সঞ্চয়পত্র খবর । ক্রয় সীমা । নগদায়ন

সঞ্চয়পত্রের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখল সরকার: জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

জাতীয় সঞ্চয় স্কিম বা সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের জন্য সুখবর দিয়েছে সরকার। চলতি বছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের জন্য সঞ্চয়পত্রের সুদের বা মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, গত জানুয়ারি-জুন ২০২৬ মেয়াদে যে সুদের হার ও শর্ত বহাল ছিল, তা আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত একই হারে ও একই শর্তে অব্যাহত থাকবে।

গত ০২ জুলাই ২০২৬ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (সঞ্চয় শাখা) পক্ষ থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেছেন সহকারী সচিব মো: মোবারক হোসেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশটি গত ০১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে।

বিভিন্ন সঞ্চয় স্কিমের মুনাফার হার ও বিনিয়োগ সীমা:

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও নির্দেশনা অনুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত প্রধান ৪টি সঞ্চয় স্কিমের মুনাফার হার ও বিনিয়োগ সীমা নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো (প্রতি ১,০০,০০০ টাকার বিপরীতে):

১. ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র (মেয়াদ ৩ বছর):

  • মুনাফার হার: ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে ১১.২২%, ৫ লাখ থেকে ৭.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ১১.২২% এবং ৭,৫০,০০১ টাকার ঊর্ধ্বে ১১.০৭%।

  • ক্রয়সীমা: একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ এবং যৌথ নামে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা।

২. পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র (মেয়াদ ৫ বছর):

  • মুনাফার হার: ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে ১১.২৮%, ৫ লাখ থেকে ৭.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ১১.২৮% এবং ৭,৫০,০০১ টাকার ঊর্ধ্বে ১১.০১%।

  • ক্রয়সীমা: একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ এবং যৌথ নামে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা।

৩. পেনশনার সঞ্চয়পত্র (মেয়াদ ۵ বছর):

  • মুনাফার হার: ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে ১১.৭৬%, ৫ লাখ থেকে ৭.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ১১.৭৬% এবং ৭,৫০,০০১ টাকার ঊর্ধ্বে ১১.০১%।

  • ক্রয়সীমা: পেনশন ও গ্র্যাচুইটি হিসেবে প্রাপ্ত নিট টাকার ভিত্তিতে একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা।

৪. পরিবার সঞ্চয়পত্র (মেয়াদ ৫ বছর):

  • মুনাফার হার: ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে ১১.৫২%, ৫ লাখ থেকে ৭.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ১১.৫২% এবং ৭,৫০,০০১ টাকার ঊর্ধ্বে ১১.০১%।

  • ক্রয়সীমা: একক নামে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা।

উৎস করের নিয়মাবলী:

বাংলাদেশে প্রচলিত সব ধরনের সঞ্চয়পত্র মিলিয়ে একজন বিনিয়োগকারীর মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ লাখ টাকা বা তার কম হলে প্রাপ্ত মুনাফার ওপর ৫% হারে উৎস আয়কর প্রযোজ্য হবে। তবে মোট বিনিয়োগ ৫ লাখ টাকার বেশি হলে সম্পূর্ণ অংশের মুনাফার ওপর ১০% হারে উৎস আয়কর কাটা হবে। পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে অনধিক ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার ওপর কোনো উৎস আয়কর প্রযোজ্য নয়।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলী:

  • সব ধরনের সঞ্চয়পত্র মিলিয়ে একজন ব্যক্তির নামে (একটি এনআইডি-তে) সর্বোচ্চ ক্রয়সীমা ৫০ লাখ টাকা এবং পেনশনারগণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা। যৌথ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের এনআইডি-তে আলাদাভাবে বিনিয়োগের পরিমাণ হিসাব করা হবে।

  • মেয়াদপূর্তির পূর্বে সঞ্চয়পত্র নগদায়ন বা উত্তোলন করা হলে বছরভিত্তিক নির্ধারিত হ্রাসকৃত মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। যদি কোনো অতিরিক্ত মুনাফা ইতিমধ্যে প্রদান করা হয়ে থাকে, তবে তা মূল টাকা থেকে সমন্বয় করা হবে।

  • আবেদন সাপেক্ষে সঞ্চয়পত্র পুনঃবিনিয়োগযোগ্য। তবে মেয়াদপূর্তির অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন পূর্বে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট ইস্যুকারী অফিসে আবেদন করতে হবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত মধ্যবিত্ত, সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং বিশেষ করে পেনশনার ও নারীদের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হবে। অব্যাঙ্ককিং খাতের এই বিনিয়োগে সরকারের এই ধারাবাহিক নীতি সাধারণ মানুষের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Source

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *