হজ ২০২৭: সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় নতুন হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন প্রকাশ, প্রাক-নিবন্ধন শুরু
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন-২০২৭ প্রকাশ করেছে। ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা এই গাইডলাইনে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের প্যাকেজ, নিবন্ধন, খরচ, ভিসা, যাতায়াত, আবাসন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, এজেন্সির দায়িত্ব এবং হজযাত্রীদের জন্য অনুসরণীয় নির্দেশনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৭ সালে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্য সময় ১৫ মে ২০২৭ (৯ জিলহজ ১৪৪৮ হিজরি) ধরা হয়েছে।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি হজ প্যাকেজ
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
প্যাকেজ-১
- মোট ব্যয়: ৬,১৫,২৬৩ টাকা
- মক্কা ও মদিনায় উন্নত মানের আবাসন
- কোরবানি অন্তর্ভুক্ত
- মিনা জোন-২
- সর্বোচ্চ ৪ জনের রুম সুবিধা
- মক্কা ও মদিনায় অনুমোদিত ক্যাটারিংয়ের মাধ্যমে খাবার
প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী)
- মোট ব্যয়: ৫,০৫,৪৮৮ টাকা
- তুলনামূলক কম খরচের আবাসন
- কোরবানি অন্তর্ভুক্ত
- মিনা জোন-৫
- সর্বোচ্চ ৬ জনের রুম সুবিধা
- নির্ধারিত ক্যাটারিংয়ের মাধ্যমে খাবার
গাইডলাইনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্যাকেজ-১-এ অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করে ৪ সিটের পরিবর্তে ২ সিট বা শেয়ার্ড রুম সুবিধাও গ্রহণ করা যাবে।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সাধারণ হজ প্যাকেজ
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সাধারণ হজ প্যাকেজের সর্বোচ্চ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫,১০,৪৮৮ টাকা। এজেন্সিগুলো সরকার নির্ধারিত কাঠামোর বাইরে অতিরিক্ত কোনো গোপন চার্জ আরোপ করতে পারবে না। হোটেল, পরিবহন ও অন্যান্য সেবার মান নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।
প্রাক-নিবন্ধন ও চূড়ান্ত নিবন্ধনের সময়সূচি
গাইডলাইন অনুযায়ী—
- প্রাক-নিবন্ধনের শেষ সময়: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- প্রাক-নিবন্ধনের জন্য ৩০,০০০ টাকা জমা দিতে হবে।
- চূড়ান্ত নিবন্ধনের শেষ সময়: ১০ ডিসেম্বর ২০২৬
- নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ না করলে প্রাক-নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করতে www.hajj.gov.bd পোর্টাল ব্যবহার করতে হবে।
হজযাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
গাইডলাইনে হজযাত্রীদের জন্য একাধিক বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মেডিকেল ফিটনেস সনদ সংগ্রহ।
- প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ।
- পাসপোর্টের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত থাকতে হবে।
- ভিসার জন্য নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
- সৌদি আরবে অবস্থানকালে Nusuk Card, মোয়াল্লেম কার্ড ও পরিচয়পত্র সব সময় সঙ্গে রাখতে হবে।
- হজ শেষে নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে হবে এবং সৌদি সরকারের আইন-কানুন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
এজেন্সিগুলোর জন্য কঠোর নির্দেশনা
বেসরকারি হজ এজেন্সির জন্যও কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। গাইডলাইনে বলা হয়েছে—
- অনুমোদিত কোটা পূরণে এজেন্সিগুলো পারস্পরিক সমন্বয়ে গ্রুপ গঠন করতে পারবে।
- হজযাত্রীদের বিমান টিকিট, আবাসন, খাবার, পরিবহন ও অন্যান্য সেবা নির্ধারিত সময়ে নিশ্চিত করতে হবে।
- অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা নিম্নমানের সেবা দিলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- হজযাত্রীদের তথ্য ই-হজ সিস্টেমে সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও হালনাগাদ রাখা বাধ্যতামূলক।
স্বাস্থ্য, ভিসা ও যাতায়াত ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব
গাইডলাইনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, ইমিগ্রেশন, পাসপোর্ট অধিদপ্তর, ব্যাংক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার দায়িত্ব পৃথকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
হজযাত্রীদের চিকিৎসাসেবা, টিকা, বিমানবন্দরে সহায়তা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, সৌদি আরবে পরিবহন এবং দেশে প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের জন্য সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়েছে।
উপসংহার
হজ ২০২৭ উপলক্ষে প্রকাশিত নতুন হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন আগের তুলনায় আরও বিস্তারিত ও কাঠামোবদ্ধ। এতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় খরচ, সেবার মান, নিবন্ধন প্রক্রিয়া, স্বাস্থ্যবিধি, ভিসা, বিমানযাত্রা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আশা, নতুন এই নির্দেশিকা অনুসরণ করলে হজ ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও সেবামুখী হবে।


