নিয়োগ । বদলি । পদোন্নতি । জ্যেষ্ঠতা

সরকারি নন-গেজেটেড কর্মচারীদের পদোন্নতির সুযোগ কোথায় বেশি? বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ বিধিমালায় উঠে এলো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর প্রত্যেক কর্মচারীর অন্যতম প্রত্যাশা থাকে পদোন্নতি, উচ্চতর পদে যাওয়ার সুযোগ এবং চাকরিজীবনে পেশাগত উন্নতি। কিন্তু বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পদোন্নতির নিয়ম এক নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময় চাকরি করার পর উচ্চতর পদে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও অন্য প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের পদের জন্য রয়েছে ভিন্ন শর্ত। কোথাও পাঁচ বছরের চাকরিকালের উল্লেখ রয়েছে, আবার কোথাও সাত বছর বা তার বেশি সময়ের শর্ত পাওয়া যায়।

নন-গেজেটেড নিয়োগ বিধিমালা ডাটাবেইজ

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিধিমালা, পদভিত্তিক যোগ্যতা এবং পদোন্নতির তথ্য নিয়ে তৈরি একটি বিশেষ ডাটাবেইজে এসব বিষয় একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। এতে কর্মচারীরা নিজেদের পদ নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিধিমালা, সম্ভাব্য পদোন্নতির পথ, প্রয়োজনীয় চাকরিকাল এবং পরবর্তী পদ সম্পর্কে ধারণা পেতে পারবেন।

ডাটাবেইজটির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি নন-গেজেটেড কর্মচারীদের জন্য নিয়োগ বিধিমালা ও পদোন্নতির শর্ত বোঝার ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিধিমালা নিয়ে বিশেষ তথ্যভান্ডার

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়োগ বিধিমালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব বিধিমালায় কোন পদে কী যোগ্যতা প্রয়োজন, কোন পদ থেকে পদোন্নতি পাওয়া যাবে, কত বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে কী ধরনের কোটা প্রযোজ্য হবে, তা নির্ধারণ করা থাকে।

সংকলিত ডাটাবেইজে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয়, বাহিনী ও সংস্থা এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নিয়োগ বিধিমালা রাখা হয়েছে।

এতে বাংলাদেশ সচিবালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, নির্বাচন কমিশন, খাদ্য অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ডাক অধিদপ্তর, বাংলাদেশ রেলওয়ে, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিধিমালা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, সোনালী ব্যাংক, রাজউক, সাধারণ বীমা করপোরেশন, খুলনা ও চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরি প্রবিধানমালার তথ্যও সংকলন করা হয়েছে।

তথ্যভান্ডারে প্রতিটি বিধিমালার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পিডিএফ বা ডাউনলোড লিংক যুক্ত রয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা মূল নথি দেখে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে পারেন।

অফিস সহায়ক থেকে উচ্চতর পদে যাওয়ার সুযোগ

নন-গেজেটেড কর্মচারীদের মধ্যে অফিস সহায়ক পদটি অন্যতম পরিচিত পদ। সাধারণত ২০তম গ্রেডের এই পদে কর্মরত কর্মচারীদের কাছে পরবর্তী পদে পদোন্নতির সুযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ডাটাবেইজে বাংলাদেশ সচিবালয়ের ২০১৪ সালের নিয়োগ বিধিমালা এবং ২০২০ সালের সংশোধনীসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে অফিস সহায়ক থেকে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে পদোন্নতির একটি উদাহরণ সংযুক্ত করা হয়েছে।

এখানে পাঁচ বছরের চাকরিকাল এবং কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষতার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে একই তথ্যের সঙ্গে পাঁচ ও ছয় বছরের ভিন্ন উল্লেখ থাকায় মূল বিধিমালার তফসিল-১ যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, পাঁচ বছর চাকরি করলেই প্রত্যেক অফিস সহায়ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদোন্নতি পাবেন—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিধিমালা, পদোন্নতির যোগ্যতা, শূন্যপদ এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

অফিস সহকারী থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ার সম্ভাবনা

ডাটাবেইজে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদ থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির একটি উদাহরণও রয়েছে।

এতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ ধরনের পদোন্নতির নজির থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২০ সালের সংশোধনী অনুযায়ী ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডের পদ থেকে ১০ম থেকে ১২তম গ্রেডের পদে পদোন্নতির সুযোগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

তবে এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চাকরিকাল ও পদোন্নতির কোটা এখনো যাচাইসাপেক্ষ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একই পদে চাকরি করলেও সব মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরে পদোন্নতির সুযোগ একরকম নাও হতে পারে। তাই অন্য প্রতিষ্ঠানের পদোন্নতির নজির দেখে নিজের প্রতিষ্ঠানে একই সুবিধা দাবি করার আগে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের পদোন্নতির তথ্য

ডাটাবেইজে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কয়েকটি পদের পদোন্নতির উদাহরণ আলাদাভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বর্তমান পদসম্ভাব্য পদোন্নতির পদউল্লেখিত চাকরিকাল
অডিটরসহকারী সমাজসেবা অফিসার৫ বছর
সাঁটলিপিকারসহকারী সমাজসেবা অফিসার৫ বছর
কম্পিউটার অপারেটরসহকারী সমাজসেবা অফিসার৫ বছর
প্রধান সহকারীসহকারী সমাজসেবা অফিসার৭ বছর
উচ্চমান সহকারীসহকারী সমাজসেবা অফিসার৭ বছর
হিসাবরক্ষকসহকারী সমাজসেবা অফিসার৭ বছর
ফিল্ড সুপারভাইজারসহকারী সমাজসেবা অফিসার৭ বছর

এ ছাড়া সমাজকর্মী পদ থেকে ফিল্ড সুপারভাইজার পদে পদোন্নতির একটি বিশেষ উদাহরণ রয়েছে। সেখানে পাঁচ বছরের চাকরিকালের ভিত্তিতে মোট পদের ৭০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যভান্ডারে এ ক্ষেত্রে ২০১৩ সালের সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়োগ বিধিমালার তফসিলের ৩৪ পৃষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে।

তবে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন, সংশোধনী, কোটা এবং কমিশনের শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন।

কোন পদে কত গ্রেড ও মূল বেতন?

ডাটাবেইজে সরকারি বিভিন্ন পদের গ্রেড, মূল বেতন এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার একটি পৃথক তালিকা রয়েছে। এতে সাধারণ প্রশাসনিক পদ থেকে শুরু করে কারিগরি ও বিশেষায়িত পদের তথ্যও সংকলিত হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে রয়েছে—

পদের নামডাটাবেইজে উল্লেখিত গ্রেডপ্রাথমিক মূল বেতন
অফিস সহায়ক২০তম৮,২৫০ টাকা
অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক১৬তম৯,৩০০ টাকা
হিসাব সহকারী১৬তম৯,৩০০ টাকা
উচ্চমান সহকারী১৪তম১০,২০০ টাকা
হিসাবরক্ষক১৩তম১১,০০০ টাকা
অডিটর১১তম১২,৫০০ টাকা
প্রশাসনিক কর্মকর্তা১০ম১৬,০০০ টাকা
কম্পিউটার অপারেটর১৪তম১০,২০০ টাকা

এসব তথ্য ডাটাবেইজে সংকলিত বেতন কাঠামোর উদাহরণ। বর্তমান কার্যকর বেতন স্কেল বা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত পদবিন্যাস হিসেবে এগুলো সরাসরি গ্রহণ করা যাবে না।

একই পদের জন্য কেন আলাদা নিয়োগবিধি?

সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন ও সাংগঠনিক কাঠামো আলাদা হওয়ায় নিয়োগ বিধিমালাও ভিন্নভাবে প্রণীত হয়েছে।

কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন একই ধরনের সাধারণ পদে কর্মরত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নিয়োগের যোগ্যতা, পদোন্নতির সময় এবং অন্যান্য শর্তে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়।

উদাহরণস্বরূপ, অফিস সহায়ক, অফিস সহকারী, উচ্চমান সহকারী, হিসাবরক্ষক ও কম্পিউটার অপারেটর পদ অনেক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। অথচ এসব পদের পদোন্নতির সুযোগ ও শর্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

ফলে একজন কর্মচারী নিজের প্রতিষ্ঠানে যে ধরনের পদোন্নতির সুযোগ পাচ্ছেন, অন্য প্রতিষ্ঠানের একই ধরনের পদে কর্মরত কর্মচারী হয়তো ভিন্ন সুযোগ পাচ্ছেন।

এ কারণে নিয়োগ বিধিমালার তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সাধারণ পদগুলোর জন্য অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পুরোনো নিয়োগ বিধিমালা ও সংশোধনী যাচাই জরুরি

ডাটাবেইজে একই প্রতিষ্ঠানের পুরোনো ও নতুন বিধিমালা পাশাপাশি রাখা হয়েছে। যেমন, বাংলাদেশ সচিবালয়ের ২০০৬ ও ২০১৪ সালের বিধিমালা এবং ২০২০ সালের সংশোধনীসংক্রান্ত তথ্য রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ১৯৮৫ সালের পুরোনো বিধিমালার পাশাপাশি ২০২০ সালের নতুন বিধিমালাও সংকলিত হয়েছে।

এ ছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সময়ের বিধিমালা ও সংশোধনী যুক্ত রয়েছে।

এ কারণে কোনো কর্মচারী পদোন্নতি বা চাকরিসংক্রান্ত সুবিধা জানতে চাইলে শুধু পুরোনো বিধিমালা অনুসরণ করলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সর্বশেষ কার্যকর বিধিমালা ও সংশোধনী যাচাই করা প্রয়োজন।

নিজের পদ অনুযায়ী বিধিমালা খুঁজে দেখার সুবিধা

এই তথ্যভান্ডারের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, ব্যবহারকারী নিজের পদের নাম নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুসন্ধান করতে পারবেন।

এতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে।

  • বিধিমালা তালিকা: বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ বিধিমালা ও পিডিএফ লিংক দেখা যাবে।

  • নিজের পদ: পদের নাম অনুসারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিধিমালা ও পদোন্নতির তথ্য খোঁজা যাবে।

  • দপ্তর তুলনা: একই পদের পদোন্নতির তথ্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করা যাবে।

  • পদোন্নতির তথ্য যোগ: নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানের পদোন্নতির তথ্য যুক্ত করা যাবে।

  • অভিন্ন নিয়োগ বিধিমালা: সাধারণ পদগুলোর জন্য অভিন্ন নিয়োগ কাঠামোর প্রস্তাব ও বিশ্লেষণ দেখা যাবে।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডাটাবেইজে কোনো পদের জন্য সম্ভাব্য দপ্তর দেখানো হলে সেটি সব সময় নিশ্চিত তথ্য নয়। অনেক ক্ষেত্রে পদের নাম ও প্রতিষ্ঠানের ধরন বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য দপ্তর নির্ধারণ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে মূল নিয়োগ বিধিমালার তফসিল দেখে নিশ্চিত হতে হবে।

অভিন্ন নিয়োগ বিধিমালা হলে কী পরিবর্তন আসতে পারে?

তথ্যভান্ডারে সরকারি নন-গেজেটেড কর্মচারীদের জন্য একটি সাধারণ বা অভিন্ন নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়নের প্রস্তাবও রয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামোতে সাধারণ পদগুলোর জন্য একটি অভিন্ন নিয়ম এবং বিশেষায়িত পদগুলোর জন্য পৃথক তফসিল রাখার কথা বলা হয়েছে।

এতে মূল বিধিমালার অধীনে নিয়োগ, বয়স, পরীক্ষা, জ্যেষ্ঠতা, প্রশিক্ষণ ও পদোন্নতির সাধারণ নিয়ম নির্ধারণ করা যেতে পারে।

অন্যদিকে পৃথক তফসিলে অফিস সহায়ক, অফিস সহকারী, উচ্চমান সহকারী, হিসাবরক্ষক, কম্পিউটার অপারেটর ও অন্যান্য সাধারণ পদের গ্রেড, যোগ্যতা, পদোন্নতির পদ, প্রয়োজনীয় চাকরিকাল এবং কোটা উল্লেখ করা যেতে পারে।

প্রকৌশলী, সার্ভেয়ার, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও অন্যান্য বিশেষায়িত পদের ক্ষেত্রে আলাদা বিধান রাখার সুযোগ থাকবে।

এ ছাড়া নতুন বিধিমালা বাস্তবায়নের সময় পুরোনো কর্মচারীদের অর্জিত জ্যেষ্ঠতা ও অধিকার সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

কর্মচারীদের এখন কী করা উচিত?

যেসব সরকারি কর্মচারী নিজেদের পদোন্নতির সুযোগ সম্পর্কে জানতে চান, তাদের প্রথমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ কার্যকর নিয়োগ বিধিমালা সংগ্রহ করা উচিত।

এরপর বিধিমালার তফসিলে নিজের পদের নাম, পদোন্নতির ফিডার পদ, প্রয়োজনীয় চাকরিকাল, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কোটা এবং অন্যান্য শর্ত যাচাই করতে হবে।

বিশেষ করে পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় চাকরিকাল পূর্ণ হলেই পদোন্নতি নিশ্চিত হয় না। অনুমোদিত শূন্যপদ, জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা এবং বিধিমালায় নির্ধারিত অন্যান্য শর্তও গুরুত্বপূর্ণ।

ডাটাবেইজটি এসব তথ্য এক জায়গায় খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরকারি গেজেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনই অনুসরণ করতে হবে।

উপসংহার

সরকারি নন-গেজেটেড কর্মচারীদের চাকরির উন্নয়ন, পদোন্নতি ও অধিকারসংক্রান্ত তথ্য সহজে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন নিয়োগ বিধিমালা একত্রে সংকলনের উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে একই পদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পদোন্নতির শর্ত তুলনা করার সুযোগ কর্মচারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পারে।

একই সঙ্গে সাধারণ পদগুলোর ক্ষেত্রে অযৌক্তিক পার্থক্য চিহ্নিত করে অভিন্ন নিয়োগ কাঠামো তৈরির বিষয়ে নীতিগত আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে অভিন্ন নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন একটি সরকারি নীতিগত ও আইনগত প্রক্রিয়া। সংকলিত তথ্যভান্ডারে এ বিষয়ে প্রস্তাব থাকলেও নতুন কোনো অভিন্ন বিধিমালা সরকার অনুমোদন করেছে বা গেজেট প্রকাশ করেছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আপাতত কর্মচারীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যকর নিয়োগ বিধিমালা অনুসারেই চাকরি ও পদোন্নতিসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *