এসিআর । সার্ভিস বুক । স্মারকলিপি

সরকারি চাকরির রেকর্ড সংরক্ষণের নিয়ম ২০২৪ । সার্ভিস বই কি দুই কপি চালু রাখতে হয়?

সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকেই জানে না যে, চাকরির খতিয়ান বহি বা চাকরির রেকর্ড কিভাবে সংরক্ষণ করিতে হয়, কোন বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করিতে হইবে এবং বিষয়গুলো প্রতিস্বাক্ষর করিতে হইবে তাহা সম্পর্কে অবগত নয়। সার্ভিস বুক রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভুলের জন্য কে দায়ী তাও জানি না। নিচের সার্ভিসবুক সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য নিচের প্রদান করা হলো। 

চাকরির রেকর্ড সংরক্ষণ সম্পর্কে বিএসআর পার্ট-১ এর পরিশিষ্ট-৮ এর সন্নিবেশিত নিয়মাবলী নিম্নরূপ:

১। গেজেটেড কর্মকর্তার চাকরির রেকর্ড মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃক নির্ধারিত নিরীক্ষা অফিসে নির্ধারিত ফরমে সংরক্ষিত হইবে। অনু-(৩৬)

২। নন গেজেটেড কর্মচারীদের চাকরি বহি মহা হিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে সংরক্ষণ করিতে হইবে। অনু-(৩৭)

৩। দুই কপি চাকরি বহি সংশ্লিষ্ট কর্মচারী প্রথম নিয়োগের সময় নিজস্ব ব্যয়ে সংগ্রহ করিবেন। এই চাকরি বহি কর্মরত অফিসের অফিস প্রধান প্রধানের হেফাজতে থাকিবে এবং বদলির ক্ষেত্রে বদলিকৃত কর্মস্থলে সংরক্ষণ করিতে হইবে। অনু-(৩৮)

৪। কর্মজীবনের প্রতিটি ধাপ চাকরি বহিতে অর্ন্তভূক্ত হইবে এবং তাহা অফিস প্রধান কর্তৃক সত্যায়িত হইতে হইবে। অফিস প্রধান লক্ষ্য রাখিবেন যেন প্রতিটি অন্তর্ভূক্তি যথাযথভাবে লিপিবদ্ধকরণ ও সত্যায়িত হয় এবং কোন কাটাকাটি বা ওভার রাইটিং না হয় এবং ভুল সংশোধন যেন পরিস্কারভাবে করা হয় ও তাহা যেন স্বাক্ষর দ্বারা সত্যায়িত হয়।

বৎসরের প্রারম্ভে একটি নির্দিষ্ট সময়ে অফিস প্রধান বা এই উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চাকরি বহি যাচাই করিয়া নিশ্চিত হইবেন যে, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর চাকরি সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ হইয়াছে এবং তিনি এই মর্মে চাকরি বহিতে প্রত্যয়ন লিপিবদ্ধ করিবেন, “চাকরি…………তারিখ হইতে……….পর্যন্ত যাচাই করা হইল।”

যাচাইকৃত চাকরি পেনশন গণনায় ধরা হইবে। অনু-(৩৯)

৫। সাময়িক বরখাস্তের সময় এবং চাকরির মধ্যবর্তী অন্যান্য বিরতীকালের সময় মেয়াদের পূর্ণ বিবরণসহ চাকরি বহির পৃষ্ঠায় আড়াআড়িভাবে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে এবং সত্যায়নকারী কর্মকর্তা কর্তৃক তাহা স্বাক্ষর দ্বারা সত্যায়িত করিতে হইবে। অবিলম্বে যেন লিপিবদ্ধ করা হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা সত্যায়নকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব। অনু-(৪০)

৬। বিভাগীয় প্রধানের নির্দেশ না থাকিলে চাকরি বহিতে কর্মচারীর ব্যক্তিগত চরিত্র সম্পর্কে কোন প্রত্যয়ন লিপিবদ্ধ করা যাইবে না। তবে পদাবনত করা হইলে, উহার কারণ সংক্ষিপ্তভাবে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে। অনু-(৪১)।

৭। পেনশনের জন্য চাকরি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যেন কোন জটিলতার সৃষ্টি না হয়, সেই অনু-(৩৯) এর নির্দেশ অনুযায়ী চাকরি বহি যথাযথভাবে সংরক্ষিত হইতেছে কিনা, সেদিকে লক্ষ্য রাখা সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক কর্মচারীর দায়িত্ব। কোন কর্মচারী যে কোন সময় চাকরি বহি পরীক্ষা করিয়া দেখার ইচ্ছা ব্যক্তি করিলে, অফিস প্রধান অবশ্যই অনুমতি দিবেন। অনু -(৪২)

৮। নন-গেজেটেড কর্মচারী স্থায়ীভাবে বা সাময়িকভাবে অন্য অফিসে বদলি হইলে, বদলির প্রকৃতি চাকরি বহিতে লিপিবদ্ধ করিয়া ঐ সময় পর্যন্ত চাকরি যাচাইপূর্বক অফিস প্রধান কর্তৃক বা এই উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত করিয়া বদলিকৃত কর্মস্থলের অফিস প্রধানের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং উক্ত অফিস প্রধান তাহার অফিসে উহা রক্ষণাবেক্ষণ করিবেন। অনু-(৪৩)

৯। কোন কর্মচারী ফরেন সার্ভিসে বদলি হইলে মহা হিসাব নিয়ন্ত্রকের নির্ধারিত নিরীক্ষা কর্মকর্তার নিকট তাহার মূল চাকরি বহি প্রেরণ করিতে হইবে এবং ডুপ্লিকেট কপি মূল অফিসে সংরক্ষিত হইবে। ফরেন সার্ভিসকালের ছুটির প্রাপ্যতাসহ প্রয়োজনীয় বিবরণী মূল চাকরি বহিতে নিরীক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরসহ লিপিবদ্ধ করিয়া তাহা ফেরত দিবেন। উক্ত কর্মচারী পুনরায় সরকারী চাকরিতে বদলি হইলে পুন: মূল চাকরি বহি উক্ত নিরীক্ষা কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং নিরীক্ষা অফিসার প্রয়োজনীয় বিবরণী স্বাক্ষরসহ লিপিবদ্ধ করিয়া তাহা ফেরত দিবেন। ফরেন সার্ভিসের কর্মকালের সময়ের লিপিবদ্ধ বিবরণী নিরীক্ষা কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কোন কর্তৃপক্ষ সত্যায়িত করিতে পারিবে না। অনু- (৪৫)

১০। (এ) শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ব্যতীত চাকরি হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত হইলে বা পদত্যাগ করিলে, চাকরি বহি কর্মচারীকে ফেরত দেওয়া যাইবে। তবে ফেরত প্রদানের পূর্বে ফেরত প্রদানের বিষয়টি চাকরি বহিতে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে। কর্মচারীর মৃত্যুতে আবেদনের প্রেক্ষিতে তাহার আত্মীয় স্বজনকে চাকরি বহি ফেরত দেওয়া যাইবে।

(বি) চাকরি হইলে বরখাস্তকৃত কোন কর্মচারী পরবর্তী পর্যায়ে চাকরিতে পুর্নবহাল হইলে অনুরোধ পত্রের ভিত্তিতে চাকরি বহি পুনর্বহালকৃত অফিসের অফিস প্রধানের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।

১১। অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে পেনশন মঞ্জুরির পর চাকরি বহি তাহাকে ফেরত দেওয়া যাইতে পারে। তবে এইক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে স্বাক্ষরসহ চাকরি বহিতে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে যে, “……অবসরে যাওয়ায় তাহার আবেদনের প্রেক্ষিতে তাহার চাকরি বহি তাহাকে ফেরত দেওয়া হইল” অনু- (৪৯) এর নোট।


সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যারা প্রশাসন শাখা বা হিসাব শাখায় কাজ করেন তারাই কেবল চাকরি সম্পর্কিত বিধি বিধানগুলো সম্পর্কে ভাল ধারণা রাখেন। অবশিষ্ট ৮০% কর্মকর্তা/ কর্মচারীই সরকারি চাকরির বিধানাবলী, বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস, হালনাগাদ পেনশন রুলস, ভ্রমণ বিধি ও প্রাপ্যতা , উৎসব ভাতার প্রাপ্যতা, সরকারি কর্মচারীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা বা চিকিৎসা শেষে ব্যয় উত্তোলন, বিভিন্ন ভাতাদির প্রাপ্যতা, বিভিন্ন ধরনের অগ্রিম সুবিধা গ্রহণ, নিয়োগ ও বদলি নীতিমালা, বিভিন্ন ধরনের ছুটি কিভাবে নিতে হয়, বাসা বরাদ্দ বা বাড়ি ভাড়া প্রাপ্যতা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা বা রেশন সুবিধা ইত্যাদি সর্ম্পকে ভাল ধারনা রাখেন না। এই ওয়েবসাইটটিতে উপরোক্ত বিষয়গুলো সহজ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সাধারণ কর্মচারী যাতে সহজেই ব্যাপার গুলো বুঝতে পারে এবং যদি কোন বিধি বুঝতে সমস্যা হয় তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করতে পারেন সে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেউ যদি কোন বিধি বা নীতিমালা বুঝতে অসমর্থ হয় তবে আমাদের ফেসবুক পেইজ, গ্রুপ এবং ইমেইল ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন।

প্রতিটি পোস্টের রেফারন্স পোস্টের শেষে “ডাউনলোড” নামের যে লিংক দেওয়া আছে সেখান থেকে সংগ্রহ করে নিতে পারেন। ডাউনলোড ফাইল Google Drive or Box.com এ স্টোর করা আছে। কারও যদি ফাইলটি ডাউনলোড করতে সমস্যা হয় তবে আপনি আপনার নিজের gmail Account এ Login করে নিন। লগইন করার পর ঠিকই ফাইলটি ডাউনলোড হবে। তবুও যদি আপনি রেফারেন্স ফাইল ডাউনলোডে সমস্যায় পড়ে তবে আপনি এডমিনকে alaminmia.tangail@gmail.com এ ফাইলের নাম দিয়ে নক করুন। এডমিন আপনার ইমেইলের উত্তর দিবে।

কিছু কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের কাছে সরকারি চাকরির বিধি বিধানের কিছু বইও হয়তো সংগ্রহে আছে কিন্তু তা মূলত সংগ্রহেই মাত্র বের করে পড়ার সময় বা সুযোগ নেই। কারও সময় বা সুযোগ থাকলেও বের করে পড়া পর্যন্ত হয় না। আবার দেখা যায় যে, অসংখ্য বইয়ের মধ্যে একটি সামারি বই চাকরির বিধানাবলীই শুধুমাত্র সংগ্রহ রয়েছে। সরকারি চাকরি সংক্রান্ত অসংখ্যা বই রয়েছে যেগুলো আবার প্রতি বছরই আপডেট হয়ে থাকে আপনি যদি শুধুমাত্র এই ওয়েবসাইটের সাথে যুক্ত থাকেন তবে আপনি সকল আপডেট তথ্যই পেয়ে যাবেন। ব্লগটি ভিজিট করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

2 thoughts on “সরকারি চাকরির রেকর্ড সংরক্ষণের নিয়ম ২০২৪ । সার্ভিস বই কি দুই কপি চালু রাখতে হয়?”

  • ১. অসামরিক ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী এনসিইউ বা পরিচ্ছন্নতা কর্মি এবং কন্জারভেনসির মধ্যে কাজের পার্থক্য আছে কি?
    ২. অসামরিক ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী এনসিইউ বা পরিচ্ছন্নতা কর্মি পুরুষকে কন্জারভেনসি মহিলাদের পরিবর্তে কি রিপ্লেস করা যায়?
    ৪.অসামরিক ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী এনসিইউ বা পরিচ্ছন্নতা কর্মির কাজ এবং কন্জারভেনসির কাজ কি কি?
    ৫. অসামরিক ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী এনসিইউ বা পরিচ্ছন্নতা কর্মি যদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে তার কাজের সিমাবদ্ধতা কতটুকু

  • আপনার চারটি প্রশ্নের মূল বিষয় হলো—প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত অসামরিক ৪র্থ শ্রেণির এনসিইউ (NCU) বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং কনজারভেন্সি কর্মীদের কাজের মধ্যে পার্থক্য কী, একজন পুরুষ পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে নারী কনজারভেন্সি কর্মীর পরিবর্তে দায়িত্ব দেওয়া যায় কি না এবং এসব পদের দায়িত্বের সীমা কতটুকু।

    এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একই ধরনের পরিচ্ছন্নতার কাজ করলেও নিয়োগপত্রে পদের নাম, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়োগবিধি, অনুমোদিত দায়িত্ববণ্টন এবং কর্মস্থলের প্রকৃতি অনুযায়ী দায়িত্বের পার্থক্য হতে পারে। শুধু উভয় পদ নিচের গ্রেডের কর্মচারী কিংবা পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত—এ কারণে তাঁদের সব দায়িত্ব একই বলে ধরে নেওয়া যায় না।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে অসামরিক কর্মচারীদের বিভিন্ন পদ এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগবিধির তথ্য রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট পদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়োগবিধি ও দাপ্তরিক দায়িত্ববণ্টন যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
    ১. এনসিইউ বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং কনজারভেন্সি কর্মীর মধ্যে কাজের পার্থক্য আছে কি?
    হ্যাঁ, দায়িত্বের ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকতে পারে। তবে শুধু পদের নাম দেখে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একই পার্থক্য নির্ধারণ করা যাবে না।
    ক. এনসিইউ (NCU) বা অসামরিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী
    প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে এনসিইউ (NCU) শব্দটি কোন পূর্ণ পদনাম বা শ্রেণি বোঝাতে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিয়োগপত্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো দেখে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

    যদি পদটি পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে অনুমোদিত হয়ে থাকে, তাহলে সাধারণত দায়িত্বের মধ্যে থাকতে পারে:
    – অফিসকক্ষ, করিডর ও বারান্দা ঝাড়ু দেওয়া।
    – মেঝে ও নির্ধারিত স্থান পরিষ্কার রাখা।
    – নির্ধারিত স্থানের ধুলাবালি পরিষ্কার করা।
    – ডাস্টবিনের ময়লা অপসারণ ও নির্ধারিত স্থানে ফেলা।
    – শৌচাগার পরিষ্কারের দায়িত্ব দেওয়া থাকলে তা পরিষ্কার রাখা।
    – কর্মস্থলের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করা।
    তবে প্রত্যেক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে সব ধরনের কাজ করতেই হবে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁর পদের নির্ধারিত দায়িত্ব দেখতে হবে।
    খ. কনজারভেন্সি কর্মী
    কনজারভেন্সি বলতে সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা বা এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজকে বোঝানো হয়।

    প্রতিষ্ঠানভেদে কনজারভেন্সি কর্মীর দায়িত্বের মধ্যে থাকতে পারে:
    – নির্ধারিত এলাকার ময়লা-আবর্জনা অপসারণ।
    – শৌচাগার ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার পরিচ্ছন্নতা।
    – বর্জ্য সংগ্রহ ও নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর।
    – ড্রেন বা নালা পরিষ্কারের দায়িত্ব দেওয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট কাজ।
    – নির্ধারিত বহিরাঙ্গন ও আশপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখা।
    মূল পার্থক্য: পরিচ্ছন্নতাকর্মীর দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট অফিসকক্ষ বা ভবনকেন্দ্রিক হতে পারে; অন্যদিকে কনজারভেন্সির দায়িত্ব তুলনামূলকভাবে বৃহত্তর এলাকা, স্যানিটেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকেন্দ্রিক হতে পারে।

    এটি সাধারণ ধারণাভিত্তিক পার্থক্য, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সব প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য কোনো যাচাইকৃত অভিন্ন দায়িত্বতালিকা নয়।
    ২. পুরুষ এনসিইউ বা পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে নারী কনজারভেন্সি কর্মীর পরিবর্তে দায়িত্ব দেওয়া যাবে কি?
    এটি আপনার প্রশ্নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    একজন পুরুষ পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে নারী কনজারভেন্সি কর্মীর পরিবর্তে দায়িত্ব দেওয়া যাবে কি না, তা নির্ভর করবে কাজের প্রকৃতি, নিয়োগবিধি, অনুমোদিত পদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশের ওপর।

    এখানে তিনটি বিষয় আলাদা করে দেখতে হবে।
    পরিস্থিতি ১: একই ধরনের সাধারণ পরিচ্ছন্নতার কাজ
    ধরা যাক, একজন নারী কর্মী একটি নির্দিষ্ট এলাকার সাধারণ পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন এবং পুরুষ কর্মীও একই ধরনের কাজের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত।

    এ ক্ষেত্রে দায়িত্বের মধ্যে যথেষ্ট মিল থাকলে কর্তৃপক্ষ কর্মবণ্টনের মাধ্যমে দায়িত্ব পরিবর্তন বা সাময়িকভাবে অন্য কর্মীকে দিয়ে কাজ করানোর সুযোগ পেতে পারে।

    তবে পদ দুটির দায়িত্ব, জনবল কাঠামো ও প্রযোজ্য বিধি যাচাই করা প্রয়োজন।
    পরিস্থিতি ২: নারীদের ব্যবহৃত শৌচাগার বা ব্যক্তিগত পরিসর পরিষ্কার করা
    যদি দায়িত্বটি নারীদের ব্যবহৃত শৌচাগার, পরিবর্তনকক্ষ বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সঙ্গে সম্পর্কিত স্থানের পরিচ্ছন্নতার হয়, তাহলে বিষয়টি বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

    এক্ষেত্রে দেখতে হবে:
    – সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লিখিত নির্দেশনায় কী বলা আছে।
    – স্থানটি পরিষ্কারের সময় নারী কর্মীদের উপস্থিতি বা গোপনীয়তার বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করা হয়।
    – দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো বিশেষ ব্যবস্থা বা সীমাবদ্ধতা নির্ধারিত আছে কি না।
    নারী কর্মীর পরিবর্তে পুরুষ কর্মীকে এ ধরনের দায়িত্ব দেওয়া সর্বাবস্থায় বৈধ অথবা সর্বাবস্থায় অবৈধ—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো নির্দিষ্ট প্রযোজ্য বিধি এখানে যাচাই করা যায়নি।
    পরিস্থিতি ৩: নারী কর্মীর পদে পুরুষ কর্মীকে স্থায়ীভাবে প্রতিস্থাপন
    এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

    কাজের দায়িত্ব দেওয়া এবং একটি অনুমোদিত পদে অন্য কর্মীকে স্থায়ীভাবে প্রতিস্থাপন করা এক বিষয় নয়।
    – সাময়িক দায়িত্ব বণ্টন: কর্তৃপক্ষের বৈধ নির্দেশ অনুযায়ী অন্য কর্মীকে নির্দিষ্ট কাজ দেওয়া হতে পারে।
    – স্থায়ী পদ প্রতিস্থাপন: অনুমোদিত পদ, নিয়োগের শর্ত, জনবল কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট বিধি যাচাই ছাড়া একজন কর্মীকে অন্য পদের স্থায়ী বিকল্প হিসেবে নিয়োগ বা প্রতিস্থাপন করা যায় না।
    অতএব, কোনো নারী কনজারভেন্সি কর্মীর অনুপস্থিতিতে পুরুষ পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে কাজ করতে বলা এবং নারী কর্মীর অনুমোদিত পদটি পুরুষ কর্মী দিয়ে স্থায়ীভাবে প্রতিস্থাপন করা—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা প্রশাসনিক বিষয়।
    ৩. এনসিইউ বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং কনজারভেন্সি কর্মীর কাজ কী কী?
    নিচে সম্ভাব্য দায়িত্বের তুলনা দেওয়া হলো। এটি সাধারণ দায়িত্বের উদাহরণ; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত দায়িত্বতালিকাই চূড়ান্তভাবে বিবেচ্য।
    কাজের ধরন এনসিইউ/পরিচ্ছন্নতাকর্মী কনজারভেন্সি কর্মী
    অফিসকক্ষ ঝাড়ু দেওয়া দায়িত্বে থাকতে পারে দায়িত্বে থাকতে পারে
    মেঝে পরিষ্কার করা দায়িত্বে থাকতে পারে দায়িত্বে থাকতে পারে
    অফিসের আসবাব পরিষ্কার করা দায়িত্বে থাকতে পারে দায়িত্বে থাকতে পারে
    শৌচাগার পরিষ্কার করা দায়িত্বে থাকলে করতে হবে দায়িত্বে থাকতে পারে
    ডাস্টবিনের ময়লা অপসারণ দায়িত্বে থাকতে পারে দায়িত্বে থাকতে পারে
    ভবনের বাইরের এলাকা পরিষ্কার দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী দায়িত্বে থাকতে পারে
    ড্রেন বা নালা পরিষ্কার নির্ধারিত দায়িত্ব থাকলে দায়িত্বে থাকতে পারে
    বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ নির্ধারিত দায়িত্ব অনুযায়ী দায়িত্বে থাকতে পারে
    নির্দিষ্ট অফিস বা ভবন পরিচ্ছন্ন রাখা প্রধান দায়িত্ব হতে পারে দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী
    বৃহত্তর এলাকা বা স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা পদ অনুযায়ী প্রধান দায়িত্ব হতে পারে

    এখানে লক্ষণীয়, কোনো কাজ টেবিলে একটি পদের ঘরে উল্লেখ থাকলেই অন্য পদটি সেই কাজ করতে পারবে না—এমন নয়। আবার দুটি পদের কাজ কাছাকাছি হলেই একজন কর্মীকে অন্য পদের সব দায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া যাবে—এমনও নয়।

    কাজের পরিধি নির্ধারণে নিয়োগপত্র, চাকরিবিধি, দাপ্তরিক আদেশ এবং অনুমোদিত কর্মবণ্টন গুরুত্বপূর্ণ।
    ৪. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত হলে দায়িত্বের সীমাবদ্ধতা কতটুকু?
    এ ক্ষেত্রে প্রথমেই বুঝতে হবে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করলেও সব অসামরিক কর্মচারী একই নিয়োগবিধির আওতায় পড়েন না।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি আইন ও বিধির তালিকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক নিয়োগবিধি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেসের অসামরিক কর্মচারীদের জন্য ২০২২ সালের নিয়োগবিধি এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিম্ন সংগঠনের বেসামরিক কর্মচারীদের জন্য ২০২১ সালের নিয়োগবিধি তালিকাভুক্ত রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

    তাই কর্মীর দায়িত্বের সীমা নির্ধারণের জন্য নিচের বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন।
    ক. নিয়োগপত্রে উল্লেখিত পদের নাম
    নিয়োগপত্রে যদি ‘এনসিইউ-পরিচ্ছন্নতাকর্মী’ লেখা থাকে, তাহলে সেই পদের নির্ধারিত দায়িত্ব ও প্রযোজ্য বিধি দেখতে হবে।

    অন্যদিকে, নিয়োগপত্রে যদি ‘কনজারভেন্সি কর্মী’ লেখা থাকে, তাহলে ওই পদের দায়িত্ব আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।

    শুধু উভয় পদ একই গ্রেডের বলে ধরে নেওয়া যাবে না যে দুটি পদ সমতুল্য।
    খ. নিয়োগবিধি ও অনুমোদিত দায়িত্বতালিকা
    যদি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়োগবিধি, কর্মবণ্টন আদেশ বা কর্তব্যতালিকায় নির্দিষ্ট দায়িত্ব উল্লেখ থাকে, তাহলে সেটিই হবে দায়িত্ব নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে আইন ও বিধির তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়োগবিধি খুঁজে দেখা যেতে পারে।
    গ. কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অতিরিক্ত কাজ
    কর্তৃপক্ষ কর্মীর স্বাভাবিক দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত অতিরিক্ত কাজ দিতে পারেন কি না, তা প্রযোজ্য চাকরিবিধি ও দাপ্তরিক নির্দেশের ওপর নির্ভর করে।

    কিন্তু এ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না যে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে যেকোনো ধরনের কাজ, যেকোনো স্থানে, কোনো শর্ত ছাড়াই দেওয়া যাবে।

    বিশেষত অন্য পদের স্থায়ী দায়িত্ব, বিশেষ দক্ষতানির্ভর কাজ অথবা ভিন্ন প্রকৃতির দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি ও আদেশ যাচাই করা প্রয়োজন।
    ঘ. দায়িত্ব নিয়ে আপত্তি থাকলে কী করবেন?
    যদি মনে হয়, একজন কর্মীকে তাঁর পদের বাইরে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তাহলে মৌখিক বিতর্কের পরিবর্তে লিখিতভাবে বিষয়টি পরিষ্কার করা ভালো।

    আপনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইতে পারেন:

    ১. আপনার পদের অনুমোদিত দায়িত্বতালিকা কী?

    ২. এনসিইউ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কনজারভেন্সি কর্মীর দায়িত্ব কি একই, নাকি আলাদা?

    ৩. একজন পুরুষ কর্মীকে নারী কর্মীর নির্ধারিত দায়িত্ব দেওয়ার কোনো লিখিত আদেশ বা নীতিমালা আছে কি?

    ৪. দায়িত্ব পরিবর্তন সাময়িক, নাকি স্থায়ী?

    ৫. এ বিষয়ে কোন নিয়োগবিধি বা দাপ্তরিক আদেশ অনুসরণ করা হচ্ছে?

    এসব প্রশ্নের লিখিত উত্তর পেলে আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কী করা যাবে, তা অনেক বেশি নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
    ৫. আপনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধি যাচাই করতে তিনটি তথ্য প্রয়োজন
    আমি বিষয়টি আরও নির্দিষ্টভাবে বিশ্লেষণ করতে চাই। কারণ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একই বিধি প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *