আইবাস++ । পে ফিক্সেশন । ই-ফাইলিং

৯ম পে-স্কেল ফিক্সেশন ২০২৬: পে-ফিকেশনে পদবি, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা, যেসব ভুলে বেতন পেতে দেরি হতে পারে

জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিকেশন কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা সামনে এসেছে। বিশেষ করে পদবির তথ্য না পাওয়া, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ফিক্সেশন, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডের বেতন নির্ধারণ, বাধ্যতামূলক তথ্য পূরণ এবং অবসর-পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

প্রকাশিত নির্দেশনামূলক তথ্য ও সংযুক্ত iBAS++-এর স্ক্রিনশট বিশ্লেষণে দেখা যায়, পে-ফিকেশন ফরমে বর্তমান পদের তথ্য সঠিকভাবে নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও পদবি নির্বাচন করা না গেলে, পুরোনো বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম বন্ধ থাকলে কিংবা প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন না হলে কর্মচারীদের সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসের পরামর্শ নিতে হতে পারে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—এখানে আলোচিত নির্দেশনাগুলো সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এগুলোর প্রতিটি বিষয়কে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা iBAS++ কর্তৃপক্ষের যাচাইকৃত নির্দেশনা হিসেবে ধরে নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ ও দপ্তরের নির্দেশনা মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

১. পে-ফিকেশনে পদবি নির্বাচন করতে সমস্যা হলে কী করবেন?

iBAS++ পে-ফিকেশন ফরমের স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে, বর্তমান অফিসের তথ্য পূরণের পর ‘বর্তমান পদবি’ এবং ‘বর্তমান পদের সমতুল্য গ্রেড’ নির্বাচন করার অংশে সমস্যা হচ্ছে। পদবি নির্বাচনের তালিকায় প্রয়োজনীয় পদ না পাওয়া গেলে ফরম পূরণকারী কর্মচারীরা পরবর্তী ধাপে যেতে সমস্যায় পড়তে পারেন।

প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব কর্মচারীর পদবি তালিকায় পাওয়া যাচ্ছে না, তাঁরা আপাতত একই বা সমতুল্য পদের তথ্য নির্বাচন করে ফিক্সেশন সম্পন্ন করার সুযোগ পেতে পারেন। পরবর্তী সময়ে পদবি সংশোধনের ব্যবস্থা চালু হলে প্রকৃত পদবি সংশোধন করা যাবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।

তবে এখানে সতর্কতা প্রয়োজন। শুধু ফিক্সেশন সম্পন্ন করার জন্য ইচ্ছামতো অন্য পদবি নির্বাচন করা উচিত নয়। পদবি, পদমর্যাদা ও বেতন গ্রেডের মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে ভবিষ্যতে বেতন নির্ধারণ, পদোন্নতি কিংবা চাকরির রেকর্ড যাচাইয়ে সমস্যা হতে পারে। তাই একই বা সমতুল্য পদ নির্বাচনের আগে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

২. ৩০ জুন ২০২৬-এর আগে পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড পেলে কী হবে?

পে-ফিকেশন নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো—যেসব সরকারি কর্মচারীর নতুন নিয়োগ, পদোন্নতি অথবা উচ্চতর গ্রেড ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের আগে কার্যকর হয়েছে, তাঁদের বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে?

প্রদত্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের বেতনস্কেল অনুযায়ী পুরোনো পে-ফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এ ধরনের কিছু ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতিতে ফিক্সেশন করা যাচ্ছে না। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের নতুন নির্দেশনা বা প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার-সুবিধার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।

এক্ষেত্রে কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো—

  • ৩০ জুন ২০২৬-এর আগে পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট আদেশ ও কার্যকরের তারিখ যাচাই করতে হবে।

  • পুরোনো বেতনস্কেল অনুযায়ী ফিক্সেশন করতে গিয়ে সফটওয়্যারে সমস্যা দেখা দিলে বারবার নতুন তথ্য দিয়ে চেষ্টা না করে হিসাবরক্ষণ অফিসের পরামর্শ নিতে হবে।

  • পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের আদেশ, যোগদানের তারিখ এবং সর্বশেষ বেতন নির্ধারণের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

  • নতুন নির্দেশনা ছাড়া নিজের মতো করে বেতন নির্ধারণ করে চূড়ান্ত সাবমিশন দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ফিক্সেশন বন্ধ থাকার বিষয়টি সরবরাহ করা নির্দেশনার দাবি। এর সুনির্দিষ্ট পরিধি ও ব্যতিক্রম সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা দিয়ে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

৩. ১ জুলাই ২০২৬ থেকে পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড কার্যকর হলে করণীয়

যেসব কর্মচারীর পদোন্নতি অথবা উচ্চতর গ্রেড ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নির্দেশনায় একটি নির্দিষ্ট ক্রম অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

প্রথমে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী মূল বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতি কিংবা উচ্চতর গ্রেডের ফিক্সেশন করতে হবে।

বিষয়টি সহজভাবে বুঝতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে।

১

প্রথম ধাপ: ২০২৬ সালের পে-ফিকেশন

প্রযোজ্য তথ্য ও চাকরির রেকর্ডের ভিত্তিতে নতুন বেতনস্কেলে মূল বেতন নির্ধারণ করুন।

২

দ্বিতীয় ধাপ: পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড

প্রযোজ্য আদেশ, কার্যকরের তারিখ ও বিধি অনুসারে পরবর্তী ফিক্সেশন করুন।

৩

তৃতীয় ধাপ: চূড়ান্ত তথ্য যাচাই

নির্ধারিত বেতন, পদবি, গ্রেড ও কার্যকরের তারিখ যাচাই করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন করুন।

এখানে মনে রাখতে হবে, পদোন্নতি এবং উচ্চতর গ্রেড এক বিষয় নয়। কোন কর্মচারীর ক্ষেত্রে কোন বিধি প্রযোজ্য হবে, তা তাঁর নিয়োগবিধি, পদোন্নতির আদেশ এবং কার্যকর সরকারি বেতন নির্ধারণের নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।

৪. নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পে-ফিকেশনের প্রক্রিয়া কিছুটা আলাদা হতে পারে বলে সরবরাহ করা নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে প্রথমে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর তথ্য iBAS++ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নির্দেশনায় ‘Fixation Eligibility (First Recruitment)’ এন্ট্রি এবং অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় এন্ট্রি অনুমোদিত হওয়ার পর ২০২৬ সালের পে-ফিকেশন করা যাবে বলে জানানো হয়েছে।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য করণীয়—

1. প্রথম নিয়োগের আদেশ ও যোগদানের তারিখ যাচাই করুন।

2. ব্যক্তিগত তথ্য, পদবি, কর্মস্থল এবং নিয়োগসংক্রান্ত রেকর্ড সঠিক আছে কি না দেখুন।

3. প্রযোজ্য হলে ‘Fixation Eligibility (First Recruitment)’ এন্ট্রি সম্পন্ন করে অনুমোদন নিন।

4. প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৬ সালের পে-ফিকেশন করুন।

5. কোনো ধাপে ত্রুটি দেখালে সংশ্লিষ্ট DDO বা হিসাবরক্ষণ অফিসের সহায়তা নিন।

গুরুত্বপূর্ণ: নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সবার জন্য একই পদ্ধতি প্রযোজ্য কি না, তা সংশ্লিষ্ট নিয়োগের ধরন ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।

৫. পে-ফিকেশন ফরমে কোন তথ্যগুলো বাধ্যতামূলক?

iBAS++ পে-ফিকেশন ফরমে যেসব তথ্যের পাশে তারকা (*) চিহ্ন রয়েছে, সেগুলো বাধ্যতামূলকভাবে পূরণ করতে হবে বলে প্রদত্ত নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, যেসব ঘরে তারকা চিহ্ন নেই, সেগুলোতে তথ্য না থাকলে আপাতত ফরম পূরণে বাধা নাও আসতে পারে। তবে তথ্যটি প্রযোজ্য এবং নির্ভুলভাবে জানা থাকলে তা পূরণ করা ভালো।

ফরম পূরণের সময় বিশেষভাবে যাচাই করা উচিত—

  • চাকরিতে যোগদানের তারিখ।

  • ক্যাডার বা সার্ভিসের নাম, যেখানে প্রযোজ্য।

  • সার্ভিস পরিচিতি নম্বর, যেখানে প্রযোজ্য।

  • মন্ত্রণালয় বা বিভাগ।

  • অধিদপ্তর বা পরিদপ্তর।

  • অধীন অফিস বা অপারেশনাল গ্রুপ।

  • মাঠপর্যায়ের অফিস বা অপারেশনাল ইউনিট।

  • প্রথম যোগদানের সময়কার পদবি।

  • যোগদানকৃত পদের সমতুল্য গ্রেড।

  • বর্তমান কর্মস্থল ও বর্তমান পদসংক্রান্ত তথ্য।

সব তথ্য পূরণের পর সাবমিশনের আগে একবার মিলিয়ে দেখা উচিত। বিশেষ করে যোগদানের তারিখ, পদবি এবং গ্রেডের ক্ষেত্রে ভুল হলে পরবর্তী যাচাইয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

৬. PRL-এ থাকা কর্মচারীরা কী করবেন?

যেসব সরকারি কর্মচারী বর্তমানে অবসর-উত্তর ছুটিতে (PRL) রয়েছেন অথবা ১ জুলাই ২০২৬-এর পর PRL-এ যাবেন, তাঁদের বিষয়ে পৃথক নির্দেশনা আসতে পারে বলে সরবরাহ করা তথ্যতে উল্লেখ রয়েছে।

এক্ষেত্রে অবসর-সংক্রান্ত তারিখ, অবসরের আদেশ এবং পেনশন নির্ধারণের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ কর্মরত কর্মচারীর পে-ফিকেশন পদ্ধতি সরাসরি PRL-এ থাকা প্রত্যেক কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।

PRL-এ থাকা কর্মচারীদের করণীয় হলো—

  • অবসরের সম্ভাব্য তারিখ ও PRL শুরুর তারিখ যাচাই করা।

  • সর্বশেষ মূল বেতন এবং চাকরির রেকর্ড সংরক্ষণ করা।

  • নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী পেনশন নির্ধারণের বিষয়ে প্রযোজ্য সরকারি আদেশ অনুসরণ করা।

  • সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে নিজের ক্ষেত্রে কী পদ্ধতি প্রযোজ্য, তা নিশ্চিত করা।

এখানে নতুন সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে; নতুন কোনো সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে জারি হয়েছে—এমন তথ্য সরবরাহ করা হয়নি।

৭. সময়মতো পে-ফিকেশন না করলে কি বেতন পেতে দেরি হবে?

পে-ফিকেশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা বেতন ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফিক্সেশন সম্পন্ন না হলে বা প্রয়োজনীয় তথ্য ও অনুমোদন অসম্পূর্ণ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নতুন বেতন নির্ধারণ কিংবা বেতনসংক্রান্ত কার্যক্রমে বিলম্ব হতে পারে।

তবে পে-ফিকেশন দেরিতে সম্পন্ন হলেই প্রত্যেক কর্মচারীর বেতন অবশ্যই বন্ধ হয়ে যাবে—এমন সাধারণ সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। বিষয়টি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বেতন বিল প্রস্তুত, অনুমোদন এবং অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ার ওপর।

সরবরাহ করা নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যাঁরা আগের বেতন গ্রহণ করেননি, তাঁরা ফিক্সেশন করতে পারবেন না। এই বক্তব্যটি বিশেষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। আগের বেতন না নেওয়ার সঙ্গে পে-ফিকেশন করার যোগ্যতার সম্পর্ক কী, তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত একে সবার জন্য প্রযোজ্য নিয়ম হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়।

কর্মচারীদের তাই দ্রুত বেতনসংক্রান্ত রেকর্ড যাচাই করে প্রয়োজনীয় ফিক্সেশন ও অনুমোদন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

৮. পে-ফিকেশনে সমস্যা হলে কোথায় যোগাযোগ করবেন?

পে-ফিকেশন ফরম পূরণের সময় পদবি না পাওয়া, অপারেশনাল ইউনিট নির্বাচন করতে না পারা, নিয়োগের তথ্য না মেলা, গ্রেডের অসামঞ্জস্য কিংবা সাবমিশনে ত্রুটি দেখা দিতে পারে।

এসব ক্ষেত্রে বারবার ভুল তথ্য দিয়ে চেষ্টা না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া ভালো।

সমস্যার ধরনকরণীয়
পদবি তালিকায় নেইসমতুল্য পদের বিষয়ে DDO বা হিসাবরক্ষণ অফিসের পরামর্শ নিন
যোগদানের তারিখ বা চাকরির তথ্য ভুলসংশ্লিষ্ট চাকরির রেকর্ড যাচাই ও প্রয়োজনীয় সংশোধন করুন
নতুন নিয়োগের ফিক্সেশন হচ্ছে নানিয়োগসংক্রান্ত যোগ্যতা এন্ট্রি ও অনুমোদন যাচাই করুন
পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের ফিক্সেশন হচ্ছে নাআদেশের কার্যকরের তারিখ ও প্রযোজ্য বিধি যাচাই করুন
বাধ্যতামূলক ঘর পূরণ করা যাচ্ছে নাসংশ্লিষ্ট তথ্যের রেকর্ড ও সিস্টেমে অন্তর্ভুক্তি যাচাই করুন
সাবমিশন বা অনুমোদনে ত্রুটিত্রুটির বার্তা সংরক্ষণ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহায়তা নিন

৯. পে-ফিকেশন সম্পন্ন করার আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন

সরকারি কর্মচারীদের জন্য কয়েকটি সতর্কতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, সঠিক তথ্য ব্যবহার করুন। ভুল পদবি, গ্রেড বা যোগদানের তারিখ দিয়ে ফরম জমা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

দ্বিতীয়ত, প্রযোজ্য বিধি অনুসরণ করুন। নতুন নিয়োগ, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড এবং PRL-এর ক্ষেত্রে একই নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

তৃতীয়ত, প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করুন। নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, পদোন্নতির আদেশ, উচ্চতর গ্রেডের আদেশ এবং সর্বশেষ বেতন নির্ধারণের কপি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুত রাখুন।

চতুর্থত, অনুমোদনের অবস্থা যাচাই করুন। শুধু ফরম পূরণ করাই চূড়ান্ত কাজ নয়; প্রয়োজনীয় যাচাই ও অনুমোদন সম্পন্ন হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

পঞ্চমত, অনিশ্চিত নির্দেশনাকে চূড়ান্ত নিয়ম মনে করবেন না। সফটওয়্যারের সাময়িক সীমাবদ্ধতা এবং সরকারি বিধির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কোনো অপশন না পাওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ফিক্সেশনের অযোগ্য—এমন নয়।

শেষ কথা

জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী পে-ফিকেশন সম্পন্ন করতে গিয়ে পদবি নির্বাচন, পুরোনো ফিক্সেশন, নতুন নিয়োগ, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড এবং PRL-সংক্রান্ত বিষয়ে কর্মচারীদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে ৩০ জুন ও ১ জুলাই ২০২৬—এই দুই তারিখের আগে-পরে নিয়োগ বা পদোন্নতির কার্যকরের তারিখ সঠিকভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে সরবরাহ করা স্ক্রিনশট ও নির্দেশনামূলক তথ্যের ভিত্তিতে সব নিয়মকে চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। কোনো পদবি তালিকায় না পাওয়া গেলে বা ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট DDO এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের মাধ্যমে সঠিক নির্দেশনা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত—সঠিক তথ্য, সঠিক বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ভিত্তিতে পে-ফিকেশন সম্পন্ন করা, যাতে ভবিষ্যতে বেতন নির্ধারণ ও চাকরির রেকর্ড নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা তৈরি না হয়।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *