বাংলাদেশে কৃষক কার্ড ২০২৬ । ৯ উপজেলায় কৃষক কার্ড পাইলট প্রকল্প পহেলা বৈশাখের মধ্যে চালু হচ্ছে?
দেশের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে এবং কৃষি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আগামী পহেলা বৈশাখের (১৪ এপ্রিল) মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রাথমিকভাবে দেশের ৮টি বিভাগের ৯টি উপজেলায় পাইলট ভিত্তিতে এই কার্যক্রম শুরু হবে।
গত বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পাইলট প্রকল্পের আওতায় যে ৯ উপজেলা
সারাদেশে একযোগে চালু করার আগে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এই প্রকল্পের কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। নির্বাচিত উপজেলাগুলো হলো:
টাঙ্গাইল সদর (ঢাকা বিভাগ)
বগুড়ার শিবগঞ্জ (রাজশাহী বিভাগ)
পঞ্চগড় সদর (রংপুর বিভাগ)
জামালপুরের ইসলামপুর (ময়মনসিংহ বিভাগ)
ঝিনাইদহের শৈলকুপা (খুলনা বিভাগ)
পিরোজপুরের নেক্সারাবাদ (বরিশাল বিভাগ)
মৌলভীবাজারের জুড়ী (সিলেট বিভাগ)
কুমিল্লা সদর ও কক্সবাজারের টেকনাফ (চট্টগ্রাম বিভাগ)
কৃষক কার্ডের সুবিধা ও উদ্দেশ্য
কৃষিমন্ত্রী জানান, এই কার্ডটি অনেকটা ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আদলে কাজ করবে, তবে এর লক্ষ্য আরও ব্যাপক। কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা যেসব সুবিধা পাবেন: ১. সরাসরি আর্থিক সহায়তা: ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা গড়ে ২,৫০০ টাকা করে সরাসরি নগদ সহায়তা বা উপকরণ ভর্তুকি পাবেন। ২. উপকরণ প্রাপ্তি: ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরাসরি ডিলারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা যাবে। ৩. তথ্য ভাণ্ডার: কৃষকের জমি, উৎপাদিত ফসল, এবং ব্যবহৃত বীজের জাত সংক্রান্ত সকল তথ্য একটি ডিজিটাল ডাটাবেজে থাকবে, যা সরকারকে সঠিক নীতি নির্ধারণে সহায়তা করবে। ৪. অন্যান্য সেবা: সাশ্রয়ী মূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজার দরের সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে।
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে প্রাক-পাইলট পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী ৪ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এই কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।
বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী ছাড়াও কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি তদারকির জন্য অর্থ সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
কৃষক কার্ডের সুবিধা কি কি?
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সুবিধা ও সহায়তা পাবেন। আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই কার্ডের প্রধান সুবিধাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সরাসরি আর্থিক সহায়তা: কৃষক কার্ডধারী ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা নির্দিষ্ট মাধ্যমে গড়ে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত নগদ সহায়তা বা উপকরণ ভর্তুকি পাবেন।
২. ভর্তুকি মূল্যে কৃষি উপকরণ: এই কার্ড ব্যবহার করে কৃষকরা সরকারি নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যে সার, উন্নত মানের বীজ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরাসরি ডিলারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।
৩. সহজ শর্তে কৃষি ঋণ: কার্ডধারী কৃষকরা ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
৪. ডিজিটাল তথ্য ভাণ্ডার: কৃষকের জমির পরিমাণ, উৎপাদিত ফসলের ধরন এবং বীজের জাত সংক্রান্ত সকল তথ্য একটি ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে সরকার সরাসরি কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করতে পারবে।
৫. সেচ ও অন্যান্য সেবা: সাশ্রয়ী মূল্যে সেচ সুবিধা এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যাবে। এছাড়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়া এবং ফসলের বর্তমান বাজার দর সম্পর্কে সঠিক তথ্য দ্রুত পাওয়া সম্ভব হবে।
৬. স্বচ্ছতা ও মধ্যস্বত্বভোগী নিরসন: কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি সুবিধা প্রদান করার ফলে সরকারি সহায়তা প্রাপ্তিতে স্বচ্ছতা আসবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমে যাবে।
মূলত, আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এই সুবিধাগুলো নির্দিষ্ট ৯টি উপজেলায় প্রাথমিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে।



