সর্বশেষ প্রকাশিত পোস্টসমূহ

নারীর ক্ষমতায়নে মাইলফলক ২০২৬ । প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন হয়েছে?

দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত নারীপ্রধান পরিবারগুলো মাসিক ২,৫০০ টাকা করে সরকারি ভাতা পাবেন।

প্রতিশ্রুতি পূরণের আবেগঘন মুহূর্ত

বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপের বাটন চেপে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কর্মসূচির সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন,

“এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি আমরা নির্বাচনের আগে জনগণকে দিয়েছিলাম। সরকার গঠনের এক মাসের কম সময়ের মধ্যে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারা আমার ব্যক্তিগতভাবে যেমন আবেগের, তেমনি আমার দল বিএনপির জন্য একটি ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় দিন।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাই নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও ক্ষমতায়িত না করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

সরাসরি সুবিধাভোগীর হাতে টাকা

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকজন নারীর হাতে প্রতীকী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন। সুবিধাভোগীদের একজন রাশেদা বেগম কার্ড গ্রহণের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, তাঁর অ্যাকাউন্টে ইতোমধ্যেই ভাতার টাকা জমা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:

  • ভাতার পরিমাণ: প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা।

  • পদ্ধতি: উপকারভোগীর পছন্দমতো মোবাইল ওয়ালেট (বিকাশ/নগদ ইত্যাদি) অথবা ব্যাংক হিসাবে সরাসরি টাকা পৌঁছে যাবে।

  • প্রাথমিক লক্ষ্য: আপাতত ৩৭,৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।

দুর্নীতিমুক্ত ডিজিটাল সেবা

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, এই কার্ড নিয়ে কোনো ধরনের রাজনীতি বা দুর্নীতির সুযোগ নেই। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত অভাবী নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে বাছাই করা হয়েছে এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি তাদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বর্তমানে ১৪টি স্থানে এই কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সকল যোগ্য পরিবারের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা কি কি?

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিবরণ অনুযায়ী, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির প্রধান সুবিধাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

ফ্যামিলি কার্ডের মূল সুবিধাসমূহ:

  • নিশ্চিত মাসিক ভাতা: এই কার্ডের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে সরকারি ভাতা পাবেন।

  • সরাসরি অর্থ প্রাপ্তি (G2P): ভাতার টাকা সরাসরি উপকারভোগীর পছন্দমতো মোবাইল ওয়ালেট (যেমন: বিকাশ, নগদ) অথবা ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে যাবে। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনো ঝামেলা থাকবে না।

  • ঘরে বসে সেবা: টাকা তোলার জন্য কোনো সরকারি অফিসে দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না। উপকারভোগীরা ঘরে বসেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাদের পাওনা টাকা পেয়ে যাবেন।

  • দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়া: পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল হওয়ার কারণে এতে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর সুযোগ থাকবে না।

  • নারীর ক্ষমতায়ন: সরাসরি নারীপ্রধান পরিবারের হাতে টাকা পৌঁছানোর ফলে তাঁরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন এবং পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের ভূমিকা বাড়বে।

  • সামাজিক নিরাপত্তা: বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের (যেমন: কড়াইল বস্তি এলাকার মতো স্থান) নারীদের জন্য এটি একটি টেকসই সামাজিক সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করবে।


সংক্ষেপে তথ্যসূত্র:

“সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, মাসিক ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাওয়া যাবে। এই টাকা মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে সরাসরি চলে আসবে।”


admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *