সরকারি যানবাহনে জ্বালানি ব্যবহারের নীতিমালা: কোন গাড়িতে কত বরাদ্দ?
সরকারি কাজে ব্যবহৃত যানবাহনের জ্বালানি সাশ্রয় এবং এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন সময়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের জ্বালানি বরাদ্দ
আপনার জিজ্ঞাসিত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়টি সাধারণত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রয়োজনীয়তা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত বাজেটের ওপর নির্ভর করে। তবে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী:
অ্যাম্বুলেন্সের ধরন: জরুরি সেবামূলক যানবাহন হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে জ্বালানির সীমা অন্যান্য সাধারণ প্রশাসনিক গাড়ির চেয়ে শিথিল থাকে।
বরাদ্দ: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের জন্য সাধারণত মাসিক একটি নির্দিষ্ট সিলিং নির্ধারণ করা থাকে, যা জেলা বা উপজেলাভেদে ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত জরুরি সেবার প্রয়োজনে সিএনজি চালিত অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে মাসিক বরাদ্দ ৩২০-৩৫০ ঘনমিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং তেল চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে এটি ২০০ লিটারের আশেপাশে থাকে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে সিভিল সার্জনের অনুমোদনক্রমে এটি বর্ধিত করার সুযোগ থাকে।
অন্যান্য সরকারি যানবাহনের জ্বালানি ব্যবহারের সীমা (প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী):
১. উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO): ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮-এর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ইউনিয়নের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ইউএনও-দের গাড়ির জ্বালানি তেলের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে:
১০টি বা তার কম ইউনিয়ন: ২১০ লিটার তেল অথবা ৩০০ ঘনমিটার সিএনজি।
১১ থেকে ১৫টি ইউনিয়ন: ২৩০ লিটার তেল অথবা ৩২৮ ঘনমিটার সিএনজি।
১৬টির বেশি ইউনিয়ন: ২৫০ লিটার তেল অথবা ৩৫৮ ঘনমিটার সিএনজি।
২. প্রশাসনিক ও সাধারণ যানবাহন: ২৭ জুলাই ২০২২-এর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশ অনুযায়ী, জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ২০% বরাদ্দ কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
অকটেন/পেট্রোল/ডিজেল: মাসিক সর্বোচ্চ ১৪০ লিটার।
সিএনজি: মাসিক সর্বোচ্চ ২১০ ঘনমিটার।
৩. প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাড়ি: ১৩ এপ্রিল ২০১০-এর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী:
জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে মাসিক সর্বোচ্চ ২০০ লিটার।
সিএনজি চালিত যানের ক্ষেত্রে মাসিক ৩০০ ঘনমিটার। (ইঞ্জিন স্টার্ট করার জন্য অতিরিক্ত ১৫ থেকে ৩০ লিটার পেট্রোল/অকটেন বরাদ্দ থাকে)।
জ্বালানি সাশ্রয়ে বিশেষ নির্দেশনা:
সরকার বর্তমানে সকল সরকারি অফিসকে তাদের নির্ধারিত জ্বালানি বাজেটের অন্তত ২০ শতাংশ সাশ্রয় করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া সিএনজি চালিত গাড়িতে রূপান্তরিত ইঞ্জিন সচল রাখার জন্য পূর্বের ন্যায় স্টার্টার তেলের বরাদ্দ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
উপসংহার: অ্যাম্বুলেন্স যেহেতু একটি জরুরি সেবামূলক যানবাহন, তাই এর সঠিক বরাদ্দের পরিমাণ জানতে আপনার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের (যেমন: সিভিল সার্জন অফিস বা সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) চলতি অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দপত্রটি যাচাই করা সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ জরুরি প্রয়োজনে জীবন রক্ষাকারী যানের ক্ষেত্রে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার এখতিয়ার কর্তৃপক্ষের রয়েছে।
তথ্যসূত্র: * জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, পরিবহন শাখা (প্রজ্ঞাপন তারিখ: ১৯/১২/২০১৮ এবং ১৩/০৪/২০১০)
অর্থ মন্ত্রণালয়, প্রশাসন ও সমন্বয় অনুবিভাগ (অফিস আদেশ তারিখ: ২৭/০৭/২০২২)
সরকারি প্রজ্ঞাপন এবং আপনার সরবরাহকৃত নথিগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রাইভেট কার এবং মাইক্রোবাসের জ্বালানি বরাদ্দ মূলত গাড়ির ধরন (তেল নাকি সিএনজি) এবং এটি কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা বা দপ্তর ব্যবহার করছেন তার ওপর নির্ভর করে।
নিচে বিস্তারিত সীমা দেওয়া হলো:
১. সাধারণ প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত গাড়ি (প্রাইভেট কার/মাইক্রোবাস)
২০২২ সালের ২৭ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা সর্বশেষ অফিস আদেশ (আপনার আপলোড করা ছবি-১) অনুযায়ী, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বরাদ্দ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে:
অকটেন/পেট্রোল/ডিজেল: প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১৪০ লিটার।
সিএনজি (গ্যাস): প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ২১০ ঘনমিটার।
নোট: এই আদেশটি মূলত প্রশাসনের সাধারণ যানবাহন এবং যেগুলোতে নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ বরাদ্দ নেই, সেগুলোর জন্য প্রযোজ্য।
২. প্রাধিকারপ্রাপ্ত (Entitled) কর্মকর্তাদের গাড়ি
২০১০ সালের ১৩ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপন (আপনার আপলোড করা ছবি-৬) অনুযায়ী, প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দের সীমা ছিল নিম্নরূপ:
তেল চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে: মাসিক ২০০ লিটার।
সিএনজি চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে: মাসিক ৩০০ ঘনমিটার।
সিএনজি চালিত গাড়িতে ইঞ্জিন স্টার্ট করার জন্য অতিরিক্ত তেল বরাদ্দ থাকে:
E.F.I/M.P.F.I ইঞ্জিন: মাসিক ৩০ লিটার পেট্রোল/অকটেন।
কার্বুরেটর ইঞ্জিন: মাসিক ১৫ লিটার পেট্রোল/অকটেন।
৩. বিশেষ বরাদ্দ (যেমন: ইউএনও বা জেলা পর্যায়ের গাড়ি)
২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন (আপনার আপলোড করা ছবি-২) অনুযায়ী, মাইক্রোবাস বা জিপ গাড়ি যা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ব্যবহার করেন, তাদের বরাদ্দ ভিন্ন:
উপজেলার ইউনিয়ন সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এটি ২১০ লিটার থেকে ২৫০ লিটার পর্যন্ত হতে পারে।
সারসংক্ষেপ টেবিল
| গাড়ির ব্যবহারকারী/ধরন | জ্বালানি তেল (মাসিক) | সিএনজি (মাসিক) |
| সাধারণ প্রশাসনিক (কার/মাইক্রো) | ১৪০ লিটার | ২১০ ঘনমিটার |
| প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা | ২০০ লিটার | ৩০০ ঘনমিটার |
| উপজেলা নির্বাহী অফিসার (গড়) | ২৩০ লিটার | ৩২৮ ঘনমিটার |
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: সরকারের সাশ্রয়ী নীতি অনুযায়ী বর্তমানে অধিকাংশ দপ্তরে মূল বরাদ্দ থেকে ২০% জ্বালানি কম ব্যবহারের কড়া নির্দেশনা রয়েছে। তাই আপনার অফিস যদি ১৪০ লিটারের সিলিংয়ে থাকে, তবে বাজেট সংকুলান সাপেক্ষে প্রকৃত ব্যবহার আরও কম হতে পারে।




