আইবাস++ । পে ফিক্সেশন । ই-ফাইলিং

অনলাইনে বেতন নির্ধারণী নিয়ে জরুরি নোটিশ: ১ অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে শুরু, দেখুন বিভাগভিত্তিক সূচি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী অনলাইনে বেতন নির্ধারণ বা Pay Fixation কার্যক্রম ধাপে ধাপে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য iBAS++-এর মাধ্যমে বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম বাস্তবায়নে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ভিত্তিক একটি সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে বলে প্রদত্ত নোটিশের ছবিতে দেখা যাচ্ছে।

প্রদত্ত সূচি অনুযায়ী, ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে পাইলট কার্যক্রমের মাধ্যমে অনলাইন বেতন নির্ধারণ শুরু হবে। এরপর ৫, ৮, ১২, ১৫ ও ১৮ অক্টোবর বিভিন্ন পর্যায়ে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

এদিকে iBAS++-এর সরকারি ওয়েবসাইটেও বর্তমানে অনলাইনে বেতন নির্ধারণের ব্যবস্থা, লগইন এবং ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থায় NID, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর এবং OTP ব্যবহার করে প্রবেশের অপশন রয়েছে।

যে সূচিতে অনলাইনে বেতন নির্ধারণ শুরু হবে

প্রদত্ত নোটিশের তথ্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে কার্যক্রমের সূচি হলো—

ক্রমবিভাগ/কার্যালয়বেতন নির্ধারণ শুরুর তারিখমন্তব্য
১ঢাকা—সিজিএ, অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং ডিএফও, গাজীপুর১ অক্টোবর ২০২৬পাইলট কার্যক্রম
২ঢাকার সকল সিজিএ কার্যালয়৫ অক্টোবর ২০২৬পরবর্তী ধাপ
৩ঢাকা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট ডিডিএও/ইউএও৮ অক্টোবর ২০২৬ধাপে সম্প্রসারণ
৪রাজশাহী বিভাগ৮ অক্টোবর ২০২৬সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়
৫চট্টগ্রাম বিভাগ১২ অক্টোবর ২০২৬সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়
৬সিলেট বিভাগ১৫ অক্টোবর ২০২৬সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়
৭ময়মনসিংহ বিভাগ১৫ অক্টোবর ২০২৬সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়
৮রংপুর বিভাগ১৫ অক্টোবর ২০২৬সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়
৯খুলনা বিভাগ১৮ অক্টোবর ২০২৬সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়
১০বরিশাল বিভাগ১৮ অক্টোবর ২০২৬সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়

গুরুত্বপূর্ণ: ওপরের তারিখগুলো প্রদত্ত ছবিতে থাকা সূচি থেকে নেওয়া। ওয়েবে পাওয়া সরকারি iBAS++ পেজে অনলাইন বেতন নির্ধারণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলেও এই নির্দিষ্ট বিভাগভিত্তিক সূচির পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিজ্ঞপ্তি আলাদাভাবে পাওয়া যায়নি। তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনাকেও প্রাধান্য দিতে হবে।

পে ফিক্সেশন কীভাবে হবে

নতুন ব্যবস্থায় সরকারি কর্মচারীকে iBAS++-এর Pay Fixation অপশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। সরকারি নির্দেশনার বর্ণনা অনুযায়ী, তথ্য পূরণ করে ডিডিওর কাছে সাবমিট করার আগেই সিস্টেমে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নির্ধারণযোগ্য নতুন মূল বেতন স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হওয়ার কথা।

এরপর কর্মচারী তথ্য সাবমিট করলে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে স্বয়ংক্রিয় SMS পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। গেজেটেড কর্মকর্তা ও নন-গেজেটেড কর্মচারীর প্রবেশ ও যাচাই প্রক্রিয়ায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে NID ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে প্রবেশের ব্যবস্থা রয়েছে।

ডিডিও ও হিসাবরক্ষণ অফিসের ভূমিকা

অনলাইনে কর্মচারী কর্তৃক তথ্য দাখিলের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট Drawing and Disbursing Officer (DDO)-এর কাছে যাবে।

গেজেটেড কর্মকর্তার বেতন নির্ধারণী বিবরণী ডিডিও সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে ফরওয়ার্ড করবেন। নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সার্ভিস বই অনুযায়ী পূর্ববর্তী চাকরি ও বেতনের তথ্য সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্বও ডিডিওর ওপর থাকবে।

এরপর হিসাবরক্ষণ অফিস অনলাইনে তথ্য যাচাই করবে। তথ্য সঠিক পাওয়া গেলে তা অনুমোদন করা হবে এবং সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে Verification Number তৈরি হবে। অর্থাৎ আগের মতো হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার ম্যানুয়াল স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে। তবে সার্ভিস বইয়ে নির্ধারিত বেতন ও ভেরিফিকেশন নম্বর লিপিবদ্ধ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে স্বাক্ষর করতে হবে।

জুন ও জুলাই-সেপ্টেম্বরের বেতন নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা

প্রদত্ত নোটিশের ডান পাশের মন্তব্য অংশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী জুন ২০২৬ মাসের বেতন-ভাতা উত্তোলন না করা পর্যন্ত জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা যাবে না।

এ ছাড়া জুলাই ২০২৬ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বেতন-ভাতা জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী সাবমিট না করা পর্যন্ত জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা যাবে না—এমন নির্দেশনাও ছবিতে দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ নতুন বেতন নির্ধারণের আগে পুরোনো বেতনস্কেল অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সময়ের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে একই ধরনের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নতুন বেতন নির্ধারণের আগে সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা পুরোনো জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী সাবমিট করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

কর্মচারীদের এখন কী প্রস্তুতি নিতে হবে?

অনলাইনে পে ফিক্সেশন শুরু হওয়ার আগে সরকারি কর্মচারীদের কয়েকটি বিষয় যাচাই করে রাখা গুরুত্বপূর্ণ—

১. NID-এর তথ্য সঠিক কিনা যাচাই করুন
জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম, জন্মতারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চাকরির রেকর্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

২. জন্মতারিখের অমিল থাকলে আগে সংশোধন করুন
চাকরির রেকর্ড ও NID-এর জন্মতারিখে অমিল থাকলে অনলাইন বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।

৩. নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর সচল রাখুন
অনলাইন প্রক্রিয়ায় OTP/ভেরিফিকেশন কোড ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি iBAS++ লগইন পেজেও মোবাইল/ই-মেইলে ৪ সংখ্যার ভেরিফিকেশন কোড পাঠানোর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে।

৪. সার্ভিস বইয়ের তথ্য মিলিয়ে নিন
নিয়োগ, যোগদানের তারিখ, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, পূর্ববর্তী বেতন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষিত আছে কি না যাচাই করা জরুরি।

৫. ভুল তথ্য দিয়ে সাবমিট না করাই নিরাপদ
অনলাইন ফরমে তথ্য দেওয়ার পর সাবমিশনের আগে নতুন নির্ধারণযোগ্য মূল বেতন দেখানোর কথা রয়েছে। তাই চূড়ান্ত সাবমিশনের আগে প্রদর্শিত তথ্য ও বেতন ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ওয়েবসাইট ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে

প্রদত্ত নোটিশের মন্তব্য অংশে বলা হয়েছে, বেতন নির্ধারণ সংক্রান্ত ওয়েবসাইট ছুটির দিনসহ সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে। ফলে নির্ধারিত ধাপে কার্যক্রম চালু হওয়ার পর কর্মচারীরা সুবিধাজনক সময়ে অনলাইনে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।

তবে ওয়েবসাইট খোলা থাকা এবং কোনো নির্দিষ্ট কর্মচারীর পে ফিক্সেশন করার অনুমতি পাওয়া—দুটি বিষয় এক নয়। সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের ধাপ, কর্মচারীর শ্রেণি এবং দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

iBAS++-এর সরকারি ব্যবস্থায় অনলাইন পে ফিক্সেশন

সরকারি iBAS++ প্ল্যাটফর্মে অনলাইন বেতন নির্ধারণের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বেতন নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং পুরোনো পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থার বিভিন্ন কার্যক্রমও iBAS++-এর মাধ্যমে সম্পন্ন করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬-এর অনলাইন বেতন নির্ধারণের বিধান অনুযায়ী, কর্মচারী iBAS++-এ প্রবেশ করে Pay Fixation অপশনে নির্ধারিত ছক পূরণ করবেন। পূর্বের Pay Fixation ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশ করলেও iBAS++-এর Pay Fixation অপশনে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে প্রকাশিত বিধানের সারাংশে উল্লেখ রয়েছে।

সামনে কী হতে পারে

এই সূচি বাস্তবায়িত হলে প্রথমে সীমিত পরিসরে পাইলট কার্যক্রমের মাধ্যমে অনলাইন পে ফিক্সেশনের কার্যক্রম পরীক্ষা করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে তা সম্প্রসারণের কথা রয়েছে।

এর ফলে নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কর্মচারীর নিজস্ব তথ্য এন্ট্রি, ডিডিও পর্যায়ের যাচাই এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন—এই তিনটি ধাপ ডিজিটাল ব্যবস্থার মধ্যে চলে আসবে। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি হওয়ায় বেতন নির্ধারণের রেকর্ড সংরক্ষণ ও পরবর্তী যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও আরও কাঠামোবদ্ধ হবে।

সারকথা, ১ অক্টোবর থেকে পাইলট কার্যক্রম এবং পরবর্তী সময়ে বিভাগভিত্তিক ধাপে ধাপে অনলাইন পে ফিক্সেশন চালুর এই উদ্যোগ সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে প্রত্যেক কর্মচারীর ক্ষেত্রে নিজের NID, জন্মতারিখ, চাকরির তথ্য, পূর্ববর্তী বেতন, সার্ভিস বই এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা মিলিয়ে তারপর চূড়ান্তভাবে বেতন নির্ধারণী তথ্য সাবমিট করা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি iBAS++ ব্যবস্থায় বর্তমানে অনলাইন বেতন নির্ধারণের লগইন ও OTP ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *