সাহরী ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬ । রোজা কবে থেকে শুরু হবে জানুন
ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রণীত ইফতার ও সেহরির সময়সূচি বাংলাদেশের মুসলমানগণ অনুসরণ করে থাকে-প্রতিবছরই ইসলামিক ফাউন্ডেশন ইফতার ও সেহরী সময়সূচি প্রকাশ করে থাকে- সাহরী ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫
মুসলমানদের রোজা বলতে কি বুঝায়? – রোজা হলো ইসলামের একটি পবিত্র প্রকল্প, যেটি মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের দ্বারা মাস রমজানের সময় পালন করা হয়। রোজা অর্থ হলো দিনের শুরু থেকে সূর্যাস্তের পর্যন্ত খাবার এবং পানীয় সেবন করা বন্ধ রাখা। এর মাধ্যমে একজন মুসলমান আল্লাহর কাছে অধিক নির্ভরশীলতা ও উত্তম আচরণ প্রদর্শন করে। রোজা বলতে বোঝায় সুবহে সাদেক (ভোরের আলো ফোটার সময়) থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, যৌনতা, এবং পাপাচার থেকে বিরত থাকা। ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে রোজা তৃতীয়টি।
রোজার সময় মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের দ্বারা সাধারণত দোষারোপ করা কোন কাজ, জানুনী কিংবা সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করা হয় না। রোজার মধ্যে মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের কাজকর্ম নিয়মিত চলতে থাকে, কিন্তু দিনের আহার ও পানীয়ের সেবন করা বন্ধ রাখা হয়। রোজার সময় মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের দ্বারা আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া আহার ও পানীয় পরিহার করা হয় এবং এটি ইফতার নামে পরিচিত।
১ লা রমযান চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। সাহরীর শেষ সময় সতর্কতামূলকভাবে সুবৃহি সাদিকের ৩ মিনিট পূর্বে ধরা হয়েছে এবং ফজরের ওয়াক্তের শুরু সুবহি সাদিকের ৩ মিনিট পর রাখা হয়েছে। অতএব, সাহরীর সতর্কতামূলক শেষ সময়ের ৬ মিনিট পর ফজরের আযান দিতে হবে। সূর্যাস্তের পর সতর্কতামূলকভাবে ৩ মিনিট বাড়িয়ে ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য দেশের অন্যান্য বিভাগ ও জেলার সাহরী ও ইফতারের সময়সূচি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।
ইফতার ও সেহরী সময়সূচি ২০২৬ / Seheri and ifter Calender 2026
ইবাদত ছাড়াও রোজা মানুষের যে শারিরিক পরিবর্তন আনে- রোজার সময় মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রম কম হয়ে যায় এবং খাবারের সময় একাধিক খাবার না খেয়ে থাকা দরকার হয় যা ওজন কমানোতে সহায়তা করে। রোজার মাধ্যমে শরীরের অতিরিক্ত এনার্জি খরচ হয় না, যা শরীরের বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সামান্য সুযোগ দেয়।

সাহরী ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫ ও ঢাকার সময়ের সাথে অন্যান্য জেলার সময়ের পার্থক্য PDF Download
ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক নির্ধারিত ইফতার সূচি ২০২৬ – ঢাকার সময় হতে বাড়াতে হবে
- বাগের হাট -০১ মি.
- মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, শেরপুর-০২ মি.
- মাগুরা, খুলনা, নড়াইল, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর- ০৩ মি.
- রাজবাড়ী, যশোর, গাইবান্ধা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ- ০৪মি.
- কুষ্টিয়া, পাবনা, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনির হাট- ০৫ মি.
- নাটোর চুয়াডাঙ্গা, জয়পুরহাট-০৬ মি.
- মেহেরপুর, রাজশাহী, নওগাঁ, নীলফামারী-০৭ মি.
- দিনাজপুর- ০৮ মি.
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও- ০৯ মি.
ঢাকা সাথে কোন জেলার সময় বাড়াতে বা কমাতে হবে?
হ্যাঁ। উত্তরবঙ্গের কিছু জেলার ক্ষেত্রে সময় বাড়াতে হবে এবং দক্ষিন বঙ্গের কিছু জেলার সময়ের সাথে সময় যোগ করতে হবে। ২৮.০৬.১৯৯৩ খ্রি. তারিখে প্রনীত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নামাজের সময়সূচি নির্ধারণ কমিটি কর্তৃক প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী ১৪৪৪ হিজরী (২০২৩ খ্রি.) সাহরী ও ইফতার এর ক্ষেত্রে ঢাকার সময়ের সাথে অন্যান্য জেলার সময়ের পার্থক্য দেখে নিন। কিছু জেলার ক্ষেত্রে সেহরী ও ইফতাররের ঢাকার সময় সূচির সাথে মিনিট যোগ করতে হবে এবং কিছু জেলার ক্ষেত্রে সময় কমাতে হবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হতে পবিত্র রমযান শুরু হবে। রমযান এর সাহরী ও ইফতারের সময়সূচী। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও………………
পবিত্র মাহে রমজান ২০২৬ (১৪৪৭ হিজরি) নিয়ে আপনার জিজ্ঞাসার উত্তর নিচে দেওয়া হলো। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এ বছরের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
রোজা কবে থেকে শুরু?
২০২৬ সালের পবিত্র রমজান মাস বাংলাদেশে ১৯ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে)। গতকাল অর্থাৎ ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম রোজা পালিত হচ্ছে।
সাহরী ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬ (ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা)
নিচে প্রথম ১০টি রোজার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো। পুরো মাসের সময়সূচি সাধারণত প্রায় একই ধারাবাহিকতায় কয়েক মিনিট পরিবর্তন হয়।
| রোজা | তারিখ | সাহরীর শেষ সময় | ইফতারের সময় |
| ০১ | ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতি) | ৫:১২ | ৫:৫৮ |
| ০২ | ২০ ফেব্রুয়ারি (শুক্র) | ৫:১১ | ৫:৫৮ |
| ০৩ | ২১ ফেব্রুয়ারি (শনি) | ৫:১১ | ৫:৫৯ |
| ০৪ | ২২ ফেব্রুয়ারি (রবি) | ৫:১০ | ৫:৫৯ |
| ০৫ | ২৩ ফেব্রুয়ারি (সোম) | ৫:০৯ | ৬:০০ |
| ০৬ | ২৪ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গল) | ৫:০৮ | ৬:০০ |
| ০৭ | ২৫ ফেব্রুয়ারি (বুধ) | ৫:০৮ | ৬:০১ |
| ০৮ | ২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতি) | ৫:০৭ | ৬:০১ |
| ০৯ | ২৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্র) | ৫:০৬ | ৬:০২ |
| ১০ | ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনি) | ৫:০৫ | ৬:০২ |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সাহরীর শেষ সময় সতর্কতামূলকভাবে ফজরের আজানের ৩-৪ মিনিট আগে ধরা হয়েছে। আর ইফতারের সময় মাগরিবের আজানের সময়ের সাথে মিল রাখা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য
জেলা ভিত্তিক পরিবর্তন: এই সময়সূচিটি প্রধানত ঢাকার জন্য প্রযোজ্য। ঢাকার সময়ের সাথে অন্যান্য জেলার সময়ের ১ থেকে ১০ মিনিট পর্যন্ত পার্থক্য হতে পারে। (যেমন: সিলেট বা চট্টগ্রামের দিকে সময় কিছুটা আগে, আবার রাজশাহী বা খুলনার দিকে সময় কিছুটা পরে হবে)।
শবে কদর: সম্ভাব্য ১৭ মার্চ ২০২৬ (মঙ্গলবার দিবাগত রাত)।
ঈদুল ফিতর: চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০ বা ২১ মার্চ ২০২৬।



