১১৭ প্রজাতির গাছ কাটা নিষিদ্ধ ঘোষণা ২০২৬ । বিপন্ন ও ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ রক্ষায় কঠোর সরকার?
দেশের বনজ সম্পদ রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। নতুন প্রণীত ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর আওতায় সারা দেশে ১১৭ প্রজাতির গাছ কাটার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিশেষ গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।
প্রধান নিষিদ্ধ বৃক্ষসমূহ
গেজেটের প্রথম তালিকায় ১০টি অতি-বিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষকে সম্পূর্ণভাবে কর্তন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
টালি পাম (Tali Palm)
সিভিট (Civit Tree)
বৈলাম (Mascal Wood Tree)
চুন্দুল (False Hemp Tree)
বুনো আম (Wild Mango) এবং বাঁশপাতা।
এছাড়াও দ্বিতীয় একটি তালিকায় আরও ১১৭টি প্রজাতির গাছের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলো বন ও পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য অপরিহার্য হিসেবে বিবেচিত। এই তালিকায় ফুলকাট, কেওড়া, সাদা বাইন, শীল কড়ই, কুর্চি এবং হিজলের মতো পরিচিত ও দুর্লভ গাছগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশেষ নির্দেশনাবলী ও বিধিমালা
গেজেটে বৃক্ষ সংরক্ষণে ৫টি বিশেষ শর্তারোপ করা হয়েছে: ১. ঐতিহ্যবাহী ও স্মারক বৃক্ষ: সরকার ঘোষিত কোনো ঐতিহ্যবাহী, স্মারক বা পবিত্র বৃক্ষ কোনোভাবেই কাটা যাবে না। ২. পাখির বাসা: যেসব গাছে পাখির বাসা (Bird Colony) রয়েছে, সেগুলো কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ৩. গণপরিসরের গাছ: বন সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমতি ব্যতীত রাস্তা বা পার্কের মতো গণপরিসরের কোনো গাছ কাটা যাবে না। ৪. উন্নয়ন প্রকল্প: উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে বন অধিদপ্তরের অনুমতি এবং সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের শর্ত পালন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ৫. ব্যক্তিগত মালিকানা: ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানাধীন গাছ কাটার ক্ষেত্রেও ‘বনদ্রব্য পরিবহন (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০১১’ অনুসরণ করতে হবে। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে ১৯৭৩ সালের বিশেষ ট্রানজিট রুলস কার্যকর থাকবে।
কেন এই উদ্যোগ?
পরিবেশবিদরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এই অধ্যাদেশ ঢাল হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি রক্ষা এবং প্রাকৃতিক বনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত সময়োপযোগী।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আদেশ অমান্য করে কেউ গাছ কাটলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশের বনজ সম্পদ রক্ষায় সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার এবং অবৈধ বৃক্ষ নিধন দেখলে কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।





