দক্ষ জনপ্রশাসন গড়তে প্রশিক্ষণে বড় পরিবর্তন: উচ্চশিক্ষা ও বিদেশ ভ্রমণে কড়াকড়ি
সরকার জনপ্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে ‘জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা নীতিমালা, ২০২৩’ সংশোধন করেছে। নতুন এই নীতিমালায় সরকারি কর্মচারীদের প্রশিক্ষণকে বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা এবং বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠোর নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে। মূলত চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং একটি স্মার্ট প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রতি বছর ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক
সংশোধিত নীতিমালার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীকে বছরে কমপক্ষে ৬০ ঘণ্টা কর্মকালীন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে (মাসে গড়ে ৫ ঘণ্টা)। কোনো কর্মচারী নতুন পদে যোগ দিলে বা বদলি হলে তাকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজ সম্পর্কে সর্বোচ্চ ১০ দিনের একটি আবশ্যিক পরিচিতিমূলক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তবে গ্রেড-৩ ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিলযোগ্য।
বিপিএটিসি হচ্ছে ‘অ্যাপেক্স’ প্রতিষ্ঠান
নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি)-কে জনপ্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র বা ‘অ্যাপেক্স বডি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এটি এখন থেকে কেবল প্রশিক্ষণই দেবে না, বরং সরকারের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী বিষয়ে গবেষণালব্ধ পরামর্শও প্রদান করবে।
বিদেশ ভ্রমণ ও উচ্চশিক্ষায় নতুন শর্ত
উচ্চশিক্ষা ও বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে অপচয় রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে নতুন কিছু কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে:
পিআরএল-এর সময় বাধা: চাকরির মেয়াদ (পিআরএল শুরু হওয়ার আগে) কমপক্ষে ৪ সপ্তাহ না থাকলে কোনো কর্মচারী উচ্চশিক্ষা বা প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশ যেতে পারবেন না।
দেশের শিক্ষা অগ্রাধিকার: বিদেশে উচ্চশিক্ষার চেয়ে দেশের অভ্যন্তরে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকে উৎসাহিত করা হয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ থাকলে বিদেশের ডিগ্রির জন্য বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হবে।
সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম: দেশে-বিদেশে কনফারেন্স বা ওয়ার্কশপে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও পিআরএল সংক্রান্ত একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
জাতীয় প্রশিক্ষণ কাউন্সিল (NTC)
নীতিমালা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে একটি ‘জাতীয় প্রশিক্ষণ কাউন্সিল’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই কাউন্সিল দেশের সামগ্রিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত একটি পৃথক ‘অধিশাখা’ স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত
প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন হলে সরকারি কর্মচারীদের পেশাদারিত্ব বাড়বে এবং জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানো আরও সহজ হবে। তবে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি কতটুকু কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে যথাযথ তদারকির ওপর।




