প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল আইন, ১৯৮০

আপিলকারী যদি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইবুনালকে এই মর্মে পরিতুষ্ট করিতে পারেন যে, তিন মাস সময় সীমার মধ্যে আপিল দায়ের করিতে না পারার যথেষ্ট কারণ রহিয়াছে, তাহা হইলে উক্ত উপ-ধারায় বর্ণিত তিন মাসের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও, তবে ছয় মাসের পরে নয়, আপিল গ্রহণ করা যাইবে।]

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন।-(১) এই আইন প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল আইন, ১৯৮০ নামে অভিহিত হইবে। প্রকাশিত ৫ জুন, ১৯৮০)

(২) সরকার সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি দ্বারা যে তারিখ নির্ধারণ করিবে, ইহা উক্ত তারিখ হইতে বলবৎ হইবে।

বিশ্লেষণ: S.R.O 30. -L/82, তারিখ: ১২ জানুয়ারি, ১৯৮২ এর মাধ্যমে আইনটি ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮২ তারিখ হইতে বলবৎ করা হয়।

২। সংজ্ঞা।- বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-(এ) নির্ধারিত” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি দ্বারা নির্ধারিত;

[(এএ) “বিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ” অর্থ এই আইনের তফসিলে বর্ণিত কর্তৃপক্ষণ, কর্পোরেশন, বা সংঘ; এবং]

(বি) “ট্রাইবুনাল” অর্থ এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল বা প্রশাসনিক আপিল ট্রাইবুনাল।

৩। প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল প্রতিষ্ঠা। – (১) সরকার এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি দ্বারা এক বা একাধিক প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে।

(২) একাধিক প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল প্রতিষ্ঠা করা হইলে প্রত্যেকটি ট্রাইবুনাল যে এলাকার মধ্যে উহার এখতিয়ার প্রয়োগ করিবে তাহা সরকার সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি দ্বারা নির্দিষ্ট করিয়া দিবে।

(৩) প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল এক সদস্য বিমিষ্ট হইবে এবং যিনি জেলা জজ আছেন বা জেলা জজ ছিলেন, এইরূপ ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে উক্ত সদস্য সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন।

(৪) সরকার যে রূপ শর্তাবলি নির্ধারণ করিবে, ঐরূপ শর্তাধীন প্রশাসনিক ট্রাইবুনালের সদস্য উক্ত পদে বহাল থাকিবেন।

৪। প্রশাসনিক ট্রাইবুনালের এখতিয়ার। -(১) প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল প্রজাতন্ত্রের বা বিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কর্মে নিযুক্ত যে কোন ব্যক্তির পেনশনের অধিকাসহ তাঁহার কর্মের শর্তাবলি, অথবা প্রজাতন্ত্রের বা বিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তি হিসাবে তৎসম্পর্কে গৃহীত কোন ব্যবস্থার উপর তৎকর্তৃক পেশকৃত আবেদনের শুনানি গ্রহণ এবং নিষ্পত্তির জন্য পূর্ণ এখতিয়ার সম্পন্ন হইবে।

(২) প্রজাতন্ত্রের বা বিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কর্মে নিযুক্ত যে কোন ব্যক্তি তাঁহার পেনশনের অধিকারসহ কর্মের শর্তাবলি সম্পর্কে কোন আদেশ বা সিদ্ধান্তের দ্বারা অথবা প্রজাতন্ত্রের বা বিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তি হিসাবে তদসম্পর্কে গৃহীত কোন ব্যবস্থা দ্বারা সংক্ষুদ্ধ হইলে তিনি উপ ধারা (১) এর অধীন প্রশাসনিক ট্রাইবুনালের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন:

তবে শর্ত থাক যে, প্রজাতন্ত্রের বা বিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কর্মের শর্তাবলি কিংবা উক্ত কর্মের শৃঙ্খলা সম্পর্কে আপাতত বলবৎ কোন আইনের অধীন উচ্চতর প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ যে আদেশ, সিদ্ধান্ত কিংবা কোন ব্যবস্থা বাতিল, বদবদল কিংবা সংশোধন করিতে পারেন, উহার উপর উক্ত উচ্চতর কর্তৃপক্ষ কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা পর্যন্ত তৎসম্পর্কে প্রশাসনিক ট্রাইবুনালের নিকট কোন আবেদন পেশ করা যাইবে না:

[তবে আরো শর্ত থাকে যে, পূর্ববর্তী প্রভিশোতে উল্লিখিত আদেশ, সিদ্ধান্ত অথবা ব্যবস্থা সম্পর্কিত পুনর্বিবেচনার আবেদন বা আপিলের উপর আবেদন বা আপিল দাখিলের ২ (দুই) মাসের মধ্যে উচ্চতর প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সিদ্ধান্ত গৃহীত না হওয়ার ক্ষেত্রে উক্ত সময়সীমা অতিক্রান্ত হইলে এই ধারার অধীন প্রশাসনিক ট্রাইবুনালে আবেদন করার উদ্দেশ্যে আপিল অনুরূপ উচ্চতর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে।]

তবে আরো শর্ত থাকে যে, অনুরূপ আবেদন, ক্ষেত্রমত, সংশ্লিষ্ট আদেশ, সিদ্ধান্ত বা ব্যবস্থা প্রদান বা গ্রহণ অথবা উচ্চতর প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিষয়টির উপর সিদ্ধান্ত গ্রহণের তারিখ হইতে ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে পেশ করা না হইলে প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল কর্তৃক গৃহীত হইবে না।

(৩) এই ধারায় “প্রজাতন্ত্রের কর্মে অথবা বিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কর্মে নিযুক্ত” বলিতে যিনি অনুরূপ কর্মেরত বা অবসরপ্রাপ্ত অথবা কর্ম হইতে বরখাস্তকৃত, অপসারিত বা অব্যাহতি প্রাপ্ত (Discharged) হইয়াছেন তাঁহাকে বুঝাইবে, কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে অথবা বর্ডার বাংলাদেশ-এ নিযুক্ত কোন ব্যক্তি হইহার অন্তর্ভূক্ত হইবেন না।

৫। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইবুনাল।-(১) এই আইনের উদ্দেশ্যে সরকার সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি দ্বারা একটি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইবুনাল প্রতিষ্ঠা করিবে।

(২) প্রশাসনিক আপিল ট্রাইবুনাল সরকার কর্তৃক নিযুক্ত একজন চেয়ারম্যান এবং দুইজন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে।

(৩) যিনি সুপ্রীম কোর্টের বিচারক পদে বহাল আছেন, বা ছিলেন, বা সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্য, এইরূপ ব্যক্তি চেয়ারম্যান নিযুক্ত হইবেন এবং অন্য দুইজন সদস্যের মধ্যে একজন যিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মে সরকারের যুগ্ন সচিবের পদমর্যাদার নিম্নে নয় এইরূপ পদে অধিষ্ঠিত আছে বা ছিলেন এবং অন্যজন যিনি জেলা জজ পদে বহাল আছে বা ছিলেন এইরূপ ব্যক্তি হইবেন।

(৪)প্রশাসনিক আপিল ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান অথবা অন্য যে কোন সদস্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্তাধীনে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।

৬। প্রশাসনিক আপিল ট্রাউবনালের এখতিয়ার। (১) প্রশাসনিক আপিল ট্রাইবুনাল, প্রশাসনিক ট্রাইবুনালের যে কোন আদেশ বা সিদ্ধান্তের উপর আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তি করার এখতিয়ার সম্পন্ন হইবে।

(২) প্রশাসনিক ট্রাইবুনালের আদেশ বা সিদ্ধান্তের দ্বারা সংক্ষুদ্ধ যে কোন ব্যক্তি উক্ত আদেশ বা সিদ্ধান্তের তারিখের তিন মাসের মধ্যে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইবুনাল সমক্ষে আপিল দায়ের কারিতে পারিবেন।

[২এ) উপ-ধারা (২) তে যাহা কিছুই বিধান থাকুক না কেন, আপিলকারী যদি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইবুনালকে এই মর্মে পরিতুষ্ট করিতে পারেন যে, তিন মাস সময় সীমার মধ্যে আপিল দায়ের করিতে না পারার যথেষ্ট কারণ রহিয়াছে, তাহা হইলে উক্ত উপ-ধারায় বর্ণিত তিন মাসের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও, তবে ছয় মাসের পরে নয়, আপিল গ্রহণ করা যাইবে।]

(৩) প্রশাসনিক আপিল ট্রাইবুনাল, প্রশাসিনক ট্রাইবুনালের কোন আদেশ বা সিদ্ধান্তের উপর আপিল করা হইলে তাহা অনুমোদন, বাতিল, রদবদল বা সংশোধন করিতে পারিবে, এবং প্রশাসনিক আপিল ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্ত [ধারা -৬এ এর বিধান সাপেক্ষে চূড়ান্ত হইবে।]

প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল আইন, ১৯৮০ : ডাউনলোড

admin

আমার ব্লগের কোন কন্টেন্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে বা জানাতে ইমেইল করতে পারেন admin@bdservicerules.info ঠিকানায়।

Leave a Reply