পে-ফিক্সেশনে ট্যাব-৪ ও ৫ পূরণ বাধ্যতামূলক নয়, সরাসরি পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনলাইনে পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর কোন ট্যাবে কী তথ্য দিতে হবে—এ নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ট্যাব-৪ (উচ্চতর স্কেল/গ্রেড সংক্রান্ত তথ্য) এবং ট্যাব-৫ (পূর্ববর্তী জাতীয় বেতনস্কেলের তথ্য) পূরণ করা বাধ্যতামূলক কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
iBAS++-এর পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থার প্রদর্শিত নির্দেশনা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ট্যাব-৪ ও ট্যাব-৫-এ প্রযোজ্য তথ্য না থাকলে এগুলো পূরণ না করেও পরবর্তী ট্যাবে যাওয়া যাবে। অর্থাৎ প্রত্যেক সরকারি চাকরিজীবীকে বাধ্যতামূলকভাবে এই দুই ট্যাবে তথ্য এন্ট্রি করতে হবে—এমন নয়।
এদিকে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম iBAS++-এর Pay Fixation Sub-system-এর মাধ্যমে চালু করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে ধাপে ধাপে এ কার্যক্রম চালু হচ্ছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
ট্যাব-৪-এ কী তথ্য থাকে?
পে-ফিক্সেশন ফরমে ট্যাব-৪ মূলত উচ্চতর স্কেল/গ্রেড সংক্রান্ত তথ্যের জন্য রাখা হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি জীবনে উচ্চতর স্কেল, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা এ ধরনের সুবিধা পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট তথ্য এখানে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে—
- উচ্চতর গ্রেড পাওয়া;
- টাইম স্কেল পাওয়া;
- সিলেকশন গ্রেড পাওয়া;
- সংশ্লিষ্ট কার্যকর তারিখ;
- পদ/পদবি;
- গ্রেড বা স্কেলসংক্রান্ত তথ্য
প্রযোজ্য হলে সেগুলো সঠিকভাবে দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
তবে এ ধরনের কোনো তথ্য প্রযোজ্য না থাকলে ট্যাব-৪ পূরণ করা আবশ্যিক নয়। প্রদর্শিত নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে, প্রযোজ্য তথ্য থাকলে তা দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে; তথ্য না থাকলে পরবর্তী ট্যাবে প্রবেশ করা যাবে।
ট্যাব-৫ কেন রয়েছে?
ট্যাব-৫-এ পূর্ববর্তী জাতীয় বেতনস্কেলের তথ্য সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। অর্থাৎ আগের বেতন কাঠামো অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পদবি, কার্যকর তারিখ, গ্রেড ও স্কেল ইত্যাদি তথ্যের প্রয়োজন হলে সেখানে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
কিন্তু এখানেও একই বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—প্রযোজ্য তথ্য না থাকলে শুধু পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করার জন্য ট্যাব-৫-এ অপ্রাসঙ্গিক বা অনুমানভিত্তিক তথ্য বসানো উচিত নয়।
ভুল তথ্য দিয়ে ট্যাব পূরণ করার চেয়ে প্রযোজ্য তথ্য না থাকলে পরবর্তী ধাপে যাওয়া নিরাপদ। কারণ পে-ফিক্সেশনে ভুল তথ্য দিলে পরবর্তীতে নির্ধারিত বেতন, বকেয়া বা সংশ্লিষ্ট রেকর্ড যাচাইয়ের সময় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তাহলে কি সবাই ট্যাব-৪ ও ৫ বাদ দেবেন?
না। বিষয়টি ব্যক্তিভেদে প্রযোজ্যতার ওপর নির্ভর করবে।
যাদের চাকরি জীবনে উচ্চতর স্কেল, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড, উচ্চতর গ্রেড বা পূর্ববর্তী বেতনস্কেলসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তথ্য যথাযথভাবে দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
অন্যদিকে যাদের ক্ষেত্রে এসব তথ্য প্রযোজ্য নয়, তারা ট্যাব-৪ ও ৫-এ অপ্রয়োজনীয় তথ্য না দিয়ে পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন।
অর্থাৎ বিষয়টি সহজভাবে বলা যায়—
তথ্য প্রযোজ্য হলে দিন, প্রযোজ্য না হলে জোর করে তথ্য পূরণ করার প্রয়োজন নেই।
পে-ফিকেশনে কোন তথ্যগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
পে-ফিকেশন করার আগে সরকারি চাকরিজীবীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক নির্দেশনা ও সংবাদ প্রতিবেদনে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন প্রস্তুত রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি আগের পে-ফিকেশন, পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেডের তথ্য প্রযোজ্য হলে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ ও নথিও প্রয়োজন হতে পারে। BSS
তাই শুধু ট্যাব-৪ ও ৫ নিয়েই চিন্তা না করে পুরো চাকরি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বেতন-সংক্রান্ত তথ্য হাতে রাখা উচিত।
ভুল তথ্য দিলে কী হতে পারে?
পে-ফিকেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তথ্যের সঠিকতা। নাম, এনআইডি, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড, যোগদানের তারিখ কিংবা ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতনে ভুল থাকলে পরবর্তী যাচাইয়ের সময় সমস্যা হতে পারে।
বিশেষ করে পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেডের তথ্য প্রযোজ্য হওয়া সত্ত্বেও তা বাদ পড়লে বেতন নির্ধারণের হিসাব প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে প্রযোজ্য তথ্য থাকলে সেটি সংশ্লিষ্ট নথি দেখে সঠিকভাবে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। Bangla Edition
ট্যাব-৪ ও ৫ নিয়ে সহজ নির্দেশনা
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিষয়টি নিচের মতো করে বোঝা যায়—
| বিষয় | করণীয় |
|---|---|
| ট্যাব-৪ | উচ্চতর স্কেল/গ্রেড বা সংশ্লিষ্ট তথ্য থাকলে প্রযোজ্য তথ্য দিন |
| ট্যাব-৪-এ তথ্য নেই | অপ্রাসঙ্গিক তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই |
| ট্যাব-৫ | পূর্ববর্তী জাতীয় বেতনস্কেলের প্রযোজ্য তথ্য থাকলে দিন |
| ট্যাব-৫-এ তথ্য নেই | জোর করে তথ্য পূরণ করার প্রয়োজন নেই |
| তথ্যের ব্যাপারে নিশ্চিত নন | চাকরির নথি/অফিস আদেশ দেখে নিশ্চিত হওয়া ভালো |
| ভুল তথ্য | অনুমান করে তথ্য দেওয়া উচিত নয় |
পে-ফিক্সেশন শেষে কী হবে?
অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে পে-ফিকেশন সম্পন্ন করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হবে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইনে দেওয়া তথ্য চাকরির নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হতে পারে এবং যাচাই শেষে পে-ফিকেশন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। Bangla Edition
এরপর নতুন নির্ধারিত মূল বেতনের ভিত্তিতে পরবর্তী বেতন বিল এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বকেয়া বা এরিয়ার হিসাব করা হবে। বকেয়ার পরিমাণ সবার জন্য একই হবে না; সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পুরোনো মূল বেতন, নতুন নির্ধারিত মূল বেতন, গ্রেড এবং কার্যকর হওয়ার সময়ের ওপর তা নির্ভর করবে। BSS
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ট্যাব-৪ ও ৫ খালি রাখা যাবে—এর অর্থ এই নয় যে প্রযোজ্য তথ্য থাকলেও তা গোপন বা বাদ দিতে হবে।
কোনো কর্মচারীর উচ্চতর গ্রেড, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড কিংবা পূর্ববর্তী বেতনস্কেলের এমন তথ্য থাকলে যা নতুন বেতন নির্ধারণে প্রয়োজনীয়, সেক্ষেত্রে তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা উচিত।
অন্যদিকে তথ্যটি যদি প্রযোজ্যই না হয়, তাহলে শুধু ট্যাব পূরণ করার জন্য কাল্পনিক বা অনুমাননির্ভর তথ্য বসানো উচিত নয়।
শেষ কথা
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী iBAS++ পে-ফিকেশন কার্যক্রম নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন থাকলেও ট্যাব-৪ ও ৫ নিয়ে মূল বিষয়টি হলো প্রযোজ্যতা। উচ্চতর স্কেল/গ্রেড বা পূর্ববর্তী বেতনস্কেলসংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট তথ্য দিতে হবে। কিন্তু এ ধরনের তথ্য না থাকলে ট্যাব-৪ ও ট্যাব-৫ পূরণ না করেও পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে—প্রদর্শিত পে-ফিকেশন নির্দেশনা থেকে এমনটাই বোঝা যাচ্ছে।
তাই পে-ফিকেশন করার সময় ভুল তথ্য দেওয়ার চেয়ে প্রযোজ্য তথ্য যাচাই করে সঠিকভাবে দেওয়া এবং অপ্রযোজ্য ঘরে অপ্রয়োজনীয় তথ্য না বসানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।




