৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬: ৬ নভেম্বর থেকে নতুন স্কেলে অক্টোবরের বেতন বিল দাখিল, বকেয়া পরিশোধেও বিশেষ ব্যবস্থা

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্টোবর মাসের বেতন বিল দাখিলের তৃতীয় পর্যায়ের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন নির্ধারণী হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগামী ৬ নভেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী বেতন বিল দাখিল করতে পারবেন। পাশাপাশি জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বেতন বিল দাখিলের সুযোগও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বহাল থাকছে বলে প্রকাশিত তথ্যচিত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর অথবা জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা ম্যানুয়ালি পরিশোধ ও সমন্বয়ের ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়েছে। ফলে নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ, অক্টোবর মাসের বেতন বিল দাখিল এবং আগের মাসগুলোর বকেয়া হিসাব সমন্বয়—এই তিনটি বিষয়ই এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

৬ নভেম্বর থেকে নতুন বেতনস্কেলে বিল দাখিল

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন নির্ধারণী হিসাববিবরণী সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস কর্তৃক ১ নভেম্বর থেকে ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে অনুমোদিত হবে, তাঁরা ৬ নভেম্বর থেকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী অক্টোবর মাসের বেতন বিল দাখিল করতে পারবেন।

অর্থাৎ, নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী বেতন বিল জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন নির্ধারণী হিসাববিবরণী অনুমোদিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন সম্পন্ন হলে পরবর্তী ধাপে নতুন স্কেলে বেতন বিল দাখিলের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে বেতন নির্ধারণী হিসাববিবরণী অনুমোদিত হলেই বেতন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক হিসাবে জমা হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বেতন বিল দাখিল, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই এবং অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বিল দাখিলের সুযোগ

নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী বেতন বিল দাখিলের কার্যক্রম চলার পাশাপাশি জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ীও ৫ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বেতন বিল সাবমিট করা যাবে বলে প্রকাশিত তথ্যচিত্রে উল্লেখ রয়েছে।

এ কারণে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ বা অনুমোদনের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে না, তাঁদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করা প্রয়োজন। কোন কর্মচারীর বেতন কোন স্কেলে নির্ধারণ করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বেতন নির্ধারণী হিসাববিবরণীর অবস্থা, দপ্তরের বিল প্রস্তুতির কার্যক্রম এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।

জুলাই থেকে বকেয়া বেতন-ভাতা সমন্বয়ের ব্যবস্থা

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর অথবা জুলাই-অক্টোবর মাসের প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা ম্যানুয়ালি পরিশোধ ও সমন্বয় করা যাবে।

নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার পর আগের মাসগুলোর প্রাপ্য অর্থ হিসাব করে বকেয়া নির্ধারণ করতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পূর্ববর্তী মূল বেতন, নতুন স্কেলে নির্ধারিত মূল বেতন, প্রযোজ্য ভাতার হার এবং ইতোমধ্যে পরিশোধ করা অর্থের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হবে।

যেসব কর্মচারীর নতুন বেতন নির্ধারণ বা বেতন বিল প্রস্তুতের কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হচ্ছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বকেয়া হিসাবের সঠিকতা নিশ্চিত করা বিশেষভাবে প্রয়োজন। ম্যানুয়ালি বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা থাকলেও প্রত্যেক কর্মচারী একই সময়ে বা একই পরিমাণ অর্থ পাবেন—এমন নিশ্চয়তা প্রকাশিত তথ্য থেকে পাওয়া যায় না।

বকেয়ার পরিমাণ ও পরিশোধের সময় নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর প্রাপ্যতা, হিসাবের সঠিকতা এবং দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপর।

যেসব বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নজর দেওয়া প্রয়োজন

নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী অক্টোবর মাসের বেতন বিল দাখিল করতে আগ্রহী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কয়েকটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

প্রথমত, বেতন নির্ধারণী হিসাববিবরণীর অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন পাওয়া গেছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে জেনে নেওয়া উচিত।

দ্বিতীয়ত, বেতন বিল দাখিলের তারিখ অনুসরণ করতে হবে। প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৬ নভেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন বেতনস্কেলে অক্টোবর মাসের বিল দাখিল করা যাবে—যাঁদের বেতন নির্ধারণী হিসাববিবরণী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদিত হবে।

তৃতীয়ত, বকেয়া বেতন-ভাতার হিসাব যাচাই করতে হবে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর অথবা জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত কোন সময়ের বকেয়া প্রাপ্য হবে, তা ব্যক্তিগত বেতন নির্ধারণ ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করা প্রয়োজন।

চতুর্থত, দপ্তরভিত্তিক নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বেতন বিল প্রস্তুত, যাচাই, অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ।

বেতন বিল দাখিল ও বকেয়া পরিশোধ কি একই প্রক্রিয়া?

বেতন বিল দাখিল এবং বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ সম্পর্কিত হলেও বিষয় দুটি এক নয়। অক্টোবর মাসের নিয়মিত বেতন বিল দাখিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মাসের বেতন পরিশোধের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। অন্যদিকে, আগের মাসগুলোর বকেয়া নির্ধারণের জন্য প্রাপ্য অর্থের হিসাব, পূর্বে পরিশোধিত অর্থের সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক অনুমোদন লাগতে পারে।

তাই নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী অক্টোবর মাসের বেতন বিল দাখিলের সুযোগ তৈরি হওয়ার অর্থ এই নয় যে সব কর্মচারীর বকেয়া একই সঙ্গে পরিশোধ হয়ে যাবে। বকেয়া অর্থের পরিমাণ ও পরিশোধের সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ ও বিল দাখিলের কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নতুন স্কেলে মূল বেতন নির্ধারণ, অক্টোবর মাসের বেতন এবং আগের মাসগুলোর বকেয়া সমন্বয় নিয়ে তাঁদের প্রত্যাশা রয়েছে।

তবে নির্ধারিত সময়সূচি প্রকাশ এবং বাস্তবে বেতন ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার মধ্যে প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়ার পার্থক্য রয়েছে। সে কারণে বেতন বিল দাখিলের সময়সূচিকে অর্থ জমার নিশ্চিত তারিখ হিসেবে বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করাই যুক্তিযুক্ত।

শেষ কথা

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী অক্টোবর মাসের বেতন বিল দাখিলের তৃতীয় পর্যায়ের সময়সূচিতে ৬ নভেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন স্কেলে বিল জমা দেওয়ার সুযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সুযোগ তাঁদের জন্য প্রযোজ্য, যাঁদের বেতন নির্ধারণী হিসাববিবরণী ১ থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে অনুমোদিত হবে। অন্যদিকে, জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত বিল সাবমিট করার কথা বলা হয়েছে।

পাশাপাশি জুলাই-সেপ্টেম্বর অথবা জুলাই-অক্টোবর ২০২৬-এর প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা ম্যানুয়ালি পরিশোধ ও সমন্বয়ের ব্যবস্থার উল্লেখ রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো বেতন নির্ধারণী হিসাববিবরণীর অনুমোদন, বেতন বিল দাখিল এবং বকেয়া হিসাবের বিষয়ে নিজ নিজ দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *