বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন ক্যাডার হতে পদোন্নতিপ্রাপ্ত সরকারের উপসচিবগণের মধ্য হতে জেলা প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। Warrant of Precedence, 1986 অনুসারে উপসচিব এর পদমর্যাদার ক্রম ২৫ হলেও জেলা প্রশাসকের পদমর্যাদার ক্রম ২৪। তবে জেলা প্রশাসক শব্দটি ডেপুটি কমিশনার শব্দের বঙ্গানুবাদ নয়, বরং দুটো আলাদা পরিচিতিকে নির্দেশ করে।

জেলা প্রশাসক কে?

জেলা প্রশাসক বাংলাদেশের জেলার প্রধান প্রশাসনিক ও ভূমিরাজস্ব কর্মকর্তা।[১] তিনি একাধারে জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (District Magistrate), জেলা কালেক্টর (District Collector) ও ডেপুটি কমিশনার (Deputy Commissioner)। ফলে তিনি একইসাথে আইনশৃঙ্খলা, ভূমি প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং সাধারণ ও স্থানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। জেলা প্রশাসক জেলাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রতিনিধি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানমতে বাংলাদেশ মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার হওয়ায় জেলা প্রশাসকগণ জেলাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি। তিনি ঐ জেলার সবকিছুর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট জবাবদিহি করেন। তিনি সরাসরি রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগকারী ক্ষমতাপ্রাপ্ত জেলার একমাত্র কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশ ও তত্ত্বাবধানে কাজ করেন। তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের প্রশাসন ক্যাডার যা বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস নামে পরিচিত সার্ভিসের জ্যোষ্ঠ পর্যায়ের সদস্য ও সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ আমলা।

একজন জেলা প্রশাসক বা ডিসি’র বেতন ভাতাদি?

উপসচিব হিসেবে একজন ডিসি বর্তমানে পঞ্চম গ্রেডে বেতন ভাতাদি পান। পঞ্চম গ্রেডে একজন ডিসি মূল বেতন সর্বোচ্চ হতে পারে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকা মাত্র। উপসচিব হতে শুরুতে ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সময় আনুমানিক ৫৩৬১০ টাকা হতে পারে। প্রমানক হিসাবে আমরা একজন উপসচিবের মূল বেতন দেখে নিতে পারি। ৫ম স্কেলে বেতন ধাপ ৪৩০০০- ৪৪৯৪০- ৪৬৯৭০- ৪৯০৯০- ৫১৩০০- ৫৩৬১০- ৫৬০৩০ -৫৮৫৬০- ৬১২০০- ৬৩৯৬০ -৬৬৮৪০- ৬৯৮৫০ টাকা। সর্বশেষ ৬৯৮৫০ টাকা বেতন হলে পরবর্তীতে গ্রেড পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আর বেতন বৃদ্ধি হয় না। বাড়ি ভাড়া/বাসভবন, চিকিৎসা ভাতা, সেলফোন ভাতা, আবাসিক টেলিফোন ভাতা, নিরাপত্তা প্রহরী ও কুকিং এলাউন্স ও ভ্রমণ ভাতা ইত্যাদি ভাতাদি।

একজন জেলা প্রশাসকের কাজ কি?

মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের স্মারক নং ০৪.৫১২.০৩৫.০০.০০.০১৬.২০১০-২৪৩ তারিখ ১১সেপ্টেম্বর ২০১১ মুলে জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব সম্পর্কে সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়। উক্ত প্রজ্ঞাপনে ইতোপূর্বেকার আদেশ সমূহ বাতিল করা হয়।

(১) জেলার রাজস্ব অফিসসমূহের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, তত্ত্বাবধান ও পরিবীক্ষণ

(২) ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ, আদায়, মওকুম ও পুনঃনির্ধারণ;

(৩) ভূমি রেকর্ড রক্ষণাবেক্ষণ এবং হালনাগাদকরণ;

(৪) কৃষি ও অকৃষি খাস জমি এবং অন্যান্য সরকারি সম্পত্তির বন্দোবস্ত প্রদান;

(৫) অধিগ্রহণকৃত কিন্তু অব্যবহৃত জমি পুনর্খাসকরণ;

(৬) সরকারি করা বহির্ভূত রাজস্ব আদায় এবং এ সংক্রান্ত হিসাব বিবরণী সরকারের কাছে প্রেরণ;

(৭) রাজস্ব মামলায় আপিল শুনানী;

(৮) রাজস্ব সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত;

(৯) হাটবাজার ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন;

(১০) হাট বাজারের পেরিফেরি নির্ধারণ;

(১১) নতুন হাট বাজার স্থাপন প্রক্রিয়াকরণ;

(১২) সায়রাত মহালসহ সরকারের অন্যান্য মহাল ব্যবস্থাপনা;

(১৩) চা বাগানের জমি ব্যবস্থাপনা ও তদারকি;

(১৪) রেকর্ড রুম ব্যবস্থাপনা;

(১৫) সরকারি দলিল পত্রাদির নকল সরবরাহ;

(১৬) অর্পিত, খাস, পরিত্যক্ত সম্পত্তি এবং বিনিময় সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা;

(১৭) সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি মামলা পরিচালনা তত্ত্বাবধান;

(১৮) আন্তঃজেলা সীমান্ত বিরোধ মীমাংসা;

(১৯) সিকস্তি জমির ক্ষেত্রে এডি লাইন হালনাগাদকরণ এবং পয়স্তি ভূমির ক্ষেত্রে চর্চা ম্যাপ প্রস্তুত

(২০) ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সাধারণ ভূমি জরিপ কর্মসূচিকে সহায়তা প্রদান;

(২১) ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ডিজিটাল ভূমি জরিপ কর্মসূচিকে সহায়তা প্রদান;

(২২) ইউনিয়ন ভূমি অফিস সৃজন;

(২৩) জেলায় ভূমি অফিসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংস্কার;

(২৪) রাজস্ব বিষয়ক রিপোর্ট ও রির্টান সরকার বরাবর প্রেরণ;

(২৫) সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ভূমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও খাসজমি পুনরুদ্ধার;

(২৬) বন আইন অনুযায়ী বনভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা বাস্তবায়ন;

(২৭) জেলায় রাজস্ব সম্মেলন আয়োজন;

(২৮) কৃষি ও অকৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা বাস্তবায়ন;

(২৯) দরিদ্র এবং ভূমিহীনদের জন্য সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচি যেমন আশ্রয়ণ, আবাসন, আদর্শ গ্রাম,
গুচ্ছগ্রাম এবং জলবায়ূ দুর্গত মানুষের পুনর্বাসন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও তদারকি;

(৩০) সরকারের ভূমি সংস্কার নীতিমালা বাস্তবায়ন;

(৩১) বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক প্রসেস জারি এবং জরিমানা আদায়;

(৩২) বিজ্ঞ আদালতের রায়/ডিক্রী/আদেশ বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ;

(৩৩) অকৃষি কার্যক্রমের সম্প্রসারণ থেকে মূল্যবান কৃষি জমি রক্ষায় বৈশিষ্ট্যভিত্তিক ভূমি বিভক্তি
পদ্ধতি প্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ;

(৩৪) ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মালিকানাধীন সম্পত্তির বিক্রি/হস্তান্তরের ক্ষেত্রে অনাপত্তি সনদ প্রদান;

(৩৫) জেলার রাজস্ব আদালত ও অফিস পরিদর্শন;

(৩৬) জেনারেল সার্টিফিকেট অফিসারের কোর্ট পরিদর্শন;

(৩৭) ভূমি রেজিস্ট্রেশন ম্যানুয়েল এবং প্রাসঙ্গিক বিধিবিধান অনুসরণে অবমূল্যায়িত (ইম্পাউন্ড)
মামলার নিষ্পত্তি;

(৩৮) পৌরসভা এলাকার বাইরে সায়রাত মহাল/হাটবাজারের টোল নির্ধারণ;

(৩৯) পার্বত্য জেলাত্রয়ের ভূমি নিবন্ধন;

(৪০) ল্যান্ড ইউজ প্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান;

(৪১) প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা;

(৪২) কোর্ট অব ওয়ার্ডস সম্পর্কিত কার্যাবলি; এবং

(৪৩) রাজস্ব প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সংস্থাপন ইত্যাদি।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে বিস্তারিত জানতে admin@bdservicerules.info ঠিকানায় মেইল করতে পারেন।

admin has 3023 posts and counting. See all posts by admin

One thought on “ডিসির বেতন কত? । অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কত গ্রেডে বেতন পান

  • Nice Post thanks

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *