আইবাস++ । পে ফিক্সেশন । ই-ফাইলিং

ঘরে বসেই পেনশন ভেরিফিকেশন: সহজ নিয়ম ও কিছু জরুরি সতর্কতা

সরকারি পেনশনভোগীদের পেনশন ও ভাতাদি সচল রাখতে নিয়মিত ‘লাইফ ভেরিফিকেশন’ বা জীবিত থাকার প্রমাণ নিশ্চিত করা একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। বর্তমানে এই কাজটি ঘরে বসেই স্মার্টফোনের “Pensioner Verification App”-এর মাধ্যমে সম্পন্ন করার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। তবে এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় সফল হতে কিছু বিশেষ নিয়ম ও সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।

অ্যাপের মাধ্যমে ভেরিফিকেশন কি সম্ভব?

হ্যাঁ, পেনশনাররা চাইলে যেকোনো হিসাবরক্ষণ অফিসে না গিয়েই নিজের স্মার্টফোন ব্যবহার করে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে একটি বড় শর্ত হলো জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)-এর ছবির সাথে বর্তমান চেহারার সামঞ্জস্য থাকা।

কখন অফিসে যাওয়া জরুরি?

ডিজিটাল ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে ফেসিয়াল রিকগনিশন (Facial Recognition) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। যদি এনআইডি কার্ডের ছবির সাথে বর্তমান চেহারার মিল কম থাকে, তবে অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে লাইফ ভেরিফিকেশন সফল হয় না। এমন পরিস্থিতিতে পেনশনভোগীকে সশরীরে নিকটস্থ হিসাবরক্ষণ অফিসে উপস্থিত হতে হবে। অফিসে যাওয়ার সময় অবশ্যই মূল এনআইডি কার্ড বা ভোটার আইডি কার্ড সাথে রাখতে হবে।

অ্যাপ ব্যবহারের সঠিক নিয়ম

অ্যাপের মাধ্যমে লাইফ ভেরিফিকেশন করার সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় তাড়াহুড়ো করার কারণে। সফলভাবে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি:

  • ধীরস্থির প্রক্রিয়া: ফেস ভেরিফিকেশনের সময় মাথা ডানে-বামে ঘোরানো এবং চোখের পলক ফেলার কাজগুলো অত্যন্ত ধীরগতিতে করতে হবে।

  • পর্যাপ্ত আলো: ভেরিফিকেশন করার সময় মুখে পর্যাপ্ত আলো থাকতে হবে যাতে ক্যামেরা স্পষ্টভাবে ফেস শনাক্ত করতে পারে।

  • স্থির থাকা: ক্যামেরা সচল থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোন বা মাথা অতিরিক্ত নাড়াচাড়া করা যাবে না।

সময়সীমা ও পরিণাম

আগামী এক মাসের মধ্যে এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লাইফ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন না করলে সংশ্লিষ্ট পেনশনভোগীর পেনশন ও ভাতাদি সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যেতে পারে।

তাই বিড়ম্বনা এড়াতে দ্রুত অ্যাপের মাধ্যমে চেষ্টা করুন এবং এনআইডি কার্ডের ছবির সাথে বর্তমান চেহারার মিল না থাকলে সরাসরি অফিসে যোগাযোগ করাই শ্রেয়।


পেনশন সংক্রান্ত আরও তথ্যের জন্য আপনার ই-পিপিও (e-PPO) নম্বরটি সংগ্রহে রাখুন এবং নিয়মিত আপডেট অনুসরণ করুন।

অনলাইন থেকে কি ইপিপিও নম্বর সংগ্রহ করা যায়?

হ্যাঁ, ইপিপিও (ePPO) নম্বর অনলাইন থেকে সংগ্রহ করা বা খুঁজে বের করা সম্ভব। সাধারণত আপনি নিচের তিনটি উপায়ে এই নম্বরটি পেতে পারেন:

১. পেনশন পে-স্লিপ বা মেসেজ চেক করুন

পেনশনভোগীদের প্রতি মাসে যখন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেনশনের টাকা জমা হয়, তখন মোবাইল ফোনে একটি এসএমএস আসে। অনেক সময় সেই এসএমএস-এর ভেতরেই ১০ ডিজিটের ইপিপিও নম্বরটি উল্লেখ থাকে। এছাড়া আপনার যদি গত কয়েক মাসের পেনশনের কোনো অনলাইন পে-স্লিপ বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট থাকে, সেখানেও এটি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

২. CAFO এর ওয়েবসাইট থেকে (পেনশন পোর্টাল)

বাংলাদেশ সরকারের Office of the Chief Accounts Officer (CAFO), Pension & Fund Management-এর ওয়েবসাইট থেকে তথ্য যাচাই করা যায়।

  • প্রথমে cafopfm.gov.bd সাইটে যান।

  • সেখানে “Individual Pensioner Information” বা “Pension Payment Information” অপশনে ক্লিক করুন।

  • আপনার NID নম্বর এবং রেজিস্ট্রার্ড মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করলে আপনার পেনশনের বিস্তারিত তথ্যের সাথে ইপিপিও নম্বরটিও দেখতে পাওয়ার কথা।

৩. “Pensioner Verification App” ব্যবহার করে

আপনি যদি স্মার্টফোনে “Pensioner Verification” অ্যাপটি ইনস্টল করেন:

  • আপনার ১০ বা ১৭ ডিজিটের এনআইডি (NID) নম্বর দিয়ে প্রবেশ করুন।

  • যদি আপনার মোবাইল নম্বরটি পেনশন ডাটাবেজে (iBAS++) সঠিকভাবে নিবন্ধিত থাকে, তবে সেখানে আপনার প্রোফাইল বা ভেরিফিকেশন হিস্ট্রিতে ইপিপিও নম্বরটি প্রদর্শিত হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদি অনলাইনে কোনোভাবেই নম্বরটি খুঁজে না পান, তবে আপনার যে হিসাবরক্ষণ অফিস (Accounting Office) থেকে পেনশন ইস্যু হয়, সেখানে যোগাযোগ করলে তারা আপনার এনআইডি দেখে তাৎক্ষণিকভাবে নম্বরটি দিয়ে দেবে। ইপিপিও নম্বরটি সাধারণত ১০ ডিজিটের হয়ে থাকে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *