পে-স্কেল I গেজেট । প্রজ্ঞাপন । পরিপত্র

দফাদার ও মহল্লাদার পদবিতে পরিবর্তন, নতুন নাম নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার তৃণমূল পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী গ্রাম পুলিশের পদবিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে সরকার। এখন থেকে গ্রাম পুলিশের ক্ষেত্রে ‘দফাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ এবং ‘মহল্লাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ’ শব্দ ব্যবহার করা হবে। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এ পরিবর্তনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

গেজেটে কী পরিবর্তন আনা হয়েছে?

প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৯৬ ধারা এবং ৪৮ ধারার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষমতাবলে সরকার গ্রাম পুলিশ বাহিনী গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলি-সংক্রান্ত বিধিমালা, ২০১৫-এর নির্দিষ্ট শব্দগুলো পরিবর্তন করেছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—

১. দফাদার পরিবর্তে গ্রাম পুলিশ প্রধান: পূর্বে গ্রাম পুলিশ বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান পদটি ‘দফাদার’ নামে পরিচিত ছিল। এখন থেকে বিধিমালায় এই শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ শব্দ ব্যবহার করা হবে।

২. মহল্লাদার পরিবর্তে গ্রাম পুলিশ: আগে গ্রাম পুলিশের অন্য সদস্যদের ক্ষেত্রে ‘মহল্লাদার’ শব্দটি ব্যবহৃত হতো। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এর পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ’ শব্দ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

অর্থাৎ, সরকারি বিধিমালায় গ্রাম পুলিশ বাহিনীর পদবির ক্ষেত্রে প্রচলিত দুটি নামের পরিবর্তে নতুন নাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

কোন আইনের ক্ষমতাবলে এই পরিবর্তন?

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৯৬ এবং ধারা ৪৮-এর সঙ্গে পঠিতব্য বিধান অনুযায়ী সরকার এ সংশোধনী এনেছে।

এর মাধ্যমে গ্রাম পুলিশ বাহিনী গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলি-সংক্রান্ত বিধিমালা, ২০১৫-এর নির্দিষ্ট পরিভাষায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এটি মূলত বিদ্যমান বিধিমালার শব্দগত সংশোধন। অর্থাৎ, গ্রাম পুলিশ বাহিনীর পরিচিতি ও পদবির নাম পরিবর্তন করে সরকারি নথিতে নতুন পরিভাষা যুক্ত করা হয়েছে।

কবে থেকে কার্যকর হবে নতুন নাম?

বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সংশোধিত বিধান অবিলম্বে কার্যকর হবে।

ফলে গেজেট প্রকাশের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় ‘দফাদার’ ও ‘মহল্লাদার’ শব্দের পরিবর্তে যথাক্রমে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ ও ‘গ্রাম পুলিশ’ শব্দ ব্যবহারের বিধান কার্যকর হয়েছে।

গ্রাম পুলিশদের জন্য এই পরিবর্তনের গুরুত্ব কী?

ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে গ্রাম পুলিশ বাহিনী স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রশাসনিক কাজে সহযোগিতা, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

দীর্ঘদিন ধরে এ বাহিনীর সদস্যরা দফাদার ও মহল্লাদার নামে পরিচিত ছিলেন। নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব প্রচলিত পদবির পরিবর্তে দায়িত্ব ও বাহিনীর পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিভাষা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষ করে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ এবং ‘গ্রাম পুলিশ’ নাম দুটি বাহিনীর পরিচিতিকে আরও সুস্পষ্ট করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে।

তবে এই প্রজ্ঞাপনে মূলত পদবির শব্দগত পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতা, বেতন গ্রেড, নিয়োগের যোগ্যতা, পদোন্নতি, চাকরির মেয়াদ কিংবা অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পরিবর্তনের কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

গ্রাম পুলিশদের জন্য নতুন পদবির তালিকা

আগের পদবিনতুন পদবি
দফাদারগ্রাম পুলিশ প্রধান
মহল্লাদারগ্রাম পুলিশ

গ্রাম পুলিশদের করণীয় কী?

নতুন গেজেট প্রকাশের পর ইউনিয়ন পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরের সরকারি নথিপত্র, দাপ্তরিক চিঠিপত্র এবং প্রয়োজনীয় কাজে সংশোধিত পদবি ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের পরিচিতি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে নতুন পরিভাষা অনুসরণ করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, পদবির নাম পরিবর্তন মানেই চাকরির ধরন, বেতন কাঠামো কিংবা আর্থিক সুযোগ-সুবিধার পরিবর্তন নয়। এসব বিষয়ে আলাদা সরকারি আদেশ বা প্রজ্ঞাপন প্রয়োজন হবে।

শেষ কথা

গ্রাম পুলিশ বাহিনীর দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘দফাদার’ ও ‘মহল্লাদার’ পদবির পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ এবং ‘গ্রাম পুলিশ’ নাম নির্ধারণ করে সরকার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত এই সংশোধনী অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।

সুতরাং, এখন থেকে সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী গ্রাম পুলিশ বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান ব্যক্তি ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ এবং অন্যান্য সদস্য ‘গ্রাম পুলিশ’ হিসেবে পরিচিত হবেন।

সূত্র: বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, ২ নভেম্বর ২০২৬; স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *