জিপিএফ অগ্রিম ও সুদ ইনক্রিমেন্ট আদায় সংক্রান্ত বিধি বিধান।

অফেরতযােগ্য অগ্রিম ব্যতীত অন্যান্য অগ্রিম, মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ যেই সংখ্যক কিস্তি নির্ধারণ করিবেন, ঐ সংখ্যক মাসিক সমান কিস্তিতে আদায় করিতে হইবে। তবে চাঁদা দাতার ইচ্ছা ব্যতীত এই কিস্তির সংখ্যা ১২ এর কম হইবে না এবং কোনক্রমেই কিস্তির সংখ্যা ৫০ এর বেশী হইবে না। চাঁদাদাতা ইচ্ছা করিলে এক মাসে একের অধিক কিস্তি পরিশােধ করিতে পারিবেন। 

কিস্তির পরিমাণ পূর্ণ টাকায় নির্ধারণ করিতে হইবে এবং এইরূপভাবে কিস্তি নির্ধারণের প্রয়ােজনে অগ্রিমের পরিমানের হ্রাস বৃদ্ধি করা যাইবে। জিপিএফ বিধিমালা ১৯৭৯ এর বিধি-১১ তে বর্ণিত চাঁদা আদায়ের পদ্ধতিতে অগ্রিমের অর্থ আদায় করিতে হইবে। গৃহ নির্মাণে উদ্দেশ্যে অগ্রিমের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য অগ্রিমের ক্ষেত্রে অগ্রিম গ্রহণের পরবর্তী পূর্ণ মাসের বেতন হইতে অথবা ফরেন সার্ভিসের রেমুনারেশন হইতে আদায় আরম্ভ হইবে।

গৃহ নির্মাণের জন্য অগ্রিমের ক্ষেত্রে অগ্রিম গ্রহণের পরবর্তী দ্বাদশ মাসের বেতন হইতে বেতনের ১০% হারে আদায় আরম্ভ হইবে। তবে সরকারী কর্মচারী যদি বেতন হইতে গৃহ নির্মাণ অগ্রিমও এ থাকেন, তাহা হইলে বেতন হইতে গ্রহণকৃত অগ্রিম সুদসহ সম্পূর্ণ আদায় হওয়ার পর উপরােক্ত হারে এই অগ্রিম আদায় করিতে হইবে।

ছুটিকালীন সময়ে বা খােরপােষ ভাতা প্রাপ্তিকালীন সময়ে ব্লাদীনাল সম্মতি ব্যতিরেকে অগ্রিম আদায় করা যাইবে না। পূর্ববর্তী অগ্রিম আদালত বা বেতন অগ্রিম আদায়কালে বা কোন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত, যাহা বয়ােবৃদ্ধদের ক্ষেত্রে অবসর গ্রহণের দিন পর্যন্ত বর্ধিত করা যাইবে, চাঁদাদাতার লিখিত অনুরােধক্রমে মজুরীকারী কর্তৃপক্ষ অগ্রিম আদায় বন্ধ রাখিতে পারিবেন।

নােটঃ (১) ছুটিসহ অবকাশকালীন সময় ছুটি হিসাবে গণ্য হইবে।

চাঁদাদাতা যে মাসে পূর্ণ বেতন উত্তোলন করেন শুধু ঐ মাসেই কিস্তি আদায় করা যাইবে এবং ছুটিকালীন সময়ে চাঁদাদাতার সম্মতিক্রমেই বেল ছুটিকালীন বেতন হইতে অগ্রিমের কিস্তি কর্তন করা যাইবে। 

একাধিক অগ্রিম মঞ্জুর করা হইলে আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রতিটি অগ্রিম পৃথক অগ্রিম হিসাবে বিবেচিত হইবে। 

(এ) অগ্রিমের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশােধের পর মুল অগ্রিমের উপর মাসিক ভিত্তিতে বাৎসরিক ৫% হারে অগ্রিম উত্তোলনের মাস হইতে অগ্রিমের মূল অর্থ চূড়ান্ত পরিশােধের সময় পর্যন্ত যত মাস গত হইয়াছে, উহার উপর সুদ বা ইনক্রিমেন্ট পরিশােধ করিতে হইবে। সুদ বা ইনক্রিমেন্ট হিসাবের ক্ষেত্রে ভাঙ্গা মাসকে পূর্ণ মাস হিসাবে গণনা করিতে হইবে। তবে শর্ত থাকে যে, যে চাঁদা দাতা তহবিলে সঞ্চিত অর্থের সুদ বা ইনক্রিমেন্ট গ্রহণ করেন না, তাহাকে অগ্রিমের উপরও সুদ বা ইনক্রিমেন্ট পরিশোধ হইবে না।

(বি) সাধারণত মূল অগ্রিম আদায়ের পরবর্তী মাসে এক কিস্তিতে সুদ বা ইনক্রিমেন্ট আদায় করিতে হইবে। তবে সুদ বা ইনক্রিমেন্টের পরিমাণ মূল অগ্রিম আদায়ের এক কিস্তির টাকার পরিমাণ অপেক্ষা অধিক হইলে একাধিক মাসিক সমান কিস্তিতে আদায় করা যাইবে, যদি চাঁদাদাতা অনুরূপ ইচ্ছা প্রকাশ করে। কিন্তু সুদ বা ইনক্রিমেন্ট আদায়ের কিস্তির পরিমাণ মূল অগ্রিম আদায়ের কিস্তির টাকার পরিমাণ অপেক্ষা কম হইবে না। (৭) অগ্রিম মঞ্জুর করা হইলে এবং তাহা চাঁদাদাতা কর্তৃক উত্তোলন করা হইলে এবং পরবর্তী পর্যায়ে আদায় সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্বে উক্ত মঞ্জুরী বাতিল করা হইলে বিধি-১২ তে বর্ণিত হারে সুদ বা ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিমের সম্পূর্ণ বা বাকী অর্থ চাঁদাদাতা তাৎক্ষণিকভাবে তহবিলে জমা দিবেন। তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত প্রদানে ব্যর্থ হইলে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশিত কিস্তিতে বা অন্যভাবে চাঁদাদাতার বেতন হইতে কৰ্তন করিয়া হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তাহা আদায়ের নির্দেশ দিবেন। তবে যে চাদাদাতা তহবিলের জমার উপর সুদ বা ইনক্রিমেন্ট গ্রহণ করেন না, তাহার ক্ষেত্রে সুদ বা ইনক্রিমেন্ট আদায় করা যাইবে না।

এই বিধি অনুসারে আদায়কৃত অর্থ চাদাদাতার তহবিলে জমা হইবে। বিশ্লেষণ: (১) সুদসহ প্রথম অগ্রিম চূড়ান্ত পরিশােধের তারিখ হইতে এক বৎসরের মধ্যে দ্বিতীয় অগ্রিম মঞ্জুর করা যাইবে না। তবে বিশেষ বিবেচনার ক্ষেত্রে কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া ৩টি পর্যন্ত অগ্রিম যুগপৎভাবে মঞ্জুর করা যাইবে। কিন্তু ৩টি বা ততােধিক অগ্রিমের অর্থ অনাদায়ী থাকিলে সরকারের পূর্বানুমােদন ব্যতীত পুনঃঅগ্রিম মঞ্জুর করা যাইবে না-বিধি-১৩(৩) ও ১৩(৪)। অগ্রিম আবেদন নির্ধারিত ফরমে উধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করিতে হইবে- বিধি-১৩(৬)

অগ্রিম মঞ্জুরের সময় তহবিলে সঞ্চিত অর্থের প্রতি লক্ষ্য রাখিতে হইবে।-বিধি-৩(৭)। বদলির ক্ষেত্রে চাঁদা দাতার এল পি সি তে মােট অগ্রিমের পরিমাণ, আদায়ের কিস্তির সংখ্যা ও প্রতি কিস্তিতে আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ, এবং বকেয়ার পরিমাণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করিতে হইবে। বিধি-১৩(৮)

চাঁদা দাতার ইচ্ছা ব্যতীত আদায়ের কিস্তির সংখ্যা ১২ এর কম হইবে না। এবং কোনক্রমেই তাহা ৫০ এর অধিক হইবে না। বিধি-১৪(১) (৬) চাঁদা আদায়ের পদ্ধতিতে অগ্রিম এবং সুদ আদায় করিতে হইবে। গহ নির্মাণের উদ্দেশ্যে অগ্রিমের ক্ষেত্রে অগ্রিম গ্রহণের পরবর্তী দ্বাদশ মাসের বেতন হইতে বেতনের ১০% হারে আদায় আরম্ভ হইবে। অন্যান্য অগ্রিমের ক্ষেত্রে অগ্রিম গ্রহণের পরবর্তী মাস হইতে আদায় আরম্ভ হইবে। বিধি-১৪(২) ও ১৪ (৩)

সাধারণ ভবিষ্য তহবিল বিধিমালা, ১৯৭৯ [বাংলা ও ইংলিশ ভার্সন)

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.