নের ধরনঅনলাইন ভ্যাট রিটার্ন
দাখিলের মাধ্যমeVAT System
বর্ধিত সময়সীমা১৫ অক্টোবর ২০২৬
সেপ্টেম্বর ২০২৬ কর মেয়াদরিটার্ন eVAT সিস্টেমে দাখিল করতে হবে
আদেশ জারি১ অক্টোবর ২০২৬
কর্তৃপক্ষজাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)

শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করার পরামর্শ

১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় থাকলেও শেষ মুহূর্তে রিটার্ন দাখিলের জন্য অপেক্ষা না করাই বাস্তবসম্মত। কারণ eVAT সিস্টেমে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারী প্রবেশ করলে কারিগরি জটিলতা তৈরি হতে পারে। এনবিআরের ওয়েবসাইটেও ২০২৬ সালে eVAT সিস্টেম সংক্রান্ত সার্ভিস ডাউন নোটিশ প্রকাশিত হয়েছে।

তাই সংশ্লিষ্ট করদাতাদের জুলাই ও আগস্ট কর মেয়াদের হিসাব-সংক্রান্ত তথ্য প্রস্তুত করে দ্রুত অনলাইন রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করা এবং সেপ্টেম্বর কর মেয়াদের রিটার্নের জন্যও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সারকথা: এনবিআরের ১ অক্টোবর ২০২৬-এর আদেশে জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন eVAT সিস্টেমে দাখিলের সময়সীমা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্ন eVAT সিস্টেমে দাখিলের বিষয়টি আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখন প্রধান করণীয় হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করা এবং নতুন রিটার্ন ব্যবস্থার সঙ্গে নিয়মিতভাবে সমন্বয় করা।

সোর্স

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *