পে-ফিক্সেশনে উচ্চতর গ্রেডের তথ্য না থাকলে কী করবেন? ট্যাব-৪ ও ৫ নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনলাইন পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম ঘিরে বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে iBAS++ পে-ফিক্সেশন সিস্টেমের ট্যাব-৪-এ উচ্চতর গ্রেড বা স্কেলসংক্রান্ত তথ্য এবং ট্যাব-৫-এ পূর্ববর্তী জাতীয় বেতন স্কেলসংক্রান্ত তথ্য পূরণ করা নিয়ে বিভ্রান্তিতে রয়েছেন অনেক কর্মচারী।
পে-ফিক্সেশনের সময় উচ্চতর গ্রেডের তথ্য নিশ্চিত না থাকলে অনুমানের ভিত্তিতে কোনো তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই—এটাই আলোচ্য নির্দেশনার মূল বক্তব্য। তবে কোনো কর্মচারীর ক্ষেত্রে উচ্চতর গ্রেডের তথ্য প্রযোজ্য কি না এবং তথ্য না দিয়েও পরবর্তী ধাপে যাওয়া যাবে কি না, তা সিস্টেমের নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
পে-ফিক্সেশনে ট্যাব-৪ ও ৫ নিয়ে কেন এত আলোচনা?
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী পে-ফিক্সেশন করতে গিয়ে কর্মচারীদের চাকরির ইতিহাস ও পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের তথ্য দিতে হচ্ছে। এ কারণে যাঁরা আগে উচ্চতর গ্রেড, টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পেয়েছেন, তাঁদের তথ্য কীভাবে উপস্থাপন করতে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
PayScale BD-তে ৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্যাব-৪ ও ট্যাব-৫-এ প্রযোজ্য তথ্য না থাকলে এগুলো পূরণ না করেও পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে প্রদর্শিত নির্দেশনা থেকে বোঝা যাচ্ছে। তবে এটিকে সব কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য সরকারি আদেশ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
ট্যাব-৪-এ উচ্চতর গ্রেডের তথ্য কখন প্রয়োজন?
ট্যাব-৪ মূলত উচ্চতর গ্রেড বা স্কেলসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনামূলক ছবিতে দেখানো হয়েছে। কোনো কর্মচারী চাকরিজীবনে উচ্চতর গ্রেড, টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পেয়ে থাকলে তাঁর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এ ধরনের তথ্যের মধ্যে থাকতে পারে—
- উচ্চতর গ্রেড বা স্কেল পাওয়ার তথ্য;
- সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ;
- গ্রেড কার্যকরের তারিখ;
- প্রযোজ্য পদবি ও বেতনস্কেল;
- পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের বিবরণ।
যাঁরা কখনো উচ্চতর গ্রেড বা সংশ্লিষ্ট সুবিধা পাননি, তাঁদের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা পাওয়ার তথ্য দেওয়ার প্রশ্ন আসে না। তবে সিস্টেমে কোনো ঘর ফাঁকা রাখা যাবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা দেখে নিশ্চিত হতে হবে।
অন্যদিকে, যাঁরা উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া উচিত নয়। কারণ পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের ইতিহাস নতুন মূল বেতন নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
তথ্যের ঘাটতি থাকলে অনুমানভিত্তিক এন্ট্রি নয়
পে-ফিক্সেশন করতে গিয়ে কোনো কর্মচারী যদি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার তারিখ, সরকারি আদেশ নম্বর কিংবা সংশ্লিষ্ট বেতনস্কেল সম্পর্কে নিশ্চিত না হন, তাহলে শুধু ফরম পূরণ করার জন্য অনুমান করে তথ্য দেওয়া ঠিক হবে না।
এ ক্ষেত্রে প্রথমে সার্ভিস বুক, সরকারি আদেশ, পূর্ববর্তী পে-ফিক্সেশন রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট অফিসের নথি যাচাই করা উচিত।
প্রয়োজনীয় তথ্য হাতে না থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন শাখা বা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তথ্যটি প্রযোজ্য না হলে এবং সিস্টেম অনুমতি দিলে সংশ্লিষ্ট ঘর পূরণ না করেই পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব হতে পারে।
ট্যাব-৫-এ পূর্ববর্তী বেতনস্কেলের তথ্য নিয়ে সতর্কতা
ট্যাব-৫-এ পূর্ববর্তী জাতীয় বেতন স্কেলসংক্রান্ত তথ্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কর্মচারীর আগের বেতন কাঠামো, বেতন নির্ধারণের ইতিহাস এবং বর্তমান মূল বেতনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্যের সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন।
এখানে শুধু ট্যাবটি পূরণ করাই মূল বিষয় নয়; বরং যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে, সেটি সঠিক কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
তাই পূর্ববর্তী বেতনস্কেলের তথ্য জানা না থাকলে অনুমানভিত্তিক সংখ্যা বা তারিখ বসানোর পরিবর্তে নথি যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে ট্যাবটি বাধ্যতামূলক কি না, তা সিস্টেমের নির্দেশনা অনুযায়ী বুঝে নিতে হবে।
পরে কি তথ্য এন্ট্রি বা সংশোধন করা যাবে?
প্রচারিত নির্দেশনায় পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য এন্ট্রি করার সুযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে পে-ফিক্সেশন দাখিলের পর সব ধরনের তথ্য পরিবর্তন করা যাবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।
কোনো তথ্য পরে সংশোধন করতে হলে সিস্টেমের অনুমতি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং প্রযোজ্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতে পারে। তাই তথ্য অসম্পূর্ণ থাকা অবস্থায় চূড়ান্ত দাখিলের আগে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে জেনে নেওয়া উচিত, পরে তথ্য যোগ বা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে কি না।
পে-ফিক্সেশন করার আগে যেসব তথ্য যাচাই করবেন
নতুন বেতন নির্ধারণের কাজ শুরু করার আগে কর্মচারীদের কয়েকটি বিষয় মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন—
১. জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মতারিখ সঠিক আছে কি না।
২. বর্তমান পদবি, গ্রেড ও চাকরিতে যোগদানের তারিখ ঠিক আছে কি না।
৩. ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন সার্ভিস বুকের সঙ্গে মিলছে কি না।
৪. পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডের তথ্য প্রযোজ্য হলে সেগুলোর প্রমাণপত্র রয়েছে কি না।
৫. কোনো তথ্য নিশ্চিত না হলে অনুমান করে পূরণ না করে সংশ্লিষ্ট অফিসের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে কি না।
৬. চূড়ান্ত দাখিলের আগে সব তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে কি না।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য শেষ পরামর্শ
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী পে-ফিক্সেশনে ট্যাব-৪ ও ট্যাব-৫ নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে কর্মচারীদের প্রথমে বুঝতে হবে, কোন তথ্য তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। উচ্চতর গ্রেড না পেয়ে থাকলে সেই সুবিধার তথ্য তৈরি করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আবার উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে তার প্রাসঙ্গিক তথ্যও উপেক্ষা করা উচিত নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তথ্যের ঘাটতি থাকলে অনুমানভিত্তিক এন্ট্রি না দেওয়া। সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে সঠিকভাবে পূরণ করা এবং প্রয়োজন হলে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের নির্দেশনা নেওয়াই নিরাপদ পদ্ধতি।
সতর্কতা: ট্যাব-৪ ও ট্যাব-৫ ফাঁকা রেখে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও, তা সব কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও iBAS++ সিস্টেমের প্রদর্শিত নিয়ম দেখে নিশ্চিত হতে হবে।


