হাজার রাতের নির্ঘুম অপেক্ষা শেষে: বিসিএস ক্যাডার হওয়ার নেপথ্যে এক অদম্য সংগ্রামের গল্প
সাফল্যের প্রতিটি গল্পের পেছনে থাকে কিছু না বলা হাহাকার, একাকীত্ব আর এক দীর্ঘ লড়াই। অধিকাংশ মানুষ যখন কেবল সফলতার ঝিলিক দেখে মুগ্ধ হয়, তখন পেছনের সেই অন্ধকার গলির সংগ্রামগুলো থেকে যায় আড়ালে। সম্প্রতি বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত এ. এম. রাকিবুল হাসানের গল্পটি ঠিক তেমনই—যা হার না মানা মানসিকতা আর ধৈর্যের এক অনন্য দলিল।
দীর্ঘ ৫ বছরের নির্বাসন
সফলতার এই চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছাতে রাকিবুল হাসানকে পাড়ি দিতে হয়েছে এক দীর্ঘ কণ্টকাকীর্ণ পথ। দীর্ঘ ৫টি বছর তিনি নিজেকে জগত সংসার থেকে প্রায় গুটিয়ে নিয়েছিলেন। উৎসব, সামাজিকতা আর বন্ধুত্বের কোলাহল বিসর্জন দিয়ে তার ধ্যান-জ্ঞান ছিল কেবল একটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য। এই দীর্ঘ সময়ে কতবার তাকে শুনতে হয়েছে মানুষের তীর্যক কথা, কতবার হতাশা তাকে গ্রাস করতে চেয়েছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই।
ফার্মগেটের সেই লাইব্রেরি ও ধূলামাখা রাজপথ
রাকিবুল হাসানের সংগ্রামের একটি বড় অংশ জুড়ে আছে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকা। টানা এক বছর সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তার ঠিকানা ছিল ফার্মগেটের লাইব্রেরির সেই গলিগুলো। যে পথ দিয়ে হাজারো মানুষ হেঁটে যায়, সেই পথে লেগে আছে তার শ্রম আর ঘামের চিহ্ন। ক্লান্ত শরীর আর ক্ষুধার্ত পেটে বইয়ের পাতায় চোখ রাখা সেই দিনগুলো আজ তার কাছে কেবলই স্মৃতি, তবে তা এক চরম ত্যাগের সাক্ষী।
ব্যর্থতা ছাপিয়ে এক চূড়ান্ত প্রাপ্তি
তার এই যাত্রায় ছিল হাজার রাতের নির্ঘুম অপেক্ষা, অগণিত ব্যর্থতার গ্লানি আর অসহ্য মানসিক যন্ত্রণা। কিন্তু “সবাই সফলতা দেখে, পেছনের সংগ্রাম কেউ দেখতে চায় না”—এই ধ্রুব সত্যকে সঙ্গী করেই তিনি এগিয়ে গিয়েছেন। অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। তার হাতে এখন সেই কাঙ্ক্ষিত পরিচয়, যার জন্য তিনি নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বছর উৎসর্গ করেছেন।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বেতার, ঠাকুরগাঁওয়ে ‘সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক’ হিসেবে যোগদান করেছেন। তার এই প্রাপ্তি কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং যারা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চান, তাদের জন্য এক আলোর দিশারী।
রাকিবুল হাসানের এই গল্প আবারও প্রমাণ করল যে, ধৈর্য আর পরিশ্রমের সংমিশ্রণ ঘটলে যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। তার আগামীর পথচলা আরও সাফল্যমণ্ডিত হোক, এটাই কাম্য।


