সাময়িক বরখাস্তকালে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী কর্মস্থলেই অবস্থান করিবেন। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতিক্রমে অন্য গমণ করিতে পারিবেন। (স্মারক নং (ED(Reg-VI)/S-93/79-87(500), তারিখ: ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮০)

সাময়িক বরখাস্ত সংক্রান্ত অন্যান্য বিধান।

(ক) সাময়িক বরখাস্ত থাকার সময়ে ছুটি প্রদান: (ক) সাময়িক বরখাস্ত থাকার সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে ছুটি প্রদান করা যাইবে না। (বিএসআর, পার্ট-১ এর বিধি-৭৪)

(খ) ছুটি ভোগরত অবস্থায় সাময়িক বরখাস্ত: ছুটি ভোগরত অবস্থায় কোন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হইলে, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দানের তারিখ হইতে ছুটি বাতিল হইবে। (বিএসআর, পার্ট-১ এর বিধি-৭৪ এর ১ নং নোট)।

(গ) সাময়িক বরখাস্ত থাকার সময়ে এসিআর লিখন: সাময়িক বরখাস্ত থাকা কালে কোন সরকারী কর্মচারীর বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন প্রয়োজন হইবে না। ইহার স্থলে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ বা বিজ্ঞপ্তি ডোসিয়ারে রাখা হইবে। (স্মারক নং-০৫.১০২.২২.০১.০০.০০১.২০১২-৫৮, তারিখ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২ দ্বারা জারিকৃত গোপনীয় অনুবেদন ফরম পূরণ, অনুস্বাক্ষরসহ লিখন, প্রতিস্বাক্ষর ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত অনুশাসনমালা এর অনুচ্ছেদ-২.৭.৪)

(ঘ) সাময়িক বরখাস্ত কর্মচারীর পদ পূরন: সাময়িক বরখাস্তকালে সংশ্লিষ্ট ব্যীক্ত নিজস্ব পদটি দখল করিয়া রাখেন। ফলে উক্ত পদটি পদশুন্য হিসাবে বিবেচিত হয় না বিধায় ঐ পদে নিয়োগ করা যায় না। তবে বিশেষ কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে অত্যাবশ্যকীয় হইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে এই উদ্দেশ্যে সুপারনিউমারি পদ সৃষ্টি করা যাইবে। কিস্তু সাময়িক বরখাস্তকৃত ব্যক্তি সাময়িক বরখাস্তের মেয়া শেষ হওয়ার বা চাকরিতে পুনর্বহাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুপারনিউমারি পদটি বিলপ্ত হইবে। (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্বারক R-III/IS-128/69/50 তারিখ: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০)

(ঙ) সাময়িক বরখাস্তকাল কর্মস্থলে অবস্থান: সাময়িক বরখাস্তকালে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী কর্মস্থলেই অবস্থান করিবেন। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতিক্রমে অন্য গমণ করিতে পারিবেন। (স্মারক নং (ED(Reg-VI)/S-93/79-87(500), তারিখ: ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮০)

(চ) চাকরি হইতে বরখাস্ত, অপসারণ বা বাধ্যতামূলক অবসরদানের আদেশ আদালত কর্তৃক বাতিল হওয়ার পর পুন: তদন্তের ক্ষেত্রে সাময়িক বরখাস্তকরণ:

সরকারী কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা, ১৯৮৫ এর ১১ বিধির (৩) উপবিধির বিধান অনুযায়ী চাকরি হইতে বরখাস্ত, অপসারণ বা বাধ্যতামূলক অবসরদানের আদেশ কোন আদালত বা প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল কর্তৃক বাতিল হইলে কর্তৃপক্ষ মামলার অবস্থাদি বিবেচনাপূর্বক বিষয়টি পুন: তদন্ত করিতে পারিবেন। কর্তৃপক্ষ যদি পুন: তদন্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তাহা হইলে প্রথম যে তারিখ হইতে চাকরি হইতে বরখাস্ত বা অপসারণ বা বাধ্যতামূলক অবসরদানের দন্ড আরোপ করা হইয়াছিল, ঐ তারিখ হইতে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী সাময়িকভাবে বরখাস্ত আছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইহা চলিতে থাকিবে। এই ক্ষেত্রে সাময়িক বরখাস্তকরণ বাধ্যতামূলক।

(ছ) সাময়িক বরখাস্তের পর পুর্নবহাল: সরকারী কর্মচারী (শৃংখলা ও আপিল) বিধিমালা, ১৯৮৫ এর বিধি-১৩ এর উপবিধি (২) এর বিধান অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্তের পর পুর্নবহাল বাংলাদেশ সার্ভিস রুলের বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে। এই সম্পর্কে বিএসআর, পার্ট-১, এর ৭২ নং বিধিতে বলা হয়েছে যে, সাময়িক বরখাস্তকৃত কোন কর্মচারীর সাময়িক বরখাস্ত অন্যায্য হইলে বা সম্পূর্ণ ন্যায় সংগত না হইলে দন্ড আরোপকারী কর্তৃপক্ষ, আপিল কর্তৃপক্ষ বা আদেশ সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত কর্মচারীকে নিম্নোক্ত সুবিধাদি মঞ্জুর করিতে পারিবেন-

(ক) অভিযোগ হইতে সসম্মানে অব্যাহতি পাইলে পূর্ণ বেতন ও ভাতাদি মঞ্জুর করিতে পারিবেন। এই ক্ষেত্রে অনুপস্থিতকাল কর্মকাল হিসাবে গণ্য হইবে।

(খ) সসম্মানে অব্যাহতি ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে বেতন ও ভাতাদির কি পরিমাণ প্রদান করা হইবে, সে সম্পর্কে আদেশ দিতে হইবে। ইহাছাড়া অনুপস্থিতকাল কর্মকাল হিসাবে না কি ছুটি হিসাবে গণ্য হইবে, সে সম্পর্কে আদেশ দিতে হইবে। ছুটি হিসাবে গণ্য করা হইলে, উক্ত ছুটির হিসাব হইতে বাদ যাইবে। প্রদত্ত খোরাকী ভাতা ছুটিকালীন বেতনের সহিত সমন্বয় করিতে হইবে। তবে এই সময়কে অসাধারণ ছুটি হিসাবে গণ্য করা হইলে ইতিমধ্যে প্রদানকৃত খোরাকী ভাতা সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নিকট হইতে আদায় করা যাইবে না।

প্রশ্নোত্তর পর্ব:

  • প্রশ্ন: সাময়িক বরখাস্তকালে অফিসে যেতে হবে কি?
  • উত্তর: অবশ্যই।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে বিস্তারিত জানতে admin@bdservicerules.info ঠিকানায় মেইল করতে পারেন।

admin has 3023 posts and counting. See all posts by admin

16 thoughts on “Government Staff Suspension Period । সাময়িক বরখাস্তকালে অফিসে যেতে হবে কি?

  • একজন কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন ২০০৫ এর পে-স্কেলের পর তবে তিনি কি ২০০৫ এর স্কেলেই খোরাকি ভাতা পাবেন। নাকি ২০০৯ ও ২০১৫ এর পে-ফিক্সিশন করে নতুন বেসিকের উপর খোরাকি ভাতা পাবেন।

  • সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন সময়ে যদি অসুস্থতাজনিত কারণে অনুপস্থিত থাকা হয় সেইখেএে বকেয়া খোরাকী ভাতা পাওয়া যাবে কিভাবে?

  • নৈমিত্তিক ছুটি দেখাবে। যদি অধিক সময় হয় তবে কর্তৃপক্ষের নিকট ছুটি আবেদন করবেন। খোরাকি ভাতা কোডে টাকা থাকলে এখনও অটোমেটিক ইএফটিতে চলে যাবে।

  • আমি কৃষি ব্যাংকে চাকুরীকালিন গত ২৫.১১.২০১৯ হতে সাময়িক বরখাস্ত আছি সেই সময় হতে ৩০.০৩.২০২০ পরযন্ত আমি ব্যাংকে অনুপস্থিত আবার ০১.০৪.২০২১ হতে আমার হাজিরা নিচ্ছে এবং খোরাকি ভাতা প্রদান করছে। তাহলে বকেয়া খোরাকী ভাতা কিভাবে পাওয়া যাবে

  • কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে বকেয়ার জন্য ম্যানুয়াল বিল দাখিল করবেন।

  • কতৃপক্ষের অনুমতি না দিলে কি বকেয়া খোরাকী ভাতা পাব না? এটার আসলে বিধি কি?

  • না। এখন পাবেন না। বিধি হচ্ছে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত আপনি সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় অনুপস্থিত থাকতে পারবেন না। অন্য দিকে কর্তৃপক্ষ আপনার অনুকুেলে কোন ছুটিও মঞ্জুর করিতে পারিবেন না।

  • আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জব করি। ২০১৬ সাল থেকে সাময়িক বরখাস্ত আছি। চলমান ইএফটি অনুযায়ী গত এপ্রিল থেকে সাময়িক বরখাস্ত কোডে কোন বাজেট না থাকায় বেতন পাচ্ছিনা। এখন করণীয় ও সহযোগিতা কামনা করছি।।

  • সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে বরাদ্দকারী দপ্তরে বাজেট চেয়ে পত্র প্রেরণ করতে হবে। খোরাকী ভাতা খাতে পুন: বরাদ্দ আনতে হবে।

  • আমার বড় ভাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক। তিনি ফৌজদারি মামলার কারণে সাময়িকভাবে বরখাস্ত আছেন। উনাকে কি প্রতিদিনই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে? আর বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে সেখানে কতক্ষন অবস্থান করতে হবে?
    আর বিদ্যালয়ে একেবারেই উপস্থিত না হলে তিনি কি কোনো ক্ষতির সম্মুক্ষীণ হবে?
    জানালে উপকৃত হতাম

  • প্রতিদিনই নিয়মিত অফিস করতে হবে। কর্তৃপক্ষ যতক্ষণ চায় ততক্ষণ। ৯-৫ টা। ক্ষতির সম্মুখীন অবশ্যই হবেন। বিভাগীয় মামলা হয়ে যাবে। খোরাকী ভাতাও পাবেন না।

  • ১। স্মারক নং (ED(Reg-VI)/S-93/79-87(500), তারিখ: ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮০ পত্রটি কি আমার মেইলে দেওয়া যাবে?
    ২। ১ বছরের সাজা হলে কী চাকরী চলে যাবে? নিম্নের বর্ণনা অনুযায়ী ১ (এক) বৎসর মেয়াদের অধিক মেয়াদের কারাদন্ডে দণ্ডিত হলে চাকরী যাবে আর অনূর্ধ্ব ১ (এক) বৎসর মেয়াদের কোনো কারাদণ্ড হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে অর্থ্যাৎ চাকরী যাবে না! সঠিক কোনটি?

    ** ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত কর্মচারীর ক্ষেত্রে ব্যবস্থা-৪২। (১) কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড বা ১ (এক) বৎসর মেয়াদের অধিক মেয়াদের কারাদন্ডে দণ্ডিত হইলে, উক্ত দণ্ড আরোপের রায় বা আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে চাকরি হইতে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত হইবেন।

    (২) কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক অনূর্ধ্ব ১ (এক) বৎসর মেয়াদের কোনো কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইলে, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাহাকে নিম্নবর্ণিত যে কোনো দণ্ড আরোপ করিতে পারিবে, যথা:-

    (ক) তিরস্কার;

    (খ) নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিতকরণ;

    (গ) নিম্ন পদ বা নিম্নতর বেতন স্কেলে অবনমিতকরণ; অথবা

    (ঘ) কোনো আইন বা সরকারি আদেশ অমান্যকরণ অথবা কর্তব্যে ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণে সরকারি অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতি সংঘটিত হইলে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়।

  • চাকরির বিধানাবলী ছিদ্দিকুর রহমানের বই দেখুন।

  • কোন কর্মচারী যদি সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর সে বরখাস্ত আদেশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে, এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয় তাহলে করনীয় কি?

  • সাময়িক বরাখাস্ত পর শাস্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত মামলা তেমন কার্যকর হবে না এবং সাময়িক বরখাস্ত হলেও বিএসআর অনুসারে আপনাকে অফিসে নিয়মিতি যেতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *