৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬বিভিন্ন ক্যালকুলেটর । অটোমেশন ফর্ম

প্রাথমিক শিক্ষকের বিল তৈরি: বকেয়া বিলের হিসাব ও টি.আর. ফরম-১৫ তৈরিতে নতুন অটোমেশন টুল

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বকেয়া বেতন ও সমন্বয় বিলের হিসাব তৈরি, অতিরিক্ত গৃহীত অর্থের কর্তন নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় বিলের কাগজপত্র প্রস্তুত করার কাজ সহজ করতে তৈরি করা হয়েছে একটি ওয়েবভিত্তিক ‘বকেয়া বিল অটোমেশন’ টুল। এতে কর্মচারীর তথ্য ইনপুট দেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের প্রাপ্য ও গৃহীত বেতনের পার্থক্য হিসাব করা, সম্ভাব্য কর্তন সমন্বয় করা এবং বকেয়া হিসাবের বিবরণী তৈরি করার ব্যবস্থা রয়েছে।

বকেয়া_বিল_অটোমেশন

টুলটির বিশেষত্ব হলো, একই তথ্য ব্যবহার করে বকেয়া হিসাবের স্মারক, বিস্তারিত বিবরণী এবং টি.আর. ফরম-১৫-এর একটি প্রিন্টযোগ্য খসড়া তৈরি করা যায়। ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতে বারবার হাতে হিসাব করা ও একই তথ্য বিভিন্ন নথিতে লেখার প্রয়োজন কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে এটি একটি হিসাব প্রস্তুতকারী সফটওয়্যার। এর মাধ্যমে তৈরি হিসাব বা ফরম সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেয়েছে কিংবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিল পরিশোধ হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

এক জায়গায় বকেয়া হিসাব ও তিন ধরনের নথি তৈরির সুবিধা

অটোমেশন টুলটিতে কাজের জন্য চারটি ধাপ রাখা হয়েছে। প্রথম ধাপে কর্মচারীর পরিচিতি, অফিসের তথ্য, বেতনের পরিমাণ এবং বকেয়া হিসাবের সময়কাল ইনপুট দিতে হয়। দ্বিতীয় ধাপে হিসাবের সারসংক্ষেপ দেখা যায়। তৃতীয় ধাপে বকেয়া বিলের বিস্তারিত বিবরণী তৈরি হয়। চতুর্থ ধাপে টি.আর. ফরম-১৫-এর একটি প্রিন্টযোগ্য সংস্করণ প্রস্তুত করা যায়।

কর্মচারীর নাম, পদবি, ২০২৬ সালের গ্রেড, প্রতিষ্ঠান, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, অফিসের নাম, স্মারক নম্বর, তারিখ এবং বিলের মাসের মতো তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি নতুন স্কেলে প্রাপ্য মাসিক মূল বেতন, পুরোনো স্কেলে গ্রহণ করা মাসিক মূল বেতন, বিশেষ সুবিধা কর্তনের হার, অতিরিক্ত গৃহীত বাড়িভাড়া কর্তন এবং স্ট্যাম্প ডিউটির পরিমাণ ইনপুট দেওয়া যায়।

এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বা অপারেশন কোড, বিল বা ভাউচার নম্বর, টোকেন নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট তারিখের তথ্য যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এসব তথ্য ব্যবহার করে সফটওয়্যারটি একাধিক নথিতে প্রয়োজনীয় বিবরণ বসায়।

মাসভিত্তিক বকেয়া হিসাব করা যাবে যেভাবে

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী কোনো কর্মচারীর বকেয়া নির্ধারণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট সময়ের প্রাপ্য বেতন এবং ইতিমধ্যে গ্রহণ করা বেতনের মধ্যে পার্থক্য হিসাব করতে হয়। এই কাজটি সহজ করতে অটোমেশন টুলে মাসভিত্তিক হিসাবের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ব্যবহারকারী চাইলে শুরুর মাস ও শেষের মাস নির্বাচন করে একসঙ্গে একাধিক মাসের সারি তৈরি করতে পারবেন। আবার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি মাসের শুরুর ও শেষের তারিখ আলাদাভাবেও নির্ধারণ করা যাবে।

কোনো নির্দিষ্ট মাসে বেতনের পরিমাণ অন্য মাসের তুলনায় আলাদা হলে সেই মাসের জন্য পৃথক অঙ্ক ইনপুট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোনো মাসের জন্য আলাদা অঙ্ক না দিলে সফটওয়্যারটি সাধারণ ইনপুটে দেওয়া প্রাপ্য ও গৃহীত মাসিক বেতনের পরিমাণ ব্যবহার করে হিসাব করবে।

এতে একই সময়ের সব মাসের হিসাব একত্র করা এবং কোনো মাসে বিশেষ পরিস্থিতি থাকলে সেটি আলাদাভাবে বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়।

কীভাবে নির্ধারিত হবে মোট বকেয়া ও নীট প্রাপ্য অর্থ

সফটওয়্যারটির হিসাবের কাঠামো অনুযায়ী প্রথমে নির্ধারিত সময়ের জন্য প্রাপ্য মূল বেতন এবং ইতিমধ্যে গৃহীত মূল বেতনের পরিমাণ হিসাব করা হয়। এরপর এই দুই অঙ্কের পার্থক্য থেকে মোট বকেয়া নির্ধারণ করা হয়।

এরপর ইনপুট দেওয়া হারে বিশেষ সুবিধা কর্তন এবং অতিরিক্ত গৃহীত বাড়িভাড়ার কর্তন হিসাব করা হয়। উভয় ধরনের কর্তন যোগ করে মোট কর্তন নির্ধারণ করা হয়। সবশেষে মোট বকেয়া থেকে মোট কর্তন বাদ দিয়ে নীট প্রাপ্য বকেয়া দেখানো হয়।

হিসাবের সাধারণ কাঠামোটি হলো—

মোট বকেয়া = মোট প্রাপ্য বেতন − মোট গৃহীত বেতন

মোট কর্তন = বিশেষ সুবিধা কর্তন + অতিরিক্ত গৃহীত বাড়িভাড়া কর্তন

নীট প্রাপ্য বকেয়া = মোট বকেয়া − মোট কর্তন

এখানে বিশেষ সুবিধা কর্তনের হার ব্যবহারকারীকে ইনপুট দিতে হয়। একইভাবে অতিরিক্ত বাড়িভাড়ার কর্তনের অঙ্কও ব্যবহারকারীকে নির্ধারণ করে দিতে হয়। ফলে সফটওয়্যারের গণনা সঠিক হলেও ইনপুট দেওয়া হার বা অর্থের পরিমাণ ভুল হলে চূড়ান্ত হিসাবেও ভুল হতে পারে।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ, প্রযোজ্য বিধি এবং কর্মচারীর প্রকৃত বেতন-ভাতার তথ্য যাচাই করে হিসাব প্রস্তুত করা গুরুত্বপূর্ণ।

বকেয়া হিসাবের বিস্তারিত বিবরণী তৈরি

অটোমেশন টুলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো বকেয়া হিসাবের বিস্তারিত বিবরণী তৈরি করা। এতে কর্মচারীর নাম, পদবি, গ্রেড, পুরোনো মূল বেতন, নতুন মূল বেতন এবং মাসিক বেতনের পার্থক্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিটি সময়কালের জন্য বছর, মাস ও দিনের হিসাব, পুরোনো বেতন, নতুন বেতন, বেতনের পার্থক্য, মোট বকেয়া, বিশেষ সুবিধা কর্তন এবং অতিরিক্ত বাড়িভাড়া কর্তনের তথ্য দেখানো হয়।

বিবরণীর শেষে মোট বকেয়া, মোট কর্তন এবং নীট প্রাপ্য অর্থ আলাদাভাবে উপস্থাপন করা হয়। অর্থের পরিমাণ কথায় লেখার ব্যবস্থাও রয়েছে।

এর ফলে হিসাব প্রস্তুতকারী ব্যক্তি শুধু চূড়ান্ত অঙ্ক নয়, সেই অঙ্ক কীভাবে নির্ধারিত হয়েছে, তার একটি মাসভিত্তিক হিসাবও দেখতে পারবেন। অফিসের প্রয়োজন অনুযায়ী এই বিবরণী যাচাই ও সংশোধনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

স্মারক ও বকেয়া বিলের হিসাব একসঙ্গে

বকেয়া বিল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে হিসাবের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অফিসের স্মারক ও কর্মচারীর পরিচিতির তথ্যও প্রয়োজন হতে পারে। টুলটিতে এ ধরনের তথ্যের জন্য আলাদা ইনপুট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অফিসের নাম, স্থান, স্মারক নম্বর, তারিখ, কর্মচারীর পরিচিতি এবং বকেয়া হিসাবের সময়কাল ব্যবহার করে একটি হিসাবসংক্রান্ত নথি তৈরি করা যায়। সময়কাল অনুযায়ী বিষয়বস্তুর লাইনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি করার ব্যবস্থা রয়েছে।

ব্যবহারকারী চাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি বিষয়বস্তুর পরিবর্তে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বিষয় লিখতে পারবেন। ফলে বিভিন্ন অফিসের প্রয়োজন অনুসারে নথির বিবরণ সংশোধন করা সম্ভব।

তবে এ ধরনের নথি তৈরি হওয়া মানেই সেটি অনুমোদিত সরকারি স্মারক নয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর, যাচাই ও অনুমোদনের প্রয়োজন হলে তা আলাদাভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

টি.আর. ফরম-১৫ তৈরির ব্যবস্থা

বকেয়া বিলের হিসাব প্রস্তুতের পাশাপাশি টুলটিতে টি.আর. ফরম-১৫-এর একটি প্রিন্টযোগ্য খসড়া তৈরির সুবিধা রয়েছে। ফরমটিতে অফিসের নাম, বিলের মাস, কর্মচারীর পরিচিতি, মূল বেতনের অঙ্ক, স্ট্যাম্প ডিউটি এবং সংশ্লিষ্ট কিছু তথ্য বসানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া বেতন ও ভাতার খাত এবং কর্তনসংক্রান্ত বিভিন্ন অর্থনৈতিক কোডের তালিকা ফরমের কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ব্যবহারকারী প্রাতিষ্ঠানিক বা অপারেশন কোড, টোকেন নম্বর, ভাউচার নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট তারিখের তথ্যও দিতে পারবেন।

ফরমটি এ৪ পোর্ট্রেট বিন্যাসে এবং অন্য দুটি হিসাবের নথি এ৪ ল্যান্ডস্কেপ বিন্যাসে প্রিন্ট করার উপযোগী করে সাজানো হয়েছে। ব্রাউজারের প্রিন্ট সুবিধা ব্যবহার করে এগুলো কাগজে ছাপানো বা পিডিএফ হিসেবে সংরক্ষণ করা সম্ভব।

তবে ফরমের বিন্যাস ও কোডের তালিকা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সর্বশেষ অনুমোদিত ফরম এবং হিসাবসংক্রান্ত নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। সফটওয়্যারে কোনো কোড বা খাত অন্তর্ভুক্ত থাকলেই সেটি নির্দিষ্ট বিলের জন্য প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

উদাহরণ হিসেবে কোন তথ্য দেওয়া রয়েছে

সফটওয়্যারটির প্রাথমিক সেটিংসে একটি উদাহরণভিত্তিক হিসাব রাখা হয়েছে। সেখানে নতুন স্কেলে মাসিক প্রাপ্য মূল বেতন ২৪ হাজার টাকা, পুরোনো স্কেলে মাসিক গৃহীত মূল বেতন ১৮ হাজার ৮৬০ টাকা, বিশেষ সুবিধা কর্তনের হার ১৫ শতাংশ এবং অতিরিক্ত বাড়িভাড়া কর্তন মাসে ৩৬০ টাকা দেখানো হয়েছে।

প্রাথমিক উদাহরণে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত তিন মাসের সময়কালও রাখা হয়েছে।

এই অঙ্কগুলো সফটওয়্যারের নমুনা তথ্য। এগুলোকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী সবার জন্য নির্ধারিত বেতন, কর্তনের হার কিংবা সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। প্রকৃত কর্মচারীর হিসাব তৈরির আগে সব নমুনা তথ্য পরিবর্তন করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঠিক তথ্য দিতে হবে।

বিশেষ করে বেতনের পার্থক্য, বিশেষ সুবিধা কর্তন এবং বাড়িভাড়ার সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কর্মচারীভেদে প্রযোজ্য বিধান ও বাস্তব পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে।

আংশিক মাসের হিসাবেও রয়েছে সুবিধা

কোনো সময়কাল পূর্ণ মাসের চেয়ে কম হলে সফটওয়্যারটি দিনভিত্তিক হিসাবের ব্যবস্থাও রেখেছে। ইনপুটে মাসের দিনের সংখ্যা নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে এবং সময়কাল অনুযায়ী মাস ও দিনের হিসাব দেখানো হয়।

এতে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রাপ্যতা শুরু হওয়া বা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হিসাব তৈরির ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

তবে আংশিক মাসের বেতন নির্ধারণে সফটওয়্যারটির ব্যবহৃত গণনাপদ্ধতি সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধি ও বাস্তব বেতন হিসাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা জরুরি। সফটওয়্যারের গণনাপদ্ধতি এবং সরকারি হিসাবের নিয়মের মধ্যে পার্থক্য থাকলে সরকারি বিধিই অনুসরণ করতে হবে।

তথ্য সংরক্ষণ ও ভুল সংশোধনের সুযোগ

টুলটিতে ব্রাউজারের স্থানীয় স্টোরেজে ইনপুট দেওয়া তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে একই ব্রাউজারে পরবর্তী সময়ে পেজটি খুললে আগে দেওয়া তথ্য পুনরুদ্ধার হতে পারে।

প্রয়োজনে মাসভিত্তিক সারি যোগ করা, নির্দিষ্ট সারি মুছে ফেলা কিংবা সব সারি একসঙ্গে মুছে নতুন করে হিসাব তৈরির সুবিধাও রাখা হয়েছে।

তবে স্থানীয় স্টোরেজে তথ্য সংরক্ষণ মানে সরকারি সার্ভারে তথ্য জমা হওয়া নয়। ব্রাউজারের তথ্য মুছে গেলে বা অন্য ডিভাইসে কাজ করলে আগের তথ্য নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ হিসাবের নথি আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও কর্মচারীর ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে তথ্যের গোপনীয়তা এবং ব্যবহৃত ডিভাইসের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত।

হিসাব তৈরির আগে যেসব বিষয় যাচাই করা জরুরি

বকেয়া বিলের হিসাব প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

প্রথমত, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পরিমাণ সঠিক হতে হবে। দ্বিতীয়ত, যে সময়ের জন্য বকেয়া দাবি করা হচ্ছে, সেই সময়ের শুরু ও শেষের তারিখ নির্ভুলভাবে দিতে হবে। তৃতীয়ত, বিশেষ সুবিধা বা অন্যান্য অর্থের কর্তন কোন নিয়মে এবং কী হারে প্রযোজ্য, তা যাচাই করতে হবে।

একই সঙ্গে অতিরিক্ত গৃহীত বাড়িভাড়ার প্রকৃত পরিমাণ, আংশিক মাসের হিসাব এবং প্রযোজ্য অন্যান্য কর্তনও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

সবশেষে সফটওয়্যার থেকে তৈরি মোট বকেয়া, মোট কর্তন ও নীট প্রাপ্য অর্থ মূল বেতন রেকর্ড, সংশ্লিষ্ট আদেশ এবং অফিসের হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে। কোনো অঙ্কে অসংগতি থাকলে বিল জমা দেওয়ার আগে তা সংশোধন করা উচিত।

সরকারি অনুমোদন ও বিল পরিশোধের সঙ্গে পার্থক্য

বকেয়া বিল অটোমেশন টুলটি মূলত হিসাব প্রস্তুত ও নথি তৈরির কাজ সহজ করার জন্য তৈরি। এতে সরকারি পে-ফিকেশন সিস্টেমে সরাসরি সংযোগ, বিল জমা দেওয়ার অনলাইন ব্যবস্থা কিংবা অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তা দেখানো হয়নি।

তাই এই টুলে বকেয়া হিসাব তৈরি করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিল যাচাই, অনুমোদন ও পরিশোধ সম্পন্ন হওয়া—দুটি পৃথক বিষয়।

কোনো কর্মচারীর বকেয়া পাওনা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ, অনুমোদিত বেতন নির্ধারণ, হিসাবরক্ষণ দপ্তরের নির্দেশনা এবং প্রযোজ্য আর্থিক বিধি অনুসরণ করতে হবে। সফটওয়্যার থেকে তৈরি নথি প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন ও যাচাই করে তবেই দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করা উচিত।

উপসংহার

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর বকেয়া ও সমন্বয় বিল তৈরির ক্ষেত্রে বকেয়া বিল অটোমেশন টুলটি একটি সহায়ক ডিজিটাল উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মাসভিত্তিক হিসাব, বেতনের পার্থক্য নির্ধারণ, কর্তনের হিসাব, বিস্তারিত বিবরণী এবং টি.আর. ফরম-১৫-এর খসড়া একই জায়গায় তৈরি করার সুবিধা থাকায় হিসাব প্রস্তুতের কাজ সহজ হতে পারে।

তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে সঠিক তথ্য ইনপুট, নির্ভুল গণনা এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী যাচাইয়ের ওপর। বিশেষ করে নমুনা তথ্যের পরিবর্তে প্রকৃত তথ্য ব্যবহার এবং চূড়ান্ত বিলের আগে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হিসাব যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সুতরাং, এই ধরনের অটোমেশন ব্যবস্থাকে সরকারি বকেয়া বিল প্রস্তুতের সহায়ক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে; কিন্তু এটিকে সরকারি অনুমোদন, চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণ কিংবা বকেয়া অর্থ পরিশোধের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *