আইবাস++ । পে ফিক্সেশন । ই-ফাইলিং

আইবাস++-এ পে-ফিক্সেশন: ৭ ধাপে সম্পন্ন হবে পুরো কাজ, স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আসবে অধিকাংশ তথ্য

নতুন জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণের (Pay Fixation) প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আইবাস++ (iBAS++)-এ কীভাবে পে-ফিক্সেশন করতে হবে, কোন তথ্য নিজে দিতে হবে এবং কোন তথ্য সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসবে—এসব বিষয় নিয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় অনেকে বিষয়টিকে জটিল মনে করছেন।

তবে প্রদর্শিত iBAS++ পে-ফিক্সেশন ইন্টারফেস এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পে-ফিক্সেশনের মূল কাজটি ধাপে ধাপে সাজানো এবং অধিকাংশ প্রয়োজনীয় তথ্য সিস্টেম থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসার কথা। ফলে কর্মচারীকে নতুন করে বিপুল পরিমাণ তথ্য টাইপ বা এন্ট্রি করতে হবে না।

৭টি ধাপে সম্পন্ন হবে পে-ফিক্সেশন

iBAS++-এর পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়ায় কর্মচারীর তথ্য কয়েকটি পৃথক ট্যাব বা ধাপে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি কর্মচারীর পে-ফিক্সেশন আলাদাভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

প্রক্রিয়াটিতে মোট ৭টি প্রধান ট্যাব/ধাপ রয়েছে। প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় তথ্য দেখে Save & Continue করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।

অর্থাৎ, একটি ধাপ সম্পন্ন করে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য আলাদা করে জটিল কোনো হিসাব করার প্রয়োজন হবে না। সিস্টেমে প্রদর্শিত তথ্য যাচাই করাই হবে মূল কাজ।

অধিকাংশ তথ্য আসবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে

পে-ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কর্মচারীর অনেক তথ্য আগে থেকেই iBAS++/EFT-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডারে সংরক্ষিত থাকার কারণে সেগুলোর বড় অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হবে।

ফলে কর্মচারীকে আগের চাকরির তথ্য, বেতন, গ্রেড, ইনক্রিমেন্টসহ প্রতিটি বিষয় নতুন করে টাইপ করার প্রয়োজন হবে না—যেসব তথ্য সিস্টেমে সংরক্ষিত রয়েছে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখানোর ব্যবস্থা থাকবে।

এতে একদিকে সময় কমবে, অন্যদিকে ম্যানুয়াল ডাটা এন্ট্রির কারণে ভুল হওয়ার ঝুঁকিও কমবে।

স্বয়ংক্রিয় তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। iBAS++-এ যে তথ্যগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসবে, সেগুলো সাধারণভাবে কর্মচারী নিজে পরিবর্তন করতে পারবেন না।

যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত কোনো তথ্যে ভুল থাকে, তাহলে সেটি নিজের ইচ্ছামতো পরিবর্তন না করে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ/অ্যাকাউন্টস অফিসের মাধ্যমে সংশোধন করতে হবে।

অন্যদিকে, কর্মচারীর নিজের পক্ষ থেকে যে তথ্যগুলো এন্ট্রি বা নির্বাচন করার সুযোগ থাকবে, সেগুলো Final Submit করার আগে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করা যাবে।

৬ নম্বর ধাপেই দেখা যাবে ২০২৬ সালের পে-ফিক্সেশন

পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ৬ষ্ঠ ট্যাবকে।

প্রদর্শিত তথ্য অনুযায়ী, ৬ষ্ঠ ধাপে এসে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পূর্ণাঙ্গ পে-ফিক্সেশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হবে।

অর্থাৎ কর্মচারীর পূর্ববর্তী বেতন, ইনক্রিমেন্ট, গ্রেড ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাব সিস্টেমে তৈরি হয়ে সামনে আসবে।

ছবিতে প্রদর্শিত উদাহরণেও পুরোনো বেতন এবং নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের বিভিন্ন ধাপ ও হিসাব দেখা যাচ্ছে। এতে বোঝা যায়, পে-ফিক্সেশনের মূল গাণিতিক হিসাবটি সিস্টেমের মাধ্যমেই সম্পন্ন করার কাঠামো রাখা হয়েছে।

৭ম ট্যাবে মিলবে চূড়ান্ত ফিক্সেশনের তথ্য

৬ষ্ঠ ধাপে পে-ফিক্সেশনের হিসাব তৈরি হওয়ার পর ৭ম ট্যাবে সম্পূর্ণ ফিক্সেশন-সংক্রান্ত তথ্য দেখা যাবে।

এই পর্যায়ে কর্মচারীর উচিত প্রদর্শিত তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা। বিশেষ করে—

  • নতুন গ্রেড ঠিক আছে কি না;
  • নির্ধারিত মূল বেতন সঠিক কি না;
  • ইনক্রিমেন্টের তথ্য ঠিক আছে কি না;
  • পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড থাকলে তা সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে কি না;
  • অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য ঠিকভাবে এসেছে কি না—

এসব বিষয় যাচাই করে তারপর Final Submit করা নিরাপদ।

Final Submit-এর আগে সতর্কতা জরুরি

পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি হলো Final Submit।

Final Submit করার আগে কর্মচারী নিজের দেওয়া বা এন্ট্রি করা তথ্যগুলো পুনরায় যাচাই করতে পারবেন এবং প্রয়োজন হলে সংশোধন করতে পারবেন।

কিন্তু একবার Final Submit হয়ে গেলে কর্মচারীর নিজের পক্ষ থেকে আর তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।

তাই Submit বাটনে ক্লিক করার আগে পুরো ফিক্সেশনটি ভালোভাবে যাচাই করার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

পেনশন সংক্রান্ত তথ্যও দিতে হবে

পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়ার শেষ অংশে পেনশন-সংক্রান্ত একটি ট্যাব থাকার কথা রয়েছে।

সেখানে কর্মচারীর কর্মজীবনের তথ্য ধারাবাহিকভাবে দিতে হবে। অর্থাৎ প্রথম কর্মস্থল থেকে শুরু করে বর্তমান কর্মস্থল পর্যন্ত চাকরির ইতিহাস/কর্মস্থলের প্রয়োজনীয় তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এ কারণে যাদের কর্মজীবনে একাধিক দপ্তর, অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় বা কর্মস্থল পরিবর্তন হয়েছে, তাদের আগের কর্মস্থলগুলোর তথ্য আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা সুবিধাজনক হবে।

Report অপশনে পাওয়া যাবে ফিক্সেশন রিপোর্ট

সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ ও Submit করার পর Report বাটনের মাধ্যমে পে-ফিক্সেশন রিপোর্ট দেখা এবং প্রিন্ট করা যাবে।

অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর কর্মচারী তার সম্পন্ন করা পে-ফিক্সেশনের একটি রিপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন।

পরবর্তী পর্যায়ে অ্যাকাউন্টস অফিসের ভেরিফিকেশন নম্বরও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থায় পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।

কর্মচারীদের জন্য কী প্রস্তুতি প্রয়োজন?

যেহেতু অধিকাংশ তথ্য সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসার কথা, তাই কর্মচারীদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে তথ্য যাচাইয়ের ওপর।

পে-ফিক্সেশনের আগে হাতে রাখা যেতে পারে—

১. বর্তমান ও পূর্ববর্তী মূল বেতনের তথ্য
২. জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয় তথ্য
৩. চাকরিতে যোগদানের তারিখ
৪. পদ ও গ্রেডের তথ্য
৫. ইনক্রিমেন্টের তথ্য
৬. পদোন্নতি/উচ্চতর গ্রেডের তথ্য
৭. পূর্ববর্তী ও বর্তমান কর্মস্থলের তথ্য
৮. চাকরির ধারাবাহিকতার প্রয়োজনীয় নথি

এগুলো হাতে থাকলে সিস্টেমে প্রদর্শিত তথ্যের সঙ্গে সহজেই মিলিয়ে দেখা সম্ভব হবে।

পে-ফিক্সেশনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি বিষয়

পুরো প্রক্রিয়াটি বিশ্লেষণ করলে কর্মচারীদের জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

প্রথমত, প্রত্যেক কর্মচারীর পে-ফিক্সেশন পৃথকভাবে করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, প্রতিটি ট্যাব খুলে তথ্য যাচাই করে Save & Continue করতে হবে।

তৃতীয়ত, সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসা তথ্য নিজের পক্ষ থেকে পরিবর্তনের চেষ্টা করা যাবে না।

চতুর্থত, Final Submit-এর আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।

পঞ্চমত, Final Submit করার পর নিজের পক্ষ থেকে সংশোধনের সুযোগ থাকবে না—তাই Submit করার আগে সর্বশেষবারের মতো পুরো ফিক্সেশন যাচাই করা জরুরি।

আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন শুধু সতর্কতা

iBAS++-এ পে-ফিক্সেশনকে বাইরে থেকে বড় ও জটিল প্রক্রিয়া মনে হলেও প্রদর্শিত কাঠামো অনুযায়ী এর বড় অংশই সিস্টেম-নির্ভর ও স্বয়ংক্রিয়।

কর্মচারীর মূল দায়িত্ব হবে সিস্টেমে প্রদর্শিত তথ্য যাচাই করা, প্রয়োজনীয় জায়গায় তথ্য দেওয়া, প্রতিটি ধাপে Save & Continue করা এবং সর্বশেষে Final Submit করার আগে পুরো হিসাব পরীক্ষা করা।

বিশেষ করে ৬ষ্ঠ ধাপে নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী ফিক্সেশন হিসাব এবং ৭ম ধাপে পূর্ণাঙ্গ ফিক্সেশন তথ্য প্রদর্শিত হওয়ায় কর্মচারীর জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজ হওয়ার কথা।

সুতরাং iBAS++-এ পে-ফিক্সেশন নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিটি ধাপ মনোযোগ দিয়ে সম্পন্ন করা এবং Final Submit-এর আগে তথ্যগুলো ভালোভাবে যাচাই করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

৭ ধাপে সম্পন্ন হবে পুরো কাজ, স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আসবে অধিকাংশ তথ্য
৭ ধাপে সম্পন্ন হবে পুরো কাজ, স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আসবে অধিকাংশ তথ্য

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *