রোগ ব্যাধি । চিকিৎসা। প্রতিকার

বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডে দাফন/অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুদানের আবেদন: কী কী তথ্য ও কাগজপত্র লাগবে

সরকারি চাকরিজীবীদের মৃত্যুর পর তাদের পরিবারের জন্য বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (বিকেকেবি) দাফন/অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুদান প্রদান করে থাকে। এ অনুদান পেতে নির্ধারিত আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ এবং নির্দিষ্ট কাগজপত্র সংযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট অফিসের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি আবেদনপত্রের নমুনায় এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

আবেদনপত্রে যেসব তথ্য দিতে হয়

আবেদনপত্রে প্রথমেই অনুদানের ধরন নির্বাচন করতে হয়। এখানে যৌথ বীমা অনুদান, মাসিক কল্যাণ অনুদান এবং দাফন/অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুদানের মধ্যে প্রযোজ্যটি নির্বাচন করার সুযোগ রয়েছে। এরপর আবেদনকারীকে মৃত কর্মচারীর চাকরির অবস্থা, কর্মক্ষেত্রের ধরন, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা/থানাসহ প্রশাসনিক তথ্য প্রদান করতে হয়।

এছাড়া কর্মচারীর নাম, পদবি, কর্মস্থল, জন্মতারিখ, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, অবসরের তথ্য (যদি প্রযোজ্য হয়), মৃত্যুর তারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং সর্বশেষ বেতন সংক্রান্ত তথ্যও আবেদনপত্রে উল্লেখ করতে হয়।

আবেদনকারী ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য

অনুদান গ্রহণকারী আবেদনকারীর নাম, মৃত কর্মচারীর সঙ্গে সম্পর্ক, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা এবং অনুদানের অর্থ গ্রহণের জন্য ব্যাংক হিসাবের তথ্য আবেদনপত্রে দিতে হয়। পাশাপাশি ওয়ারিশদের তথ্যও উল্লেখ করার বিধান রয়েছে।

অফিস প্রধানের প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক

আবেদনপত্রে আবেদনকারীকে একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হয়, যেখানে প্রদত্ত তথ্য সঠিক বলে প্রত্যয়ন করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট অফিস প্রধান বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদনপত্রে উল্লেখিত তথ্য অফিসের নথি অনুযায়ী যাচাই করে অনুদান মঞ্জুরের সুপারিশ প্রদান করেন।

যেসব কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে

আবেদনপত্রের দ্বিতীয় পাতায় প্রয়োজনীয় সংযুক্তির তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • সর্বশেষ বেতন নির্ধারণী (Pay Fixation) বা চাকরির প্রাসঙ্গিক নথির সত্যায়িত কপি।
  • অনলাইন মৃত্যু সনদের সত্যায়িত অনুলিপি।
  • ওয়ারিশান সনদ।
  • অন্যান্য ওয়ারিশদের পক্ষ থেকে আবেদনকারীকে প্রদত্ত ক্ষমতাপত্র (যদি প্রযোজ্য হয়)।
  • অবসর বা অক্ষমতাজনিত অফিস আদেশের কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
  • মৃত কর্মচারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি।
  • শেষ বেতনের সনদ (LPC), প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার প্রতিস্বাক্ষরসহ।
  • স্ত্রী, কন্যা বা ভগ্নীর ক্ষেত্রে পুনর্বিবাহ না হওয়া বা অবিবাহিত থাকার সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
  • আবেদনকারীর MICR চেকের পাতার সত্যায়িত ফটোকপি।
  • আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি।
  • মৃত্যুর পর ছয় মাসের বেশি বিলম্বে আবেদন করা হলে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুপারিশ।

ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে

এই প্রতিবেদনে আপলোড করা আবেদনপত্রে থাকা ব্যক্তির নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর, ব্যাংক হিসাব নম্বর, ঠিকানা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদটি শুধুমাত্র আবেদন প্রক্রিয়া ও সরকারি নির্দেশনা সম্পর্কে জনস্বার্থে তথ্য উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *