পে ফিক্সেশন ২০২৬: ১৮তম গ্রেডে ১৯,৩২০ টাকা থেকে ১ জুলাই মূল বেতন ২৭,৬৬০ টাকা, পূর্ণ বাস্তবায়নে ৩৪,৩০০
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর পে ফিক্সেশন নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হিসাবের বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন স্কেলে মূল বেতন কীভাবে নির্ধারণ হবে, ১ জুলাই ২০২৬-এর ৫০ শতাংশ বাস্তবায়নের সঙ্গে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট কীভাবে যুক্ত হবে এবং পরবর্তী ২৫ শতাংশ করে বেতন কীভাবে বাড়বে—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
প্রদত্ত পে-ফিক্সেশন শিটের ধাপ অনুসরণ করে ১৮তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন ১৯,৩২০ টাকা ধরে হিসাব করলে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে কার্যকর মূল বেতন দাঁড়ায় ২৭,৬৬০ টাকা। এরপর আরও ২৫ শতাংশ এবং শেষ ২৫ শতাংশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে মূল বেতন পর্যায়ক্রমে ৩০,৯৮০ টাকা এবং ৩৪,৩০০ টাকা হবে।
৩০ জুন ২০২৬-এ মূল বেতন ১৯,৩২০ টাকা
হিসাবের শুরুতে ধরা হয়েছে, ১৮তম গ্রেডের কর্মচারীর ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে মূল বেতন ১৯,৩২০ টাকা।
প্রদত্ত শিটের পদ্ধতিতে প্রথমে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন বাদ দিয়ে কর্মচারীর অর্জিত বেতন বা পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়।
পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ধরা হয়েছে ৮,৮০০ টাকা।
সুতরাং অর্জিত পার্থক্য—
১৯,৩২০ − ৮,৮০০ = ১০,৫২০ টাকা।
অর্থাৎ নতুন স্কেলে ফিক্সেশনের সময় বিবেচ্য পার্থক্য হচ্ছে ১০,৫২০ টাকা।
নতুন স্কেলে প্রাথমিক ফিক্সেশন কত হবে?
১৮তম গ্রেডের নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ধরা হয়েছে ২১,০০০ টাকা।
এর সঙ্গে অর্জিত পার্থক্য ১০,৫২০ টাকা যোগ করলে—
২১,০০০ + ১০,৫২০ = ৩১,৫২০ টাকা।
অর্থাৎ প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী নতুন স্কেলে বেতন দাঁড়ায় ৩১,৫২০ টাকা।
তবে নতুন স্কেলের নির্ধারিত বেতন ধাপ অনুযায়ী ৩১,৫২০ টাকা একটি নির্ধারিত ধাপ না হওয়ায় পরবর্তী প্রযোজ্য উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ করা হবে। প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী সেই ধাপ ৩২,৬০০ টাকা।
ফলে—
পে-ফিক্সেশনের পর নির্ধারিত মূল বেতন = ৩২,৬০০ টাকা
১ জুলাইয়ের ইনক্রিমেন্ট যোগ হবে কীভাবে?
পে-ফিক্সেশনের পর ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রাপ্য বার্ষিক ইনক্রিমেন্টও হিসাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
৩২,৬০০ টাকার পরবর্তী ধাপ ধরা হয়েছে ৩৪,৩০০ টাকা।
সুতরাং বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট—
৩৪,৩০০ − ৩২,৬০০ = ১,৭০০ টাকা।
অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রাপ্য পূর্ণ ইনক্রিমেন্ট ১,৭০০ টাকা।
প্রদত্ত শিটের পদ্ধতি অনুযায়ী এই পুরো ১,৭০০ টাকা প্রথম ৫০ শতাংশ বাস্তবায়নের হিসাবের সঙ্গে যোগ করা হবে।
৫০ শতাংশ বাস্তবায়নে মূল বেতন কত হবে?
এখন ৩২,৬০০ টাকা নতুন স্কেলে ফিক্সড বেতন এবং ১৯,৩২০ টাকা পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্য বের করতে হবে।
৩২,৬০০ − ১৯,৩২০ = ১৩,২৮০ টাকা।
অর্থাৎ মোট বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ ১৩,২৮০ টাকা।
এর ৫০ শতাংশ—
১৩,২৮০ × ৫০% = ৬,৬৪০ টাকা।
তাই প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বাস্তবায়নের পর মূল বেতন—
১৯,৩২০ + ৬,৬৪০ = ২৫,৯৬০ টাকা।
কিন্তু ১ জুলাইয়ের পূর্ণ ইনক্রিমেন্ট ১,৭০০ টাকা আলাদাভাবে যোগ হবে।
সুতরাং—
২৫,৯৬০ + ১,৭০০ = ২৭,৬৬০ টাকা।
১ জুলাই ২০২৬-এর কার্যকর মূল বেতন
২৭,৬৬০ টাকা
অর্থাৎ ১৯,৩২০ টাকা থেকে প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়বে ৮,৩৪০ টাকা।
এরপর আরও ২৫ শতাংশ বাস্তবায়ন
মোট বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ১৩,২৮০ টাকা।
এর ২৫ শতাংশ—
১৩,২৮০ × ২৫% = ৩,৩২০ টাকা।
প্রথম ধাপের ২৭,৬৬০ টাকার সঙ্গে এই ৩,৩২০ টাকা যোগ করলে—
২৭,৬৬০ + ৩,৩২০ = ৩০,৯৮০ টাকা।
দ্বিতীয় ধাপে মূল বেতন
৩০,৯৮০ টাকা।
শেষ ২৫ শতাংশ বাস্তবায়নে মূল বেতন
আবার মোট বেতন বৃদ্ধির ২৫ শতাংশ—
১৩,২৮০ × ২৫% = ৩,৩২০ টাকা।
দ্বিতীয় ধাপের ৩০,৯৮০ টাকার সঙ্গে যোগ করলে—
৩০,৯৮০ + ৩,৩২০ = ৩৪,৩০০ টাকা।
পূর্ণ বাস্তবায়নের পর মূল বেতন
৩৪,৩০০ টাকা
এক নজরে পুরো পে ফিক্সেশন
| বিষয় | হিসাব | টাকা |
|---|---|---|
| ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন | — | ১৯,৩২০ |
| পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন | — | ৮,৮০০ |
| অর্জিত পার্থক্য | ১৯,৩২০ − ৮,৮০০ | ১০,৫২০ |
| নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন | — | ২১,০০০ |
| প্রাথমিক ফিক্সেশন | ২১,০০০ + ১০,৫২০ | ৩১,৫২০ |
| পরবর্তী প্রযোজ্য ধাপ | — | ৩২,৬০০ |
| ১ জুলাইয়ের ইনক্রিমেন্ট | ৩৪,৩০০ − ৩২,৬০০ | ১,৭০০ |
| মোট বেতন বৃদ্ধি | ৩২,৬০০ − ১৯,৩২০ | ১৩,২৮০ |
| মোট বৃদ্ধির ৫০% | ১৩,২৮০ × ৫০% | ৬,৬৪০ |
| ৫০% বাস্তবায়নের পর | ১৯,৩২০ + ৬,৬৪০ | ২৫,৯৬০ |
| পূর্ণ ইনক্রিমেন্টসহ | ২৫,৯৬০ + ১,৭০০ | ২৭,৬৬০ |
| আরও ২৫% | +৩,৩২০ | ৩০,৯৮০ |
| শেষ ২৫% | +৩,৩২০ | ৩৪,৩০০ |
তিন ধাপে মূল বেতনের পরিবর্তন
৩০ জুন ২০২৬:
➡️ ১৯,৩২০ টাকা
১ জুলাই ২০২৬ — ৫০% বাস্তবায়ন + পুরো ইনক্রিমেন্ট:
➡️ ২৭,৬৬০ টাকা
পরবর্তী ধাপে আরও ২৫%:
➡️ ৩০,৯৮০ টাকা
শেষ ২৫% বাস্তবায়ন:
➡️ ৩৪,৩০০ টাকা
অর্থাৎ প্রদত্ত শিটের পদ্ধতি অনুসরণ করলে ১৮তম গ্রেডে ১৯,৩২০ টাকা মূল বেতন থাকা একজন কর্মচারীর ১ জুলাই ২০২৬-এর কার্যকর মূল বেতন হবে ২৭,৬৬০ টাকা। পরবর্তী দুই ধাপে ২৫ শতাংশ করে বেতন বৃদ্ধি যোগ হয়ে পূর্ণ বাস্তবায়নের পর মূল বেতন দাঁড়াবে ৩৪,৩০০ টাকা।
কেন এই হিসাবটি গুরুত্বপূর্ণ?
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৫০ শতাংশ বাস্তবায়নকে সরাসরি বর্তমান বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি হিসেবে গণনা করা হয়নি। প্রথমে নতুন স্কেলে পে-ফিক্সেশনের মাধ্যমে ৩২,৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর পুরোনো ১৯,৩২০ টাকা থেকে নতুন ফিক্সড বেতনের পার্থক্য ১৩,২৮০ টাকা বের করে তার ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ ৬,৬৪০ টাকা হিসাব করা হয়েছে। এরপর ১ জুলাইয়ের পুরো ১,৭০০ টাকা ইনক্রিমেন্ট যোগ করে প্রথম ধাপের বেতন ২৭,৬৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে একই মোট বেতন বৃদ্ধির অবশিষ্ট ৫০ শতাংশকে দুই ভাগে—২৫ শতাংশ + ২৫ শতাংশ—যোগ করলে মূল বেতন যথাক্রমে ৩০,৯৮০ টাকা এবং ৩৪,৩০০ টাকা হয়।




