সার্ভিস রুলস । নীতি । পদ্ধতি । বিধি

চাকরিতে অর্জিত পদোন্নতির অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না: হাইকোর্টের রায়ে চাকরিজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি বার্তা

চাকরিতে যোগদানের পর প্রচলিত চাকরিবিধি অনুযায়ী পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় চাকরিকাল, যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে পরবর্তী সময়ে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন বা পুরোনো বিধি সংশোধনের মাধ্যমে সেই অর্জিত যোগ্যতা থেকে কর্মচারীকে বঞ্চিত করা যাবে না। এমন গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) সাতজন উপসহকারী প্রকৌশলীর পদোন্নতি-সংক্রান্ত রিট মামলায় এ সিদ্ধান্ত আসে। ২০২১ সালের নতুন চাকরি প্রবিধানমালা কার্যকর হওয়ার আগে ২০১১ সালের প্রবিধান অনুযায়ী পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন আবেদনকারীরা। পরবর্তী বিধিমালার কারণে তাঁদের সেই যোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়।

রিট পিটিশন নম্বর ৭০২২/২০২১-এর পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নতুন চাকরিবিধি প্রণয়ন বা সংশোধনের ক্ষমতা থাকলেও সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে পূর্ববর্তী বিধির অধীনে ইতোমধ্যে অর্জিত অধিকার অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া যায় না। ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়টির মূল অংশ লেখেন বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিম।

মামলার পটভূমি: কেন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সাত প্রকৌশলী?

মামলার নথি অনুযায়ী, আবেদনকারীরা বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে যোগদান করেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ২০০৪ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে এবং অন্যরা পরবর্তী সময়ে চাকরিতে প্রবেশ করেন। তাঁদের চাকরি যথাযথ প্রক্রিয়ায় স্থায়ীও করা হয়।

বারির কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ২০১১ অনুযায়ী, উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে নির্ধারিত পাঁচ বছরের চাকরিকাল পূরণ করলে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে পদোন্নতির সুযোগ ছিল। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, তাঁরা নতুন প্রবিধানমালা কার্যকর হওয়ার আগেই পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় চাকরিকাল ও অন্যান্য যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন।

কিন্তু ২০২১ সালে নতুন চাকরি প্রবিধানমালা কার্যকর হওয়ার পর সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে নিয়োগের কাঠামো পরিবর্তিত হয়। নতুন বিধানের ৩২ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী, পদটির ৬৭ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে এবং ৩৩ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের ব্যবস্থা করা হয়।

ফলে আগের বিধিমালার অধীনে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনকারী কর্মচারীদের অধিকার ও সুযোগ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। তাঁদের বক্তব্য ছিল, নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগেই তাঁরা পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছেন। তাই পরবর্তী বিধি তাঁদের আগে থেকে অর্জিত যোগ্যতা বাতিল করতে পারে না।

প্রতিকার চেয়ে তাঁরা প্রথমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান। পরে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ দেওয়া হলেও প্রতিকার না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট করেন।

দুই পক্ষের বক্তব্যে কী উঠে আসে?

আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী এস আর এম লুৎফর রহমান আখন্দ যুক্তি দেন, ২০১১ সালের প্রবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণের মাধ্যমে আবেদনকারীদের পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হওয়ার অধিকার অর্জিত হয়েছিল। পরবর্তী প্রবিধানমালা দিয়ে সেই অধিকার ক্ষুণ্ণ করা আইনসম্মত নয়।

অন্যদিকে, বারির পক্ষে আইনজীবী কবির ইকবাল হোসেন যুক্তি দেন, কর্তৃপক্ষের নতুন চাকরিবিধি প্রণয়ন ও সংশোধনের ক্ষমতা রয়েছে। ২০১১ সালের প্রবিধানমালা রহিত করে ২০২১ সালের নতুন প্রবিধানমালা প্রবর্তন করা হয়েছে। এ ছাড়া অধিকতর যোগ্য প্রকৌশলী নিয়োগের উদ্দেশ্যে সিভিল প্রকৌশলীর পদে সরাসরি নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষও নতুন প্রবিধানমালা কার্যকর হওয়ার পর পুরোনো বিধির অধীনে পদোন্নতি দাবি করার সুযোগ নিয়ে আপত্তি জানায়।

উভয় পক্ষের বক্তব্য, মামলার নথি এবং পূর্ববর্তী বিভিন্ন বিচারিক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট মূলত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের নিষ্পত্তি করেন—পরবর্তী সময়ে সংশোধিত চাকরিবিধি কি আগের বিধি অনুযায়ী ইতোমধ্যে অর্জিত পদোন্নতির যোগ্যতা বাতিল করতে পারে?

হাইকোর্টের মূল পর্যবেক্ষণ কী?

আদালতের সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে রয়েছে ‘অর্জিত অধিকার’ বা vested rights এবং ‘ভূতাপেক্ষ প্রয়োগ’ বা retrospective application–এর প্রশ্ন।

সহজ ভাষায়, কোনো বিধিমালা সংশোধন করে নতুন নিয়োগপদ্ধতি বা পদোন্নতির শর্ত নির্ধারণ করা এক বিষয়। কিন্তু নতুন বিধি প্রণয়নের আগে যেসব কর্মচারী পুরোনো বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তাঁদের সেই যোগ্যতা অতীত থেকে বাতিল করে দেওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২১ সালের প্রবিধানমালা কার্যকর হওয়ার আগে যেসব আবেদনকারী ২০১১ সালের প্রবিধান অনুযায়ী পদোন্নতির নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করেছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন প্রবিধানমালা ভূতাপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা যাবে না।

আদালত আরও স্পষ্ট করেন, পুরোনো প্রবিধানমালা রহিত হওয়ার কারণে তার অধীনে ইতোমধ্যে অর্জিত পদোন্নতির যোগ্যতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায় না।

অর্থাৎ, নতুন বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা থাকলেও সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে পূর্ববর্তী বিধির অধীনে অর্জিত অধিকার অন্যায়ভাবে নষ্ট করা যাবে না। তবে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন এবং বাস্তবে পদোন্নতি পাওয়া এক বিষয় নয়—এই পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ।

এক মাসের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনার নির্দেশ

রায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা।

হাইকোর্ট রুলটি নির্দেশনাসহ নিষ্পত্তি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলেন, ২০২১ সালের প্রবিধানমালা কার্যকর হওয়ার আগে পদোন্নতির নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জনকারী আবেদনকারীদের ২০১১ সালের প্রবিধানমালার প্রাসঙ্গিক বিধান অনুযায়ী সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে আদালত কয়েকটি শর্তও উল্লেখ করেন:

  • সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে নতুন প্রবিধানমালা কার্যকর হওয়ার আগে পুরোনো বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
  • পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় চাকরিকাল, যোগ্যতা ও অন্যান্য আইনানুগ শর্ত পূরণ করতে হবে।
  • পদোন্নতির জন্য উপযুক্ত শূন্যপদ থাকতে হবে।
  • সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

এসব শর্ত সাপেক্ষে এক মাসের মধ্যে পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। রায় ও আদেশ অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতেও বলা হয়েছে।

অতএব, এই নির্দেশনা শুধু পদোন্নতির দাবি বিবেচনার সাধারণ পর্যবেক্ষণ নয়; বরং নির্দিষ্ট মামলার আবেদনকারীদের বিষয়ে আদালতের একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশ।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এই রায়ের গুরুত্ব কোথায়?

এই রায়ের তাৎপর্য শুধু বারির সাত প্রকৌশলীর পদোন্নতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চাকরিবিধি সংশোধন, পদোন্নতির যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা এবং কর্মচারীদের পূর্ববর্তী অধিকার নিয়ে ভবিষ্যতে বিরোধ দেখা দিলে রায়টির আইনি নীতি প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠানে পুরোনো বিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট চাকরিকাল পূরণের পর পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জিত হতো, কিন্তু নতুন বিধিতে চাকরিকাল, পদোন্নতির অনুপাত বা যোগ্যতার শর্ত পরিবর্তন করা হয়েছে—এমন পরিস্থিতিতে রায়টি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার বিষয় হতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, রায়টি সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশ নয়। এর মাধ্যমে সব প্রতিষ্ঠানের সব পদে পুরোনো পদোন্নতিবিধি বহাল হয়ে গেছে, এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যাবে না।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের চাকরিবিধি, সংশোধনের কার্যকর তারিখ, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর যোগ্যতা অর্জনের তারিখ, শূন্যপদের অবস্থা এবং প্রযোজ্য আইন পৃথকভাবে বিবেচনা করতে হবে।

কারা এই রায়ের নীতি থেকে উপকৃত হওয়ার দাবি তুলতে পারেন?

নিচের পরিস্থিতিগুলোতে কর্মচারীরা রায়টির আইনি নীতি পর্যালোচনা করতে পারেন:

১. পুরোনো বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির যোগ্যতা পূরণ করেছেন: নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগেই নির্ধারিত চাকরিকাল ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করা থাকলে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

২. নতুন বিধিতে পদোন্নতির সুযোগ কমেছে: আগে পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত পদসংখ্যা বা অনুপাত পরবর্তী বিধিতে কমানো হলে, পুরোনো বিধির অধীনে আগে থেকেই অর্জিত যোগ্যতা ছিল কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

৩. নতুন শর্তের কারণে আগের যোগ্যতা অকার্যকর হয়ে গেছে: সংশোধিত বিধি অতীত থেকে প্রয়োগ করে কোনো কর্মচারীকে পদোন্নতির বিবেচনা থেকে বাদ দেওয়া হলে, রায়ের নীতি প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

৪. পদোন্নতির দাবি থাকলেও শূন্যপদ বা অন্যান্য শর্ত নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে: শুধু চাকরিকাল পূরণ করলেই পদোন্নতি নিশ্চিত হয় না। শূন্যপদ, যোগ্যতা, উপযুক্ততা ও অন্যান্য আইনানুগ শর্তও গুরুত্বপূর্ণ।

এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নিজস্ব চাকরিবিধি এবং প্রযোজ্য আইনি অবস্থান যাচাই করা অপরিহার্য।

পদোন্নতি ও পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হওয়ার অধিকারের মধ্যে পার্থক্য

চাকরিজীবীদের জন্য এই পার্থক্যটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কর্মচারী পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলে সাধারণত তাঁর দাবি হলো, তাঁকে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করতে হবে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে শর্ত পূরণ করার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চপদে পদোন্নতি পেয়ে যাবেন।

বারির মামলায়ও হাইকোর্ট পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন—প্রাসঙ্গিক বিধি, শূন্যপদ এবং অন্যান্য আইনানুগ শর্ত সাপেক্ষে। তাই এ রায়ের ভিত্তিতে প্রত্যেক যোগ্য কর্মচারীর পদোন্নতি নিশ্চিত হয়ে গেছে বলে প্রচার করা সঠিক হবে না।

চাকরিবিধি সংশোধনের ক্ষমতা কি কর্তৃপক্ষের নেই?

আদালতের রায়ের অর্থ এমন নয় যে সরকার বা কোনো নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতের জন্য চাকরিবিধি সংশোধন করতে পারবে না।

প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন, জনস্বার্থ, দক্ষতা এবং প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন বা পুরোনো বিধি সংশোধনের ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের রয়েছে। তবে সংশোধিত বিধি কীভাবে কার্যকর হবে এবং তা পূর্বে অর্জিত অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন।

এই মামলায় হাইকোর্ট মূলত বলেছেন, নতুন বিধিমালার মাধ্যমে এমন কর্মচারীদের আগে থেকে অর্জিত পদোন্নতির যোগ্যতা ভূতাপেক্ষভাবে বাতিল করা যাবে না, যাঁরা সংশোধনের আগেই পুরোনো বিধির নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেছিলেন।

অর্থাৎ, ভবিষ্যতের জন্য নিয়ম পরিবর্তন করা এবং অতীতে অর্জিত অধিকার কেড়ে নেওয়া এক বিষয় নয়।

শেষ কথা

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পদোন্নতি-সংক্রান্ত এই রায় চাকরিবিধি সংশোধন ও কর্মচারীদের অর্জিত অধিকারের প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্ত। এর মূল বার্তা হলো—কর্তৃপক্ষের বিধিমালা পরিবর্তনের ক্ষমতা থাকলেও পূর্ববর্তী বিধির অধীনে ইতোমধ্যে অর্জিত অধিকার নতুন বিধি প্রয়োগ করে অন্যায়ভাবে বিলুপ্ত করা যায় না।

তবে রায়টির সরাসরি নির্দেশনা বারির মামলার আবেদনকারীদের জন্য। অন্য প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা একই নীতি প্রয়োগের দাবি তুলতে চাইলে তাঁদের নিজস্ব চাকরিবিধি, যোগ্যতা অর্জনের তারিখ, সংশোধিত বিধির কার্যকারিতা এবং প্রযোজ্য আইনের সঙ্গে রায়টির সামঞ্জস্য যাচাই করতে হবে।

সূত্র: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ৭০২২/২০২১-এর রায়; ১৯ আগস্ট ২০২৬। রায়ের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস, ঢাকা পোস্ট।

সোর্স ফাইল

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *