ইত্যাদি । বিবিধ । ক্যাটাগরী বিহীন তথ্য

রেজিস্ট্রেশন আইনে বড় পরিবর্তন: ই-রেজিস্ট্রেশন চালু ও সাব-রেজিস্ট্রারদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত

ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনে একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি ‘রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামের এই নতুন আইনের মাধ্যমে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি বা ই-রেজিস্ট্রেশনকে আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছে

চালু হচ্ছে ই-রেজিস্ট্রেশন

নতুন অধ্যাদেশে ১৯০৮ সালের মূল আইনে ‘PART XIIA’ নামে একটি নতুন অংশ এবং ‘Section 77A’ যুক্ত করা হয়েছে এর ফলে এখন থেকে সরকার অনুমোদিত নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে দলিল উপস্থাপন, দাতা-গ্রহীতার স্বীকৃতি গ্রহণ এবং দলিল রেজিস্ট্রেশনের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে এই ডিজিটাল পদ্ধতির বিস্তারিত রূপরেখা সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করবে

সাব-রেজিস্ট্রারদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও জরিমানা

দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে। আইনের ৬৮ নম্বর ধারায় নতুন একটি উপ-ধারা যোগ করা হয়েছে এখন থেকে যদি কোনো রেজিস্টারিং অফিসার যথাযথ ফি, ট্যাক্স বা ডিউটি ছাড়া কোনো দলিল নিবন্ধন করেন, তবে তাকে ‘অসদাচরণ’ (Misconduct) হিসেবে গণ্য করা হবে শুধু তাই নয়, সরকারের পাওনা অনাদায়ী অর্থের পরিমাণ সরাসরি সংশ্লিষ্ট অফিসারের কাছ থেকেই আদায় করা হবে

হেবা ও দানের ঘোষণায় কড়াকড়ি

এতদিন কেবল বিক্রয় দলিলের ক্ষেত্রে কিছু বাধ্যবাধকতা থাকলেও এখন তা বিস্তৃত করা হয়েছে। ৫২এ (52A) ধারা সংশোধনের মাধ্যমে মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের অধীনে ‘হেবা’ বা ‘হেবার ঘোষণা’ এবং হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ব্যক্তিগত আইনের অধীন ‘দানের ঘোষণা’র ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম কার্যকর হবে এসব ক্ষেত্রে দাতা বা ডোনারের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে

দ্রুত বিচার ও সময়সীমা পরিবর্তন

নাগরিক ভোগান্তি কমাতে আপিল ও দরখাস্ত নিষ্পত্তির জন্য সুনির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে:

  • আপিল নিষ্পত্তি: ধারা ৭২ অনুযায়ী, কোনো আপিল দায়ের করা হলে তা ৪৫ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রারকে নিষ্পত্তি করতে হবে

  • দরখাস্ত নিষ্পত্তি: ধারা ৭৩ অনুযায়ী, কোনো আবেদন বা দরখাস্ত জমা পড়লে তা ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে

  • সময় বৃদ্ধি: আইনের ১৭এ ধারায় উল্লিখিত সময়সীমা ৩০ দিনের পরিবর্তে ৬০ দিন এবং ২৬ নম্বর ধারায় ৪ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস করা হয়েছে

জরুরি প্রয়োজনে অধ্যাদেশ জারি

বর্তমানে জাতীয় সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় থাকায় এবং জরুরি পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন এই অধ্যাদেশটি জারি করেছেন ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই এই সংশোধিত আইনটি কার্যকর বলে গণ্য হবে

রেজিস্ট্রেশন আইনে যুগান্তকারী পরিবর্তন ২০২৬

ডিজিটাল পদ্ধতিতে দলিল উপস্থাপন করতে হবে?

হ্যাঁ, আপনার শেয়ার করা রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ অনুযায়ী এখন থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে দলিল উপস্থাপন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে অধ্যাদেশে যা বলা হয়েছে:

১. নতুন ধারা সংযোজন: আইনের নতুন Section 77A অনুযায়ী, সরকার অনুমোদিত নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে দলিল উপস্থাপন (Presentation) করা যাবে।

২. অনলাইন কার্যক্রম: দাতা ও গ্রহীতা সশরীরে উপস্থিত হওয়ার পরিবর্তে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দলিলে তাদের সম্মতি বা স্বীকৃতি (Admission) প্রদান করতে পারবেন।

৩. স্বচ্ছতা: এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো ভূমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং জনসাধারণের ভোগান্তি কমানো।

৪. বিধিমালা: তবে এই ডিজিটাল বা ই-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি ঠিক কীভাবে পরিচালিত হবে (অর্থাৎ কোন সফটওয়্যার বা কোন লিংকের মাধ্যমে), তা সরকার খুব শীঘ্রই গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত বিধিমালা (Rules) প্রণয়ন করে জানিয়ে দেবে।

সংক্ষেপে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে দলিল উপস্থাপনের আইনি ভিত্তি এখন তৈরি হয়েছে এবং এটি প্রচলিত ম্যানুয়াল পদ্ধতির পাশাপাশি একটি আধুনিক বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।

Alamin Mia

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *