আইবাস++-এ ২০২৬ সালের নতুন বেতন পুনঃনির্ধারণ: ১১তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন কত হবে, দেখে নিন ধাপে ধাপে হিসাব
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণ, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং পরবর্তী ধাপে বেতন বৃদ্ধির হিসাব নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে ১১তম গ্রেডে কর্মরত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত বা আলোচ্য বেতন কাঠামো অনুযায়ী কোন তারিখে মূল বেতন কত দাঁড়াবে, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি কীভাবে যুক্ত হবে এবং পরবর্তী ধাপে বেতন পুনঃনির্ধারণের হিসাব কীভাবে করা হবে—এসব বিষয় জানতে আগ্রহী অনেকেই।
প্রাপ্ত ছবিগুলোতে ১১তম গ্রেডের কয়েকটি ভিন্ন মূল বেতন ধরে ২০২৫ সালের বেতন কাঠামো থেকে ২০২৬ সালের কথিত নতুন কাঠামোয় বেতন পুনঃনির্ধারণের নমুনা হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। এতে ৩০ জুন ২০২৬, ১ জুলাই ২০২৬, ১ জানুয়ারি ২০২৭ এবং ১ জুলাই ২০২৭ তারিখকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধাপে মূল বেতনের পরিবর্তন দেখানো হয়েছে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ছবিতে দেখানো হিসাবগুলোকে সরকারি প্রজ্ঞাপন বা আইবাস++-এর চূড়ান্ত অনুমোদিত বেতন নির্ধারণ হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। নতুন বেতনস্কেলের প্রজ্ঞাপন, কার্যকর হওয়ার বিধান এবং আইবাস++-এ প্রদর্শিত অনুমোদিত হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
১১তম গ্রেডের বেতন পুনঃনির্ধারণে কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ?
প্রাপ্ত নমুনা চার্টগুলোতে ১১তম গ্রেডের কর্মচারীদের ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন ভিন্ন ভিন্ন ধরে হিসাব দেখানো হয়েছে। ছবিগুলোতে মূল বেতনের উদাহরণ হিসেবে ২২,৪৫০ টাকা, ২২,৫৩০ টাকা, ২৩,৬৬০ টাকা, ২৬,১০০ টাকা ও ২৭,৪১০ টাকার মতো বিভিন্ন অঙ্ক দেখা যায়।
এখানে মূল বিষয় হলো, একই গ্রেডে কর্মরত হলেও প্রত্যেক কর্মচারীর নতুন বেতন এক হবে না। কারণ, পুরোনো মূল বেতন, ইনক্রিমেন্টের ইতিহাস এবং প্রযোজ্য চাকরির বিধান অনুযায়ী হিসাবের ফল ভিন্ন হতে পারে।
১. ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন বেতন কাঠামোর অধীনে বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত মূল বেতনকে ভিত্তি হিসেবে নেওয়ার কথা সরকারি নির্দেশনার সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ কারণে পে ফিক্সেশন করার আগে কর্মচারীদের নিশ্চিত হতে হবে যে তাঁদের আগের বেতন নির্ধারণের রেকর্ডে ওই তারিখের মূল বেতন সঠিকভাবে রয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, কারও ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন ২২,৪৫০ টাকা এবং অন্য কর্মচারীর মূল বেতন ২৬,১০০ টাকা হলে, দুজনের নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাব একই হবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
২. নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার ধাপ
অর্থ বিভাগের বেতন কাঠামোসংক্রান্ত নির্দেশনার বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন মূল বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
৪০%
প্রথম ধাপ
১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬
পুরোনো ও নতুন মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ প্রযোজ্য হওয়ার কথা।
৭০%
দ্বিতীয় ধাপ
১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭
নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৭০ শতাংশ প্রযোজ্য হওয়ার কথা।
১০০%
তৃতীয় ধাপ
১ জুলাই ২০২৭ থেকে
নতুন মূল বেতনের পূর্ণ কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা।
গুরুত্বপূর্ণ: এই শতাংশগুলো নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ওপর প্রযোজ্য—এগুলোকে পুরো মূল বেতনের ৪০, ৭০ বা ১০০ শতাংশ হিসেবে গণনা করা যাবে না। প্রকৃত বেতন নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট আদেশের পূর্ণ বিধান অনুসরণ করতে হবে।
৩. আইবাস++-এ পে ফিক্সেশনের সময় যেসব তথ্য যাচাই করবেন
১১তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন পুনঃনির্ধারণের সময় নিচের তথ্যগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এসব তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা পে ফিক্সেশনসংক্রান্ত নির্দেশনা ও সংবাদ প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে।
৪. ছবির হিসাব ও আইবাস++-এর ফল এক না হলে কী করবেন?
ছবিগুলো মূলত বিভিন্ন মূল বেতনের ভিত্তিতে তৈরি নমুনা হিসাব। তাই সেগুলো দেখে নিজের বেতন চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা ঠিক হবে না।
যদি ছবির হিসাবের সঙ্গে আইবাস++-এ প্রদর্শিত বেতনের অঙ্ক না মেলে, তাহলে—
1. ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন পুনরায় যাচাই করুন।
2. পূর্ববর্তী ইনক্রিমেন্ট ও বেতন নির্ধারণের রেকর্ড পরীক্ষা করুন।
3. পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের কারণে বেতন পরিবর্তিত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ মিলিয়ে নিন।
4. হিসাবের অসংগতি থাকলে নিজ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা অথবা সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সহায়তা নিন।
সরকারি অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর জন্য পৃথক বিভাগ রয়েছে। অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়-এর সরকারি ওয়েবসাইটে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ দেখুন।
৫. বকেয়া বেতন ও নতুন মূল বেতনের হিসাব
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বকেয়া পাওনা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও কর্মচারীর পুরোনো ও পুনঃনির্ধারিত মূল বেতনের পার্থক্য এবং প্রযোজ্য কার্যকর হওয়ার তারিখ গুরুত্বপূর্ণ।
তবে প্রত্যেক কর্মচারীর বকেয়া একই হবে না। গ্রেড, পূর্ববর্তী মূল বেতন, নতুন নির্ধারিত বেতন এবং প্রযোজ্য সময়কাল অনুযায়ী অঙ্কের পার্থক্য হতে পারে।
তাই ১১তম গ্রেডের কোনো কর্মচারীর বকেয়া কত হবে, তা কেবল গ্রেডের নাম দেখে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
শেষ কথা
১১তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বেতন পুনঃনির্ধারণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের তথ্য এবং নতুন কাঠামোর প্রযোজ্য বিধান সঠিকভাবে অনুসরণ করা। ছবিতে দেওয়া হিসাবগুলো প্রাথমিক ধারণা পেতে সহায়ক হলেও আইবাস++-এ প্রদর্শিত ফল এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ যাচাই করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সতর্কতা: বেতন নির্ধারণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর বা অন্য ব্যক্তিগত তথ্য কোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইটে দেবেন না। সরকারি আইবাস++ পোর্টাল ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।



