পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনে পুলিশি হামলা: সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের তীব্র নিন্দা ও সংবাদ সম্মেলন
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনরত নিরীহ ও নিরস্ত্র সরকারি কর্মচারীদের ওপর পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ। আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বেতন কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীরা একটি শান্তিপূর্ণ ভুখা মিছিল বের করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাতে বাধা দেয়। অভিযোগ করা হয়, পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারগ্যাস এবং লাঠিচার্জ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে শতাধিক কর্মচারী আহত হন, যাদের অনেকেই বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনের মূল বক্তব্য
সমন্বয় পরিষদের চেয়ারম্যান নোমানুজ্জামান আল আজাদ তার বক্তব্যে বলেন, “দেশের ২২ লক্ষ গণকর্মচারী যখন ৯ম বেতন স্কেল বাস্তবায়নের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন, তখন সরকারের অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্যে জানা গেছে যে প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থান রয়েছে। এরপরও প্রজ্ঞাপন জারিতে এই বিলম্ব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি মহল বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে সরকার ও কর্মচারীদের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় কর্মচারীরা মানসিকভাবে অত্যন্ত ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ।
প্রধান দাবি ও হুঁশিয়ারি
সংগঠনের মহাসচিব বদরুল আলম সবুজ আন্দোলনের পক্ষ থেকে প্রধান দাবিগুলো তুলে ধরেন:
অবিলম্বে বেতন কমিশনের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
নতুন পে-স্কেল ১লা জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর করতে হবে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বেই এই দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।
পরিষদ নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কর্মচারীদের এই ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে চলমান নির্বাচনী কর্মকাণ্ড ব্যাহত হতে পারে, যার দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অতিরিক্ত মহাসচিব কামাল হোসেন সিকদার, কার্যকরী সভাপতি মো: সেলিম ভূঁইয়া, সহ-সভাপতি মো: দেলোয়ার হোসেন, এবং বিভিন্ন দপ্তরের নেতৃবৃন্দ। অতিরিক্ত মহাসচিব কামাল হোসেন সিকদার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে এই ন্যাক্কারজনক হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি দ্রুত মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর আহ্বান জানানো হয়।




