পে-স্কেল I গেজেট । প্রজ্ঞাপন । পরিপত্র

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনে নতুন নির্দেশনা: কোন দিবস কীভাবে উদযাপন হবে, থাকছে যেসব নিয়ম

বাংলাদেশে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন ও পালনের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। দিবসগুলোর গুরুত্ব, জাতীয় পর্যায়ে উদযাপনের ধরন, অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যয় এবং সরকারি দপ্তরগুলোর দায়িত্ব নির্ধারণ করে জারি করা হয়েছে এ পরিপত্র। এতে নির্দিষ্ট কিছু দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের পাশাপাশি কিছু দিবস সীমিত পরিসরে পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দিবস ও সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে ব্যয়সংযম, অনুষ্ঠানের সময়সীমা এবং সরকারি কার্যক্রমে বিঘ্ন না ঘটানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পরিপত্রটির তারিখ ১১ অক্টোবর ২০২৬। পাঁচ পৃষ্ঠার এ নির্দেশনায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসের তালিকা, নির্ধারিত তারিখ এবং উদযাপনসংক্রান্ত বিভিন্ন শর্ত তুলে ধরা হয়েছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন পালন সংক্রান্ত পরিপত্র.pdf

পরিপত্রে কী বলা হয়েছে?

পরিপত্র অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও উৎসব যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করতে হবে। অন্যদিকে, যেসব দিবস ঐতিহ্যগতভাবে পালিত হয়ে আসছে অথবা বর্তমান সময়ে দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী পালন করা যাবে।

নির্দেশনায় দিবস পালনের ক্ষেত্রে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

  • জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস: নির্ধারিত তারিখে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন ও পালন করতে হবে।

  • সীমিত পরিসরে পালনের দিবস: বিশেষ বিশেষ খাতের প্রতীকী দিবস সীমিত পরিসরে পালন করতে হবে; এসব দিবসের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে না।

  • ব্যয় ও অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা: অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পরিহার, সরকারি কাজের স্বাভাবিকতা বজায় রাখা এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা অনুসরণ করতে হবে।

এখানে উল্লেখযোগ্য, পরিপত্রে দিবস পালনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও সব দিবসের জন্য একই ধরনের অনুষ্ঠান বা সমপরিমাণ অর্থ বরাদ্দের কথা বলা হয়নি। বরং দিবসের শ্রেণি ও গুরুত্ব অনুযায়ী পালনের ধরন নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন পালন সংক্রান্ত পরিপত্র.pdf

জাতীয় পর্যায়ে যেসব দিবস উদযাপন করা হবে

পরিপত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় জাতীয় পর্যায়ে উদযাপন বা পালনের জন্য ১৮টি দিবস ও উৎসবের তালিকা দেওয়া হয়েছে। এসব দিবসের ক্ষেত্রে নির্ধারিত তারিখ অনুসরণ করে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন বা পালন করতে হবে।

ক্রমদিবস বা উৎসবনির্ধারিত তারিখ
১শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস২১ ফেব্রুয়ারি
২জাতীয় বীমা দিবস১ মার্চ
৩গণহত্যা দিবস২৫ মার্চ
৪স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস২৬ মার্চ
৫মে দিবস১ মে
৬বৌদ্ধ পূর্ণিমামে মাসে
৭জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস৫ আগস্ট
৮লালন সাঁই-তিরোধান দিবস১৭ অক্টোবর
৯জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস৭ নভেম্বর
১০বিজয় দিবস১৬ ডিসেম্বর
১১বড়দিন২৫ ডিসেম্বর
১২বাংলা নববর্ষ১ বৈশাখ
১৩রবীন্দ্রজয়ন্তী২৫ বৈশাখ
১৪নজরুলজয়ন্তী১১ জ্যৈষ্ঠ
১৫ঈদুল ফিতর১ শাওয়াল
১৬ঈদুল আজহা১০ জিলহজ
১৭ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)১২ রবিউল আউয়াল
১৮দুর্গাপূজাপঞ্জিকা অনুযায়ী

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: ধর্মীয় উৎসবগুলোর তারিখ ইসলামি চান্দ্রবর্ষ বা সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় পঞ্জিকা অনুসারে নির্ধারিত হবে। তাই এসব উৎসবের ইংরেজি তারিখ প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে। পরিপত্রের তালিকাটি মূলত দিবসের নাম ও পালনের নির্ধারিত তারিখ বা নিয়ম নির্দেশ করে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন পালন সংক্রান্ত পরিপত্র.pdf

যেসব দিবসের ক্ষেত্রে রয়েছে বিশেষ নির্দেশনা

পরিপত্রের প্রথম ও দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় আরও ৩৯টি দিবসের তালিকা দেওয়া হয়েছে। এসব দিবস ঐতিহ্যগতভাবে পালিত হয়ে আসছে অথবা বর্তমান সময়ে দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের দিবসের অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অংশ নেবে।

তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য দিবসগুলোর মধ্যে রয়েছে—

দিবসের নামতারিখ
জাতীয় সমাজসেবা দিবস২ জানুয়ারি
জাতীয় চা দিবসবছরের সূচি অনুযায়ী নির্ধারিত
জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস৫ ফেব্রুয়ারি
জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস২৫ ফেব্রুয়ারি
জাতীয় ভোটার দিবস২ মার্চ
জাতীয় পাট দিবস৬ মার্চ
বিশ্ব আবহাওয়া দিবস২৩ মার্চ
জাতীয় গণহত্যা দিবস২৫ মার্চ
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস ও জাতীয় ক্রীড়া দিবস৬ এপ্রিল
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস৭ এপ্রিল
মুজিবনগর দিবস১৭ এপ্রিল
জাতীয় চা দিবস২১ মে
বিশ্ব পরিবেশ দিবস৫ জুন
জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস২৩ জুন
জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস৬ অক্টোবর
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস২২ অক্টোবর
জাতীয় যুব দিবস১ নভেম্বর
বিশ্ব মানবাধিকার দিবস১০ ডিসেম্বর
জাতীয় জীববৈচিত্র্য দিবস২৯ ডিসেম্বর

সম্পাদনাগত সতর্কতা: উপরের তালিকার কিছু দিবসের তারিখ মূল পরিপত্রের ছবিতে স্পষ্টভাবে পাঠযোগ্য নয় বা নির্দিষ্ট তারিখের বদলে অন্যভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই প্রকাশের আগে সরকারি পরিপত্রের সংশ্লিষ্ট সারি মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে একই বা কাছাকাছি নামের দিবস থাকলে তারিখ ও শ্রেণি আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন পালন সংক্রান্ত পরিপত্র.pdf

সীমিত পরিসরে পালিত হবে যেসব প্রতীকী দিবস

পরিপত্রের তৃতীয় পৃষ্ঠায় বিশেষ বিশেষ খাতের প্রতীকী দিবস সীমিত পরিসরে পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব দিবসের অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকার বিষয়টি বিবেচনা করবেন। তবে এসব দিবস পালনের জন্য কোনো বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে না।

এ শ্রেণির উল্লেখযোগ্য দিবসগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • বার্ষিক পরিকল্পনা দিবস — ২৩ জানুয়ারি

  • জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস — ২ ফেব্রুয়ারি

  • জাতীয় ক্যানসার দিবস — ৪ ফেব্রুয়ারি

  • জাতীয় শহীদ সেনা দিবস — ২৫ ফেব্রুয়ারি

  • আন্তর্জাতিক নারী অধিকার ও আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস — ৮ মার্চ

  • জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস — ১০ মার্চ

  • বিশ্ব পানি দিবস — ২২ মার্চ

  • বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস — ২৪ মার্চ

  • বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস — ২ এপ্রিল

  • বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস — ২৬ এপ্রিল

  • বিশ্ব শ্রমিক দিবস — ১ মে

  • আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস — ৮ মে

  • বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস — ৩১ মে

  • বিশ্ব রক্তদাতা দিবস — ১৪ জুন

  • আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস — ১ অক্টোবর

  • বিশ্ব শিক্ষক দিবস — ৫ অক্টোবর

  • বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস — ১০ অক্টোবর

  • বিশ্ব সাদা ছড়ি দিবস — ১৫ অক্টোবর

  • জাতীয় যুব দিবস — ২০ অক্টোবর

  • জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস — ২ নভেম্বর

  • বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস — ১৪ নভেম্বর

  • বিশ্ব মানবাধিকার দিবস — ১০ ডিসেম্বর

  • জাতীয় জীববৈচিত্র্য দিবস — ২৯ ডিসেম্বর

এই শ্রেণির দিবসগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও প্রতীকী গুরুত্ব বজায় রাখা। পরিপত্র অনুযায়ী, সীমিত পরিসরে পালনের ক্ষেত্রে আলাদা বিশেষ বরাদ্দের সুযোগ রাখা হয়নি।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন পালন সংক্রান্ত পরিপত্র.pdf

দিবস ও সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে যেসব নিয়ম মানতে হবে

পরিপত্রের চতুর্থ পৃষ্ঠায় দিবস ও সপ্তাহ পালনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি দপ্তর, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের জন্য এসব নির্দেশনা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।

১. অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হবে ব্যয়সংযমের মাধ্যমে

দিবস পালনের জন্য অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পরিহার করতে হবে। বিশেষ করে নগদ অর্থ বা উপহারসামগ্রী বিতরণের মতো ব্যয়বহুল আয়োজনের প্রয়োজন না থাকলে সেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। সাধারণ ইভেন্ট, সভা বা কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়টিও নির্দেশনায় উঠে এসেছে।

২. অনুষ্ঠান আয়োজনের সময়সীমা সীমিত রাখতে হবে

কোনো সপ্তাহ পালনের কর্মসূচি সাধারণভাবে তিন দিনের মধ্যে সীমিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত ও কার্যকর কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

৩. সরকারি দাপ্তরিক কাজে বিঘ্ন ঘটানো যাবে না

দিবস বা সপ্তাহ পালনের নামে সরকারি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করা যাবে না। সভা, আলোচনা বা অন্যান্য কর্মসূচি এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে সমস্যা সৃষ্টি না হয়।

৪. সরকারি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা

দিবস পালনের জন্য রাজধানীর বাইরে বা জেলা পর্যায় থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকায় আনার ক্ষেত্রে যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। এতে যাতায়াতসংক্রান্ত ব্যয় ও দাপ্তরিক সময়ের অপচয় কমানোর সুযোগ থাকবে।

৫. একই দিনে একাধিক কর্মসূচি আয়োজনের সুযোগ

সরকারি ব্যয়ের সাশ্রয় এবং কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একই তারিখে একাধিক দিবসের কর্মসূচি একত্রে পালনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে পারবে।

৬. প্রচার ও আলোচনা কার্যক্রমে ব্যয়ের যৌক্তিকতা

দিবসের গুরুত্ব অনুযায়ী আলোচনা, প্রচার বা সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া যাবে। তবে এসব আয়োজনের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় না করে বিদ্যমান সম্পদ ও জনবল ব্যবহার করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

উপরের নির্দেশনাগুলো থেকে বোঝা যায়, দিবস পালনের ক্ষেত্রে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার, কর্মঘণ্টা রক্ষা এবং কার্যকর সচেতনতা সৃষ্টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন পালন সংক্রান্ত পরিপত্র.pdf

শিক্ষা ও অন্যান্য বিশেষ সপ্তাহ পালনের নির্দেশনা

পরিপত্রে জাতীয় দিবসের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশেষ সপ্তাহ পালনের বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ, বিশ্ব শিশু সপ্তাহ, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, সশস্ত্র বাহিনী দিবস, পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ, আনসার সপ্তাহ, সমবায় সপ্তাহ এবং জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবসের মতো কর্মসূচির উল্লেখ রয়েছে।

এসব সপ্তাহ বা কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করবে। অনুমোদিত কর্মসূচি অনুসারে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

এ নির্দেশনার ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব দায়িত্ব ও কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি পরিকল্পনা করার সুযোগ থাকবে। তবে অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে পরিপত্রের ব্যয়সংযম ও দাপ্তরিক কাজ স্বাভাবিক রাখার শর্তও প্রযোজ্য হবে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন পালন সংক্রান্ত পরিপত্র.pdf

আগের পরিপত্র বাতিল, নতুন নির্দেশনা কার্যকর

পরিপত্রের চতুর্থ পৃষ্ঠার শেষাংশে বলা হয়েছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন বা পালনসংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখের আগের পরিপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। নতুন পরিপত্রটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ রয়েছে।

পরিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ। নথিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনাটি পৌঁছানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন পালন সংক্রান্ত পরিপত্র.pdf

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এর তাৎপর্য কী?

নতুন নির্দেশনা সরকারি দপ্তরগুলোর বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা ও অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে কোন দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করতে হবে, কোন দিবস সীমিত পরিসরে পালন করতে হবে এবং কোন ক্ষেত্রে ব্যয়ের বিশেষ বরাদ্দ থাকবে না—তা আলাদা করে বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো—

  • দিবস পালনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত তারিখ যাচাই করা।

  • সীমিত পরিসরে পালনের নির্দেশ থাকা দিবসের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ধরে পরিকল্পনা না করা।

  • অনুষ্ঠান আয়োজনের সময় সরকারি দাপ্তরিক কাজ স্বাভাবিক রাখা।

  • সপ্তাহ পালনের কর্মসূচি সাধারণভাবে তিন দিনের মধ্যে সীমিত রাখা।

  • জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত ও ব্যয় পরিহার করা।

  • একাধিক দিবস একই দিনে পড়লে সমন্বিত কর্মসূচি আয়োজনের সুযোগ বিবেচনা করা।

তবে পরিপত্রে সব দিবসের জন্য অভিন্ন বাজেট, নির্দিষ্ট সংখ্যক অতিথি বা একই ধরনের অনুষ্ঠান বাধ্যতামূলক করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট দিবসের শ্রেণি, গুরুত্ব এবং প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসারেই কর্মসূচি নির্ধারণ করতে হবে।

শেষ কথা

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনকে আরও সুশৃঙ্খল, ব্যয়সাশ্রয়ী এবং কার্যকর করার লক্ষ্যেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জাতীয় পর্যায়ের দিবস, ঐতিহ্যগতভাবে পালিত দিবস এবং সীমিত পরিসরে পালনের জন্য নির্ধারিত প্রতীকী দিবসের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করা হয়েছে।

সরকারি দপ্তরগুলোর উচিত নতুন পরিপত্র অনুসারে নিজ নিজ বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা এবং দিবস পালনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত তারিখ, অনুষ্ঠান আয়োজনের সময়সীমা ও ব্যয়সংযমের নিয়ম অনুসরণ করা।

প্রকাশের আগে জরুরি যাচাই: মূল পরিপত্রের স্ক্যান করা কয়েকটি সারির লেখা অস্পষ্ট হওয়ায় দিবসের পূর্ণ তালিকা ও কিছু তারিখ সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি থেকে পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে তালিকায় একই বা কাছাকাছি নামের দিবস এবং ভিন্ন শ্রেণিতে থাকা দিবসের তারিখ যাচাই না করে চূড়ান্ত তালিকা হিসেবে প্রকাশ করা উচিত হবে না।

সোর্স ফাইল

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *