১ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রে মাসে ৯১২ টাকা

আপনি মহিলা হয়ে থাকেন এবং আপনি যদি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঝুকিঁমুক্ত বিনিয়োগ করতে চান তবে এই পোস্টটি আপনার জন্য প্রযোজ্য হইবে। আপনি মাত্র ১০ হাজার টাকায় সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন এবং এতে ১১.৫২% মুনফা পাবেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠিত ক্ষুদ্র বিনিয়োগের অভ্যাস গড়তেই ২০০৯ সালে চালু করা হয়েছে পরিবার সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ মাত্র ১০ হাজার টাকা হতে শুরু। এছাড়াও ১০,০০০ টাকা; ২০,০০০ টাকা; ৫০,০০০ টাকা; ১,০০,০০০ টাকা; ২,০০,০০০ টাকা; ৫,০০,০০০ টাকা এবং ১০,০০,০০০ টাকা মূল্যমানের সঞ্চয়পত্র একজন মহিলা ক্রয় করতে পারবেন।

কোথা থেকে কিনবেন সঞ্চয়পত্র সেই চিন্তা?

সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা এখন মুহুর্তেই হয়ে যায়। আপনি যে কোন তফসিলী ব্যাংক হতে অনলাইনে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে পারবেন। এছাড়াও পোস্ট অফিস হতেও সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা যায়। যদিও টিআইএন জমা এবং ব্যাংক চেকের মাধ্যমে এখন সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের বিধান করা হয়েছে। এছাড়া চলতি অর্থ বছর হতে ৫ লক্ষ টাকার অধিক সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে রিটার্ণ বা আয়কর জমার স্লিপ বা রশিদ জমাদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব জটিলতা আপনি সহ্য করতে না পারেন তবে আপনার জন্য ব্যাংক এফডিআর রয়েছে যেখানে ৫% এর বেশি সুদ পাবেন না। মূল্যস্ফিতির সাথে এ সুদ কোন ভাবে যুদ্ধ করে টিকতে পারবেন না ফলে আপনার টাকা কমে যাবে। আর যদি আপনি একটু কষ্ট করতে পারেন তবে জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ তফসিলী ব্যাংকসমূহ এবং ডাকঘর থেকে ক্রয় ও নগদায়ন করতে পারবেন।

নারী ছাড়া আর কে কে কিনতে পারবেন?

হ্যাঁ নারীদের জন্য স্কিম কিন্তু নারী ছাড়াও কিছু বিশেষ পুরুষও এটি কিনতে পারবেন। ১৮ (আঠার) ও তদুর্ধ্ব বয়সের যে কোন বাংলাদেশী মহিলা, যে কোন বাংলাদেশী শারীরিক প্রতিবন্ধী (পুরুষ ওমহিলা) এবং ৬৫ (পঁয়ষট্টি) ও তদুর্ধ্ব বয়সের বাংলাদেশী (পুরুষ ও মহিলা) নাগরিক। সব থেকে বড় বিষয় হচ্ছে মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়েও একজন স্বল্প আয়ের নারী এটি ক্রয় করতে পারবেন।

সর্বোচ্চ কত টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা যাবে?

একক নামে সর্বোচ্চ ৪৫(পঁতাল্লিশ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত পরিবার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা যাবে। মুনাফার হার মেয়াদান্তে ১১.৫২% হারে প্রযোজ্য হইবে অন্যথায় ১ম বছরের জন্য ৯.৫% এবং ২য় বছরের জন্য ১০% এবং ৩য় বছরের জন্য ১০.৫০% এবং ৪র্থ বছরের জন্য ১১% প্রযোজ্য হইবে। পূর্ণ মেয়াদ ১১.৫২% প্রযোজ্য হইবে।

পরিবার সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে যে সমস্ত কাগজপত্র লাগবে ২০২২

ক্রয়ের সময় ক্রেতার ২ (দুই) কপি ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা পাসপোর্টের ফটোকপি, নমিনী থাকলে প্রত্যেকের ২ (দুই) কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি প্রদান করতে হবে। যদি মোট বিনিয়োগ ৫ লক্ষ টাকা উপরে সঞ্চয়পত্র কিনেন তবে আয়কর রিটার্ণ দাখিলের সনদ লাগবে। মোট বিনিয়োগ ৫ লক্ষ টাকার নিচের ক্রয়ের ক্ষেত্রে টিআইএন সার্টিফিকেট হলেই হবে। তবে মোট বিনিয়োগ ২ লক্ষ টাকার নিচে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে টিআইএনও লাগবে না।

প্রতিমাসেই কি মুনাফা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে বা তোলা যাবে?

হ্যাঁ অবশ্যই। মাসিকভিত্তিতে মুনাফা প্রদেয় হয়। তাই মাস শেষেই মুনাফা উত্তোলন করা যাবে। এছাড়াও নমিনী নিয়োগ করা যায়। হারিয়ে গেলে, পুড়ে গেলে বা নষ্ট হলে ডুপ্লিকেটসঞ্চয়পত্র ইস্যু করা যায়। সঞ্চয়পত্র এক স্থান হতে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা যায়।

মেয়াদোত্তীর্ণের পূর্বেই নগদায়ন করলে প্রদেয় মুনাফার হার ২০২২

নগদায়ন কাল মুনাফার হার মন্তব্য
১ম বছরান্তে ৯.৫০% পূর্ণমেয়াদের জন্য ১ (এক) লক্ষ টাকায় প্রতি মাসে মুনাফার কিস্তি সর্বোচ্চ ১১.৫২% হারে টাকা ৯৬০.০০ (নয়শত ষাট) মাত্র প্রদেয় হইবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কর্তন/লেভী কর্তন হইবে। কিন্তু যেক্ষেত্রে মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পূর্বে বিনিয়োগকৃত টাকা উত্তোলন করা হইবে, সেক্ষেত্রে উপরের ছক-১ (পরিবার সঞ্চয়পত্রে বছরভিত্তিক প্রদেয় মুনাফার হার)-এ প্রদর্শিত বছরভিত্তিক হারে মুনাফা প্রদেয় হইবে এবং অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধিত হইয়া থাকিলে উহা মূল টাকা হইতে কর্তন করিয়া সমন্বয়পূর্বক অবশিষ্ট মূল টাকা পরিশোধ করিতে হইবে।
২য় বছরান্তে ১০.০০%
৩য় বছরান্তে ১০.৫০%
৪র্থ বছরান্তে ১১.০০%
৫ম বছরান্তে ১১.৫২%

এছাড়াও স্ল্যাব ভিত্তিক হারে মুনাফার হার আরও কমবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এখন এই সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার কমিয়ে করা হয়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই হার সাড়ে ৯ শতাংশ। সঞ্চয়পত্র মুনাফার হার ২০২২

পরিবার সঞ্চয়পত্র নিয়ে আরও একটু পরিস্কার হওয়া যায় যে, ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে ১১.৫২% মুনাফা প্রাপ্য হবেন ৫ মেয়াদ পূর্ন করলে অন্যথায় ভিন্ন রেট প্রযোজ্য নয়। ১৫ লক্ষ টাকার উপরে কিন্তু ৩০ লক্ষ টাকার নিচে বিনিয়োগ হলে পাবেন ১০.৫০% হারে মুনাফা মেয়াদান্তে কিন্তু ৫ বছর পূর্ণ করার পূর্বে ভাঙ্গলে ভিন্ন রেট প্রযোজ্য। ৩০ লক্ষ টাকার উপরে বিনিয়োগ থাকলে ৯.৫০% হারে মুনাফা প্রাপ্য হবেন। সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের সর্বোচ্চ সীমা ২০২২

১০ হাজার টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে কর কর্তনের পূর্বে প্রদেয় হার ২০২২

বিনিয়োগের

পরিমাণ  (টাকায়)

ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে প্রদেয়

মুনাফার পরিমাণ (টাকায়)

মন্তব্য
(ক)     ১০,০০০.০০ ৯৬.০০

মাসিক মুনাফা উত্তোলনের পর ৫ (পাঁচ) বছর মেয়াদ শেষে মূল বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পাওয়া যাইবে।

 

(খ)      ২০,০০০.০০ ১৯২.০০
(গ)      ৫০,০০০.০০ ৪৮০.০০
(ঘ)      ১,০০,০০০.০০ ৯৬০.০০
(ঙ)      ২,০০,০০০.০০ ১,৯২০.০০
(চ)      ৫,০০,০০০.০০ ৪,৮০০.০০
(ছ)      ১০,০০,০০০.০০ ৯,৬০০.০০

মেয়াদপূর্তির পূর্বে নগদায়নের ক্ষেত্রে ১ (এক) লক্ষ টাকায় ফেরতযোগ্য টাকার পরিমাণ ২০২২

সময়সীমা মাসিক মুনাফা উঠাইয়া বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত গ্রহণ করিলে প্রাপ্য টাকার পরিমাণ
১ম বৎসর চলাকালীন ১,০০,০০০ – গৃহীত মুনাফা
২য় বৎসর চলাকালীন ১,০৯,৫০০- গৃহীত মুনাফা
৩য় বৎসর চলাকালীন ১,২০,০০০- গৃহীত মুনাফা
৪র্থ বৎসর চলাকালীন ১,৩১,৫০০ – গৃহীত মুনাফা
৫ম বৎসর চলাকালীন ১, ৪৪,০০০ – গৃহীত মুনাফা

 

বি:দ্র: সঞ্চয়পত্র ব্যাংক ঋণের জন্য জামানত/আমানত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। ব্যবসা-বানিজ্যে সঞ্চয়পত্র জামানত হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না। ডিপিএস কে আপনি ঋণের বিপরীতে ব্যবহার করতে পারেন কিন্তু সঞ্চয়পত্রকে পারা যাবে না। তবে ডিপিএস এর সুদের হার খুবই কম। বর্তমানে ৫% এর কাছাকাছি হারে সুদ পাবেন যা মূল্যস্ফিতিকে ক্রস করে না। এতে টাকার মান কমার সাথে সাথে আপনার মূল টাকা কমে যাচ্ছে তা আপনি টেরও পাচ্ছেন না। তাই মূল্যস্ফিতি মাথায় রেখে বিনিয়োগ করতে হবে।

সঞ্চয়পত্রে প্রতি লাখে মাসিক ৯১২.০০ টাকা মুনাফা!

Leave a Reply

Your email address will not be published.