আইবাস++ । পে ফিক্সেশন । ই-ফাইলিং

৯ম পে-স্কেল ফিক্সেশন ২০২৬: iBAS++ পে-ফিক্সেশনে পদবি, TIN ও প্রথম কর্মস্থল নিয়ে জটিলতা—আগে সাবমিট করা কর্মচারীদের করণীয় কী?

বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণ কার্যক্রমে iBAS++ সিস্টেম ব্যবহার করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও সমস্যার কথা সামনে আসছে। বিশেষ করে সঠিক পদবি ড্রপডাউনে না পাওয়া, ‘সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর’ পদটি খুঁজে না পাওয়া, TIN নম্বর উল্লেখ না করে আবেদন সাবমিট করা, প্রথম কর্মস্থলের নাম না থাকা এবং ভুল তথ্য দিয়ে ইতিমধ্যে পে-ফিক্সেশন সাবমিট করে ফেলার পর করণীয় নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আলোচনায় আসা একটি নির্দেশনামূলক ছবিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পর সিস্টেমে প্রবেশ করে নির্ভুল পদবি নির্বাচন করে বেতন নির্ধারণের অনুরোধ করতে হবে। জিওবি স্টাফদের ক্ষেত্রে সঠিক পদবি নির্বাচন এবং সাধারণ তথ্যসংক্রান্ত ট্যাবে TIN ও ইমেইল আইডি যুক্ত করার বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে।

অন্যদিকে, অর্থ বিভাগের iBAS++ পোর্টালে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম চালুর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ৫ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদেও অনলাইনে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ছবির নির্দেশনা, কর্মচারীদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং সরকারি সিস্টেমের আনুষ্ঠানিক নিয়ম—এই তিনটি বিষয়কে এক করে দেখা যাবে না। কোনো তথ্য সংশোধনের সুযোগ আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর লগইন, সাবমিশনের অবস্থা এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করতে পারে।

পে-ফিক্সেশনে ইতিমধ্যে সাবমিট করা থাকলে কী করবেন?

অনেক কর্মচারীর প্রধান প্রশ্ন—একবার সাবমিট করার পর কোনো তথ্য ভুল পাওয়া গেলে কি সেটি সংশোধন করা যাবে? নাকি নতুন করে আবেদন করতে হবে?

এ ক্ষেত্রে প্রথমেই বুঝতে হবে, সাবমিট করা মানেই সব তথ্য চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়ে গেছে—এমন নয়। আবার সব সাবমিট করা আবেদন কর্মচারী নিজে থেকেই সংশোধন করতে পারবেন, এমন নিশ্চয়তাও নেই।

করণীয় হতে পারে:

1. iBAS++ সিস্টেমে প্রবেশ করে সাবমিট করা তথ্য ও আবেদনের বর্তমান অবস্থা যাচাই করুন।

2. পদবি, যোগদানের তারিখ, কর্মস্থল, গ্রেড ও মূল বেতনের তথ্য নিয়োগপত্র এবং সার্ভিস বুকের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।

3. ভুল তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় বা অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত iBAS++ অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

4. আবেদন সংশোধনের সুযোগ বন্ধ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ছাড়া নতুন করে একাধিক আবেদন জমা দেবেন না।

এভাবে যাচাই করলে ভুল তথ্যের কারণে পরবর্তী সময়ে বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

১. TIN নম্বর ছাড়া পে-ফিক্সেশন সাবমিট করলে কী হবে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন কর্মচারী জানিয়েছেন, পদবি নয়, TIN নম্বর উল্লেখ না করেই পে-ফিক্সেশন সাবমিট করা হয়েছে। পরে TIN যুক্ত করা যাবে কি না, সেটিই তাঁর প্রশ্ন।

এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখতে হবে।

  • TIN নম্বর না থাকা এবং TIN নম্বরের ঘর ফাঁকা রাখা এক বিষয় নয়।

  • কোনো তথ্য ঐচ্ছিক হলে সেটি ফাঁকা রেখেও সাবমিট করা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু বাধ্যতামূলক তথ্য ফাঁকা রেখে সাবমিট করা যাচ্ছে কি না, তা সিস্টেমের নিয়মের ওপর নির্ভর করে।

iBAS++-এর প্রকাশ্য নতুন নিয়োগের ফরমে এনআইডি, নাম, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর, ইমেইল, নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য এবং যোগদানের তারিখে পদবি চাওয়ার বিষয়টি দেখা যায়। তবে এই ফরমের তথ্য দিয়ে সব ধরনের পে-ফিক্সেশনে TIN-এর নিয়ম নিশ্চিত করা যায় না।

করণীয়: TIN-এর ঘর ফাঁকা থাকলে প্রথমে দেখুন, সেটি সংশোধনের জন্য খোলা আছে কি না। সংশোধনের সুযোগ না থাকলে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সহায়তা নিন। TIN পরে যোগ করা যাবে—এমন তথ্যকে নিশ্চিত সরকারি নির্দেশনা হিসেবে প্রচার করা ঠিক হবে না।

২. ‘সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর’ পদবি না পাওয়া গেলে করণীয়

iBAS++-এর ড্রপডাউন তালিকায় ‘সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর’ পদবি খুঁজে না পাওয়ার অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। এ পদে কর্মরতদের প্রশ্ন, নতুন করে পদবি যুক্ত করা হবে কি না।

প্রথমেই বলা প্রয়োজন, ড্রপডাউনে কোনো পদবি না পাওয়া মানেই পদটি সরকারি কাঠামোয় নেই—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালে এ পদে নিয়োগসংক্রান্ত নোটিশ প্রকাশিত হয়েছে।

অর্থাৎ পদটির অস্তিত্ব এবং iBAS++-এর নির্দিষ্ট তালিকায় সেটি দৃশ্যমান থাকা দুটি পৃথক বিষয়।

সম্ভাব্য করণীয়:

  • পদবির বানান ও বিকল্প নাম দিয়ে অনুসন্ধান করুন।

  • পদটির সঠিক নাম নিয়োগপত্র, পদোন্নতির আদেশ বা সার্ভিস বুকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

  • একই ধরনের অন্য কোনো পদবি পাওয়া গেলেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সেটি নির্বাচন করবেন না।

  • পদবি তালিকায় না থাকলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় বা প্রশাসনিক শাখাকে বিষয়টি জানান।

  • প্রয়োজন হলে সিস্টেমে পদবি অন্তর্ভুক্তি বা তালিকা হালনাগাদের জন্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা নিন।

গুরুত্বপূর্ণ: ভবিষ্যতে ড্রপডাউনে সব পদবি যুক্ত করা হবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও এ বিষয়ে নিশ্চিত সরকারি ঘোষণা ছাড়া নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।

৩. প্রথম কর্মস্থলের নাম না থাকলে কী করবেন?

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো প্রথম কর্মস্থলের নাম iBAS++-এ না পাওয়া। একজন কর্মচারীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম কর্মস্থলে অর্থনৈতিক কোড না থাকায় পরে দ্বিতীয় কর্মস্থলে যোগ দিয়ে সেখান থেকে বেতন চালু করা হয়েছিল। এখন নতুন বেতন নির্ধারণের সময় প্রথম কর্মস্থলের নাম না পাওয়ায় কী করতে হবে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

এ ধরনের ক্ষেত্রে শুধু বর্তমান কর্মস্থল নির্বাচন করলেই সমস্যার সমাধান হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ বেতন নির্ধারণে যোগদানের তারিখ, কর্মস্থলের পরিবর্তন, পদবি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বদলি বা পদায়নের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

করণীয় হিসেবে—

1. প্রথম নিয়োগপত্র ও প্রথম কর্মস্থলে যোগদানের আদেশ সংগ্রহ করুন।

2. দ্বিতীয় কর্মস্থলে পদায়ন বা বদলির আদেশ থাকলে সেটিও প্রস্তুত রাখুন।

3. প্রথম কর্মস্থলের নাম বা সংশ্লিষ্ট অফিসের অর্থনৈতিক কোড না পাওয়া গেলে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়কে জানান।

4. কোন কর্মস্থলকে সিস্টেমে কীভাবে দেখাতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত করুন।

5. সিস্টেমে বিকল্প কর্মস্থল নির্বাচন করতে বলা হলে সেই নির্দেশনা অনুসরণ করুন এবং প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করুন।

প্রথম কর্মস্থলের নাম তালিকায় নেই বলে সেটি বাদ দিয়ে দ্বিতীয় কর্মস্থলকে প্রথম কর্মস্থল হিসেবে দেখানো যাবে—এমন সাধারণ নিয়ম ধরে নেওয়া উচিত নয়। কর্মচারীর প্রকৃত চাকরির ইতিহাসের সঙ্গে তথ্যের সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন।

৪. ভুল পদবি দিয়ে সাবমিট করা হলে কি আবার আবেদন করতে হবে?

পদবি ভুল নির্বাচন করে সাবমিট করার আশঙ্কা থাকলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে আবেদনটির অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন।

আবেদনের অবস্থাকরণীয়
এখনো সাবমিট হয়নিতথ্য যাচাই করে সঠিক পদবি নির্বাচন করুন
সাবমিট হয়েছে, সংশোধনের সুযোগ আছেসংশ্লিষ্ট তথ্য সংশোধন করে নির্দেশনা অনুযায়ী এগোন
সাবমিট হয়েছে, সংশোধনের সুযোগ নেইদায়িত্বপ্রাপ্ত অপারেটর বা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সহায়তা নিন
ভুল পদবি অনুমোদিত হয়েছেঅনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশোধনের ব্যবস্থা নিন
প্রয়োজনীয় পদবি তালিকায় নেইবিকল্প পদবি অনুমান করে নির্বাচন না করে কর্তৃপক্ষকে জানান

এই তালিকাটি ব্যবহারিক করণীয় বোঝানোর জন্য তৈরি; এটি iBAS++ কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকার বিকল্প নয়।

৫. ছবিতে উল্লেখ করা সময়ের পর সিস্টেমে প্রবেশের নির্দেশনা কী বোঝায়?

প্রচারিত ছবিতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের নির্দিষ্ট সময়ের পর সিস্টেমে প্রবেশ করে সঠিক পদবি নির্বাচন করে বেতন নির্ধারণের অনুরোধ করতে হবে। জিওবি স্টাফদের ক্ষেত্রে পদবি পুনরায় সঠিকভাবে নির্বাচন করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

এখানে সময়সংক্রান্ত নির্দেশনাটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্ধারিত কার্যক্রমের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি। ছবিতে উল্লেখিত সময়সীমা বা পুনরায় অনুরোধের নিয়ম সব কর্মচারীর জন্য একইভাবে প্রযোজ্য কি না, তা শুধু ছবি দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

অর্থ বিভাগের iBAS++ পোর্টালে ২০২৬ সালের পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম চালুর তথ্য রয়েছে। তবে কোন কর্মচারী কখন সংশোধন করতে পারবেন, তা তাঁর ব্যবহৃত মডিউল এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশনার ওপর নির্ভর করতে পারে।

৬. পে-ফিক্সেশনের আগে যে তথ্যগুলো যাচাই করবেন

পে-ফিক্সেশন যাচাই তালিকা

0/8 সম্পন্ন

৭. কোথায় যোগাযোগ করবেন?

সমস্যার ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া উচিত।

  • পদবি তালিকায় না থাকলে: অফিসের প্রশাসনিক শাখা ও সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়।

  • প্রথম কর্মস্থলের নাম বা অর্থনৈতিক কোড না থাকলে: সংশ্লিষ্ট অফিস এবং হিসাবরক্ষণ কার্যালয়।

  • সাবমিট করা তথ্য সংশোধন করা না গেলে: দায়িত্বপ্রাপ্ত iBAS++ অপারেটর বা অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ।

  • সাধারণ তথ্য বা লগইনসংক্রান্ত সমস্যা হলে: iBAS++-এর সরকারি পোর্টাল ও প্রকাশিত নির্দেশিকা।

সরকারি পোর্টাল: iBAS++ — অর্থ বিভাগের বেতন নির্ধারণ ব্যবস্থা

শেষ কথা

জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী পে-ফিক্সেশন করতে গিয়ে পদবি না পাওয়া, TIN-এর তথ্য অসম্পূর্ণ থাকা কিংবা প্রথম কর্মস্থলের নাম না থাকার মতো সমস্যায় কর্মচারীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সঠিক নথির ভিত্তিতে তথ্য যাচাই করা।

আগে সাবমিট করা হয়েছে বলেই আবেদন বাতিল হয়ে গেছে—এমন নয়। আবার ভুল তথ্য থাকলেও সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধন হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তাও নেই। তাই আবেদনটির অবস্থা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধন নিশ্চিত করাই নিরাপদ পদক্ষেপ।

সরকারি কর্মচারীদের উচিত গুজব বা অনুমানের ভিত্তিতে পদবি, কর্মস্থল কিংবা চাকরির তথ্য পরিবর্তন না করে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করা। এতে পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়া নির্ভুল রাখা এবং ভবিষ্যতের বেতনসংক্রান্ত জটিলতা এড়ানো সহজ হবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *