জিপিএফ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি প্রশ্নের উত্তর।

জিপিএফ বা সাধারণ ভবিষ্য তহবিলে কর্মচারীদের চাকুরী স্থায়ীকরণের পর বেতন হতে সর্বনিম্ন ৫% স্থিতি রাখা বাধ্যতামূলক। জিপিএফ এ জমাকৃত অর্থ একজন সরকারী কর্মচারীর জন্য একটি ভবিষ্য তহবিল যেখান হতে বিপদে পড়লে ঋণ গ্রহণ করতে পারে। এই ঋণের উপর সাধারণত কোন সুদ প্রদান করতে হয় না। শুধুমাত্র নির্ধারিত কিস্তির হারের এক কিস্তি অতিরিক্ত প্রদান করতে হয় যা নিজের হিসাবেই জমা থাকে। নিজের জমাকৃত অর্থ আপনি আপনার বয়স ৫২ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে উত্তোলন করতে পারবেন না।

১। ভবিষ্য তহবিলে যোগদানের যোগ্যতা :

উত্তর : একজন সরকারি কর্মচারী চাকুরীর মেয়াদ ২ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পর এই তহবিলে যোগদান করা বাধ্যতামূলক। তবে একজন সরকারী কর্মচারী ইচ্ছা করলে ২ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেও তহবিলে যোগদান করতে পারবেন।

২। ভবিষ্য তহবিলের নমিনি/মনোনয়ন :

উত্তর : চাঁদাদাতা তার পরিবারের সদস্য নয়, এমন কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে মনোনয়ন করতে পারবনে না। চাঁদাদাতা যদি অবিবাহিত হন, তবে পিতা/মাতা/ভাই/বোনকে মনোনয়ন করতে পারবেন। তবে উক্ত কর্মচারীর পরিবার হওয়ার সংগে সংগে পরিবার বহির্ভূত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দান সংক্রান্ত মনোনয়ন পত্র আপনা হইতে বাতিল হয়ে যাবে।

৩।চাঁদার হার কত?

উত্তর : মূল বেতনের সর্বোচ্চ ২৫% সর্বনিম্ন ৫%।

৪। নমিনি পরিবর্তন করা যায় কিনা ?

উত্তর : নমিনি পরিবর্তন করা যায় তবে পরিবারের সদস্যের নামে নমিনি থাকলে, বিবাহ করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ত্রীর নামে নমিনি হয়ে যায়।

৫। সুদের হার কত ?

উত্তর : বর্তমানে জিপিএফ এর সুদের হার ১৩%।

৬। অগ্রিম কতবার নেয়া যায় ?

উত্তর : ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ ৪টি অগ্রিম নেয়ার সুযোগ আছে। তবে ৫২ বৎসর পূর্ণ হলে অফেরতযোগ্য অগ্রিম এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নেই।

৭। অগ্রিম কিভাবে মঞ্জুর করা হয় ?

উত্তর : আবেদনকারী জিপিএফ অগ্রিম এর আবেদন করলে ডেলিগেশন ফিন্যান্সিয়াল পাওয়ার অনুযায়ী ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ অগ্রিম মঞ্জুর করেন।

৮। অগ্রিম উত্তোলনের নিয়মাবলী ?

উত্তর : প্রথমে অগ্রিম উত্তোলনের জন্য স্ব-অফিসে আবেদন করতে হবে। কর্তৃপক্ষ আবেদনের প্রেক্ষিতে মঞ্জুরী ইস্যু করে জিপিএফ অগ্রিমের বিল হিসাবরক্ষণ অফিসে প্রেরণ করলে, হিসাবরক্ষণ অফিস ব্যক্তির নির্দ্দিষ্ট জিপিএফ একাউন্টস এর পৃষ্টায় নোট উল্লেখ পূর্বক পরিশোধ করেন।

৯। অগ্রিম বাবদ গৃহিত অর্থ চালানে জমা দেয়া যায় কিনা :

উত্তর : অগ্রিম বাবদ গৃহিত অর্থ চালানে জমা দেয়া যায় না। বেতন হতে কিস্তির মাধ্যমে আদায় করা হয়।

১০। অগ্রিম উত্তোলন করলে সুদ পাবে কিনা ?

উত্তর : অগ্রিম উত্তোলন করলে অগ্রিম উত্তোলিত টাকা জিপিএফ স্থিতি হতে সমন্বয় হবে। যে মাসে অগ্রিম উত্তোলন করেন তার পরবর্তী মাসের বেতন বিল হতে উত্তোলিত টাকায় কোন সুদ প্রাপ্য হবেন না।

১১। অগ্রিম উত্তোলিত টাকা কর্তন করলে বিনিয়োগ হিসাব গণ্য হবে কিনা ?

উত্তর : অগ্রিম উত্তোলিত টাকা কর্তন করলে বিনিয়োগ হিসাবে গণ্য হবে।

১২। একই সঙ্গে একই হারে চাঁদা কর্তন করলেও যিনি অগ্রিম গ্রহণ করেছেন তার স্থিতি কমে যায় কেন ?

উত্তর : উত্তোলিত অগ্রিম জিপিএফ স্থিতি হতে বিয়োগ হয় বিধায় স্থিতি কমে যায়।

১৩। বৎসরের মাঝখানে জিপিএফ এর টাকা কমানো বাড়ানো যায় কি না ?

উত্তর : বৎসরের মাঝখানে জিপিএফ এর টাকা কমানো বাড়ানো যায় না। তবে বিশেষ প্রেক্ষিতে বৎসরের মাঝখানে টাকা কমানো বাড়ানো যায়।

১৪। জিপিএফ চূড়ান্ত উত্তোলনের প্রক্রিয়া কি ?

উত্তর : জিপিএফ চূড়ান্ত উত্তোলনের জন্য ৬৬৩ নং ফরম পূরণপূর্বক আবেদনকারী চূড়ান্ত উত্তোলনের জন্য আবেদন করবেন। স্ব-স্ব কর্তৃপক্ষ আবেদনের ভিত্তিতে হিসাবরক্ষণ অফিস কর্তৃক চূড়ান্ত উত্তোলনের অথরিটি ইস্যু করার জন্য পত্র জারী করবেন। হিসাবরক্ষণ অফিস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীর সমুদয় জিপিএফ হিসাবের সুদ ও আসল নির্ণয়পূর্বক অথরিটি ইস্যু করেন। উক্ত অথরিটির ভিত্তিতে স্ব স্ব সরকারি কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত পরিশোধের নিমিত্তে মঞ্জুরীসহ বিল হিসাবরক্ষণ অফিসে দাখিল করেন। অতপরঃ হিসাবরক্ষণ অফিস জিপিএফ চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করেন।

সূত্র: পেনশন ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট ওয়েবসাইট

জিপিএফ সম্পর্কি আরও বিভিন্ন তথ্য জনাতে আপনি লিংকটি ভিজিট করতে পারেন: জিপিএফ

admin

এই ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে বিস্তারিত জানতে বা কোন তথ্য যুক্ত করতে বা সংশোধন করতে চাইলে অথবা কোন আদেশ, গেজেট পেতে এই admin@bdservicerules.info ঠিকানায় মেইল করতে পারেন।

2 thoughts on “জিপিএফ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি প্রশ্নের উত্তর।

  • 10/10/2020 at 9:17 am
    Permalink

    সুদ মুক্ত করার নিয়মাবলী কী?

  • 10/10/2020 at 7:01 pm
    Permalink

    একটি আবেদনপত্র এজি অফিসে দাখিল করতে হয়। তবে ইএফটি পদ্ধতিতে বেতন হলে আপনার মাস্টারডাটায় সুদমুক্ত এন্ট্রি করলেই হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.