২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট : সরকারি ব্যয়ে কঠোর সাশ্রয়ী নীতি ঘোষণা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ব্যয়ে ব্যাপক কাটছাঁট ও সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আওতায় সকল সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যয়ের নতুন সীমা নির্ধারণ করে একটি পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।
গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ (২২ চৈত্র ১৪৩২) তারিখে উপ-সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় স্থগিত বা হ্রাসের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ব্যয় সংকোচনের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ:
১. আপ্যায়ন ও প্রশিক্ষণ: আপ্যায়ন ব্যয় (৩২১১১০৬) এবং অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ (৩২৩১৩০১) খাতে অব্যায়িত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। তবে সরকারি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলো এই হিসাবের বাইরে থাকবে। এছাড়া সরকারি অর্থায়নে সকল প্রকার বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
২. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি: বিদ্যুৎ, পেট্রোল, অয়েল, লুব্রিকেন্ট ও গ্যাসসহ জ্বালানি খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। এই সীমার বাইরে কোনো বকেয়া দাবি ভবিষ্যতে গ্রহণযোগ্য হবে না।
৩. যানবাহন ক্রয় বন্ধ: সকল প্রকার মোটরযান, জলযান ও আকাশযান ক্রয় সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম বা ঋণ সুবিধাও আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
৪. ভবন নির্মাণ ও সজ্জা: আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন স্থাপনের ক্ষেত্রে যদি অন্তত ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে থাকে, কেবল তবেই অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে অব্যায়িত অর্থের ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যবর্ধন খাতে ৫০ শতাংশের বেশি খরচ করা যাবে না।
৫. ভূমি অধিগ্রহণ ও সরঞ্জাম: পরিচালন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ (৪১৪১১০১) সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে উন্নয়ন বাজেটের আওতায় নিয়ম মেনে এবং অর্থ বিভাগের অনুমতি নিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ করা যাবে। এছাড়া কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ক্রয়ও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
৬. সেমিনার ও কনফারেন্স: সেমিনার বা কনফারেন্স খাতে অব্যায়িত অর্থের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। তবে এসব অনুষ্ঠানের আপ্যায়ন ব্যয় কোনোভাবেই বরাদ্দের ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই আদেশ জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।



