PPR 2025 । সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫’ জারি?
সরকারি কেনাকাটা বা পাবলিক প্রকিউরমেন্টে অধিকতর স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নতুন ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করেছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন বিধিমালা কার্যকর করার ঘোষণা দেয়।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর ধারা ৭০-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রণীত এই বিধিমালা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি পূর্ববর্তী সকল প্রকিউরমেন্ট বিধিমালাকে প্রতিস্থাপন করে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার লক্ষ্য নিয়ে এসেছে।
বিধিমালার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. টেকসই সরকারি ক্রয় (Sustainable Procurement): নতুন বিধিমালায় টেকসই সরকারি ক্রয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা পরিবেশ রক্ষা, সামাজিক অগ্রগতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সমর্থন করে। বিপিপিএ (বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি) শীঘ্রই এ বিষয়ে একটি বিশেষ নীতিমালা প্রণয়ন করবে।
২. সামাজিক ক্রয় ক্যাটেগরি: সামাজিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে ‘সামাজিক ক্রয় ক্যাটেগরি’ নামে একটি পৃথক তালিকা সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান, নারী-মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং নতুন উদ্যোক্তারা সরকারি ক্রয়ে অংশগ্রহণের বিশেষ সুযোগ পাবেন।
৩. ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (e-GP): সরকারি ক্রয়ের প্রতিটি স্তরে ই-জিপি পোর্টাল ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে অনুমোদন এবং প্রকাশ—সবকিছুই এই পোর্টালের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
৪. ক্রয় পদ্ধতি ও স্বচ্ছতা: পণ্য, কার্য ও ভৌত সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ‘উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি’কে অগ্রগণ্য ধরা হলেও বিশেষ ক্ষেত্রে সীমিত দরপত্র, সরাসরি ক্রয়, দুই পর্যায় বিশিষ্ট দরপত্র এবং বিপরীত নিলাম পদ্ধতি ব্যবহারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৫. কমিটি গঠন ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা: দরপত্র মূল্যায়ন ও কারিগরি মান যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন শক্তিশালী কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। প্রাক্কলন ও বিনির্দেশ প্রণয়নে বিশেষজ্ঞ সহায়তা গ্রহণের সুযোগও এই বিধিমালায় রাখা হয়েছে।
অভিযোগ ও আপিল পদ্ধতি: দরপত্র প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা বৈষম্য পরিলক্ষিত হলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সচিব পর্যায়ে অভিযোগের সন্তোষজনক সমাধান না হলে রিভিউ প্যানেলের কাছে আপিল করার সুযোগ থাকবে। রিভিউ প্যানেলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতা: নতুন বিধিমালায় সরকারি ক্রয়ে নিয়োজিত কর্মকর্তা এবং অংশগ্রহণকারী দরদাতাদের জন্য কঠোর ‘নৈতিক বিধি’ (Code of Ethics) প্রবর্তন করা হয়েছে। দুর্নীতি, প্রতারণা বা ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিধিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন সরকারি তহবিলের অপচয় রোধ করবে এবং মানসম্মত পণ্য ও সেবা নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



