উচ্চতর গ্রেডপ্রত্যাশী পুলিশ সদস্যদের জন্য সুখবর, আবেদন জমার সময় ২৭ সেপ্টেম্বর
জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬ অনুযায়ী উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্য পুলিশ সদস্যদের আবেদন গ্রহণ ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে বাগেরহাট জেলা পুলিশ। দীর্ঘদিন একই পদে দায়িত্ব পালন করেও পদোন্নতি না পাওয়া এবং নির্ধারিত সময় অতিক্রম করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উচ্চতর গ্রেডের আওতায় আনার লক্ষ্যে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাগেরহাট জেলা পুলিশের প্রকাশিত একটি অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী যোগ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে ১ম ও ২য় উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির লক্ষ্যে আবেদন গ্রহণ করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন দাখিল করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নিজ নিজ অফিসের মাধ্যমে তা প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই পদে ৫ বছর পূর্ণ হলে উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ
প্রকাশিত চিঠিতে জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী পদোন্নতি না পেয়ে একই পদে ৫ বছর চাকরিকাল পূর্ণ করেছেন, তারা নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে উচ্চতর গ্রেডের জন্য বিবেচিত হতে পারেন।
অর্থাৎ, দীর্ঘদিন একই পদে চাকরি করার কারণে যারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের জন্য উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। তবে শুধু ৫ বছর চাকরি করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চতর গ্রেড পাওয়া যাবে—এমন কথা চিঠিতে বলা হয়নি; বরং জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬-এর বিধান অনুযায়ী যোগ্যতা ও প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
১ম উচ্চতর গ্রেডের পাশাপাশি ২য় গ্রেডের আবেদন
চিঠিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ইতোমধ্যে ১ম উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন এবং সেই গ্রেড পাওয়ার তারিখ থেকে ৫ বছর পূর্ণ হয়েছে, তারাও নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী ২য় উচ্চতর গ্রেডের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
ফলে নতুন করে শুধু প্রথম উচ্চতর গ্রেডপ্রত্যাশীরাই নয়, আগে উচ্চতর গ্রেড পাওয়া এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এই নির্দেশনার আওতায় আসতে পারেন, যদি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শর্ত পূরণ হয়ে থাকে।
২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন জমা
বাগেরহাট জেলা পুলিশের চিঠিতে যোগ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণের জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে আবেদন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চিঠির ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করে নিজ নিজ অফিসে জমা দিতে হবে। এরপর যাচাই-বাছাইসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
অর্থাৎ, উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা রয়েছে বলে মনে করা পুলিশ সদস্যদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আবেদনের সময়সীমা মেনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন দাখিল করা।
কারা বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারেন?
প্রকাশিত নির্দেশনার আলোকে মূলত দুই ধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এ প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পারেন—
প্রথমত, যারা পদোন্নতি না পেয়ে একই পদে নির্ধারিত ৫ বছর চাকরিকাল পূর্ণ করেছেন এবং জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬ অনুযায়ী ১ম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্য।
দ্বিতীয়ত, যারা ইতোমধ্যে ১ম উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন এবং সেই গ্রেড পাওয়ার তারিখ থেকে নির্ধারিত ৫ বছর পূর্ণ করেছেন, তারা প্রযোজ্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ২য় উচ্চতর গ্রেডের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত চাকরিকাল, পূর্বে পাওয়া উচ্চতর গ্রেডের তারিখ, পদোন্নতির ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট বিধানের অন্যান্য শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন হবে।
শুধু আবেদন করলেই গ্রেড নিশ্চিত নয়
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অফিস আদেশে আবেদন করার নির্দেশনা দেওয়া হলেও এটিকে সরাসরি উচ্চতর গ্রেড মঞ্জুরের আদেশ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাকরিকাল, পদোন্নতি হয়েছে কি না, পূর্বে উচ্চতর গ্রেড নেওয়া হয়েছে কি না এবং জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬-এর প্রযোজ্য শর্ত পূরণ হয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করবে। যাচাই-বাছাই শেষে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাই কোনো পুলিশ সদস্যের ক্ষেত্রে ৫ বছর পূর্ণ হলেও অন্য কোনো প্রযোজ্য শর্ত পূরণ না হলে তার আবেদন আলাদাভাবে যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে পাঠানো হয়েছে চিঠি
বাগেরহাট জেলা পুলিশের চিঠির নিচের অংশে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পুলিশ ইউনিট ও কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি অবহিত করার জন্য অনুলিপি দেওয়ার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাটের বিভিন্ন পুলিশ কার্যালয়, থানা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বোঝা যায়, বিষয়টি শুধু একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির আবেদন নয়; বরং জেলার বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে কর্মরত যোগ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে আবেদন সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই নির্দেশনাটি জারি করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষায় থাকা সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি
পুলিশ বাহিনীতে একই পদে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেও পদোন্নতির সুযোগ না পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য উচ্চতর গ্রেড একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও প্রশাসনিক বিষয়। উচ্চতর গ্রেডের মাধ্যমে নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন আসতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর আর্থিক সুবিধাও প্রভাবিত হতে পারে।
জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণের এই উদ্যোগ তাই সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে একই পদে রয়েছেন এবং পদোন্নতির সুযোগ পাননি, তাদের জন্য যোগ্যতা যাচাই করে উচ্চতর গ্রেডের আবেদন করার সুযোগ তৈরি হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আবেদনকারীদের করণীয়
যোগ্য পুলিশ সদস্যদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—
- জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬-এর প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী নিজের যোগ্যতা যাচাই করা;
- একই পদে চাকরিকাল ৫ বছর পূর্ণ হয়েছে কি না তা যাচাই করা;
- আগে ১ম উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে সেটি পাওয়ার তারিখ থেকে ৫ বছর পূর্ণ হয়েছে কি না দেখা;
- প্রয়োজনীয় চাকরিসংক্রান্ত তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত করা;
- নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন দাখিল করা;
- ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সময়সীমা মেনে আবেদন জমা দেওয়া।
শেষ কথা
বাগেরহাট জেলা পুলিশের এই নির্দেশনা জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬ বাস্তবায়নের পর পুলিশ সদস্যদের উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তবে এটি বাগেরহাট জেলা পুলিশের জারি করা নির্দেশনা—এটিকে সরাসরি দেশের সব পুলিশ সদস্যের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে জারি করা সাধারণ আদেশ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
যোগ্যতা পূরণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই এবং পরবর্তী অনুমোদনের মাধ্যমেই উচ্চতর গ্রেডের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। তাই যাদের ক্ষেত্রে ১ম বা ২য় উচ্চতর গ্রেডের প্রযোজ্যতা রয়েছে, তাদের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন দাখিল করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: বাগেরহাট জেলা পুলিশ কার্যালয়ের ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের “জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬ অনুযায়ী উচ্চতর গ্রেডের আবেদন প্রেরণ প্রসঙ্গে” শিরোনামের অফিস আদেশ।



