কুষ্ঠ ও যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে কর্মরতদের ঝুঁকি ভাতা পুনর্নির্ধারণ, মাসে ৯০০ টাকা
জাতীয় বেতনস্কেলের আওতাভুক্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কুষ্ঠ ও যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মচারীদের জন্য মাসিক ঝুঁকি ভাতা পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী কর্মচারীরা মাসিক ৯০০ টাকা ঝুঁকি ভাতা পাবেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রযুক্তি অনুবিভাগের প্রযুক্তি-৩ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনটি ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের গেজেট তালিকাতেও ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি ভাতা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত এই আদেশটি প্রকাশিত হওয়ার তথ্য রয়েছে।
কারা পাবেন এই ঝুঁকি ভাতা?
প্রজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কুষ্ঠ ও যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের মধ্যে যারা পূর্বে ঝুঁকি ভাতা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, তাদের জন্য নতুন করে মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আওতায় রয়েছে—
- ২৭৫টি সংশ্লিষ্ট উপজেলায় কর্মরত এলএসএ/টিএলএসএ (গ্রেড-১৬) পর্যায়ের কর্মচারী;
- ৩৬টি সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মরত প্রোগ্রাম অর্গানাইজার (গ্রেড-১৪);
- কুষ্ঠ ও যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং পূর্বনির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী ঝুঁকি ভাতা পাওয়ার যোগ্য অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারী।
অর্থাৎ, শুধু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মচারী হলেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। কুষ্ঠ ও যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত পদ/কর্মস্থলের শর্ত পূরণ করতে হবে।
মাসে ৯০০ টাকা—নতুন হারে ঝুঁকি ভাতা
প্রজ্ঞাপনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের অনুকূলে মাসিক ৯০০ টাকা ঝুঁকি ভাতা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
এটি মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন বেতন নির্ধারণের অংশ হবে না; বরং নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী কর্মচারীদের জন্য পৃথক ঝুঁকি ভাতা হিসেবে বিবেচিত হবে।
নতুন জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬-এর সামগ্রিক কাঠামোর মধ্যেও বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মচারীদের জন্য পৃথক ঝুঁকি ভাতা পুনর্নির্ধারণের ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের গেজেট তালিকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি পুলিশ, কারাগার, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি ভাতা সংক্রান্ত পৃথক আদেশও প্রকাশিত হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: কার্যকর হবে ২০২৮ সাল থেকে
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন আদেশটি ১ জানুয়ারি ২০২৮ তারিখ থেকে কার্যকর হবে।
অর্থাৎ, ২০২৬ সালে প্রজ্ঞাপন জারি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই ৯০০ টাকা পাওয়া শুরু করবেন—এমনটি এই আদেশে বলা হয়নি।
বরং নির্ধারিত কার্যকর তারিখ অনুযায়ী ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে মাসিক ৯০০ টাকা ঝুঁকি ভাতা প্রযোজ্য হবে।
এটি নতুন জাতীয় পে-স্কেলের ভাতা বাস্তবায়ন কাঠামোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০২৬ সালের নতুন পে-স্কেলের গেজেট অনুযায়ী, বিদ্যমান বিভিন্ন ভাতা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বহাল রাখার পর নতুন হারে ভাতা কার্যকর করার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত কী হবে?
প্রজ্ঞাপনের শর্ত অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত অর্থ বিভাগের ২৩ জুলাই ২০২০ তারিখের সংশ্লিষ্ট স্মারকের ভিত্তিতে এই ঝুঁকি ভাতা পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
অর্থাৎ, নতুন আদেশের ক্ষেত্রে কার্যকর সময়কে ২০২৬ বা ২০২৭ সাল ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকেই নতুনভাবে নির্ধারিত ৯০০ টাকা কার্যকর হওয়ার কথা।
এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বেতন-ভাতা হিসাবের সময় ২০২৬, ২০২৭ এবং ২০২৮—এই তিনটি সময়কাল আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
২৭৫ উপজেলা ও ৩৬ জেলার কর্মীরা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ
প্রজ্ঞাপনে ২৭৫টি সংশ্লিষ্ট উপজেলা এবং ৩৬টি সংশ্লিষ্ট জেলার কথা উল্লেখ থাকায় সিদ্ধান্তটির আওতা বেশ নির্দিষ্ট।
বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত এলএসএ/টিএলএসএ (গ্রেড-১৬) এবং জেলা পর্যায়ের সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মরত **প্রোগ্রাম অর্গানাইজার (গ্রেড-১৪)**দের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ কুষ্ঠ ও যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের মতো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণমূলক কর্মসূচিতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে ঝুঁকির বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত। সরকার সেই দায়িত্বের জন্য নির্ধারিত কর্মীদের পৃথক ঝুঁকি ভাতার আওতায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে ঝুঁকি ভাতার সম্পর্ক
নতুন জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬-এর গেজেট ১৭ সেপ্টেম্বর জারি হয় এবং তা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতার বাস্তবায়ন আলাদা ধাপে করা হয়েছে।
নতুন পে-স্কেলের সাধারণ কাঠামো অনুযায়ী, বিভিন্ন বিশেষ দায়িত্ব, ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ও নির্দিষ্ট কর্মস্থলের জন্য পৃথক ভাতা সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। ফলে কুষ্ঠ ও যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মীদের জন্য ৯০০ টাকা ঝুঁকি ভাতার এই প্রজ্ঞাপনটিকেও নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভাতা পুনর্নির্ধারণের অংশ হিসেবে দেখা যায়।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি
এই প্রজ্ঞাপন সব স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য নয়।
এটি মূলত নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কুষ্ঠ ও যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত পদ ও কর্মস্থলের শর্ত পূরণকারী কর্মচারীদের জন্য।
তাই কোনো কর্মচারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে কর্মরত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৯০০ টাকা ঝুঁকি ভাতা পাওয়ার অধিকারী হবেন—এমন ব্যাখ্যা সঠিক হবে না।
এক নজরে সিদ্ধান্ত
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ভাতার নাম | ঝুঁকি ভাতা |
| খাত | কুষ্ঠ ও যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম |
| ভাতার পরিমাণ | মাসিক ৯০০ টাকা |
| কার্যকর | ১ জানুয়ারি ২০২৮ |
| উপজেলা পর্যায় | ২৭৫টি সংশ্লিষ্ট উপজেলা |
| উপজেলার পদ | এলএসএ/টিএলএসএ, গ্রেড-১৬ |
| জেলা পর্যায় | ৩৬টি সংশ্লিষ্ট জেলা |
| জেলা পর্যায়ের পদ | প্রোগ্রাম অর্গানাইজার, গ্রেড-১৪ |
| প্রজ্ঞাপনের তারিখ | ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| জারি কর্তৃপক্ষ | অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ |
শেষ কথা
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে কুষ্ঠ ও যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নির্দিষ্ট কর্মচারীদের জন্য ঝুঁকি ভাতার একটি নির্ধারিত হার প্রতিষ্ঠিত হলো। তবে ৯০০ টাকা ভাতা এখনই কার্যকর হচ্ছে না—প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, নতুন জাতীয় পে-স্কেলের অধীনে ঝুঁকি ও বিশেষ ভাতা নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের গেজেট তালিকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই ঝুঁকি ভাতা পুনর্নির্ধারণের আদেশটি আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ গেজেট, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এবং বাংলাদেশ সরকারের মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের গেজেট তালিকা।



