ছুটির তালিকা ২০২৭: কোন ছুটি কবে, টানা ছুটির সুযোগ কোথায়, কত দিন ছুটি নিলে মিলবে দীর্ঘ অবকাশ?
নতুন বছর মানেই নতুন পরিকল্পনা। আর সেই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সরকারি ছুটির দিনগুলো আগে থেকেই জেনে রাখা। বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে বছরের ছুটির তালিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৭ সালের সরকারি ছুটির সম্ভাব্য তালিকা সামনে রেখে এখন থেকেই সারা বছরের ভ্রমণ, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগত কাজের পরিকল্পনা সাজিয়ে নেওয়া সম্ভব। বছরের কোন মাসে কত দিন ছুটি রয়েছে, কোন ছুটির সঙ্গে শুক্র ও শনিবার মিলিয়ে দীর্ঘ অবকাশ পাওয়া যাবে এবং মাত্র এক-দুই দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে কীভাবে বড় ভ্রমণের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব—এসব বিষয় নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।
২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা একনজরে
প্রদত্ত ছুটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে জাতীয়, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন উপলক্ষে মোট ২২টি ছুটির দিন তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
তালিকায় রয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, বাংলা নববর্ষ, মে দিবস, বিজয় দিবস, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, দুর্গাপূজা, বড়দিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবস।
২০২৭ সালের ছুটির তারিখ ও বার
| ছুটির নাম | তারিখ | বার |
|---|---|---|
| শবে বরাত | ২৪ জানুয়ারি | রবিবার |
| শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস | ২১ ফেব্রুয়ারি | রবিবার |
| জুমাতুল বিদা | ৫ মার্চ | শুক্রবার |
| শবে কদর | ৭ মার্চ | রবিবার |
| ঈদুল ফিতর | ১০ মার্চ | বুধবার |
| ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন | ১১ মার্চ | বৃহস্পতিবার |
| ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিন | ১২ মার্চ | শুক্রবার |
| স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস | ২৬ মার্চ | শুক্রবার |
| বাংলা নববর্ষ | ১৪ এপ্রিল | বুধবার |
| মে দিবস | ১ মে | শনিবার |
| ঈদুল আজহা | ১৭ মে | সোমবার |
| ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিন | ১৮ মে | মঙ্গলবার |
| ঈদুল আজহার তৃতীয় দিন | ১৯ মে | বুধবার |
| বুদ্ধ পূর্ণিমা | ২০ মে | বৃহস্পতিবার |
| আশুরা | ১৬ জুন | বুধবার |
| জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস | ৫ আগস্ট | বৃহস্পতিবার |
| ঈদে মিলাদুন্নবী | ১৫ আগস্ট | রবিবার |
| জন্মাষ্টমী | ২৫ আগস্ট | বুধবার |
| দুর্গাপূজা | ৮ অক্টোবর | শুক্রবার |
| দুর্গাপূজার দ্বিতীয় দিন | ৯ অক্টোবর | শনিবার |
| বিজয় দিবস | ১৬ ডিসেম্বর | বৃহস্পতিবার |
| বড়দিন | ২৫ ডিসেম্বর | শনিবার |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি প্রদত্ত HTML ফাইলে থাকা তারিখের ভিত্তিতে তৈরি পরিকল্পনামূলক তালিকা। ধর্মীয় ছুটির তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত ছুটির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করতে হবে।
২০২৭ সালে কোন মাসে কতটি ছুটি?
বছরের বিভিন্ন মাসে ছুটির বণ্টন একরকম নয়। কোনো মাসে একাধিক ধর্মীয় ও জাতীয় ছুটি রয়েছে, আবার কোনো মাসে তুলনামূলকভাবে ছুটি কম।
জানুয়ারি: ২৪ জানুয়ারি শবে বরাত উপলক্ষে ছুটির পরিকল্পনা রয়েছে।
ফেব্রুয়ারি: ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
মার্চ: ৫ মার্চ জুমাতুল বিদা, ৭ মার্চ শবে কদর এবং ১০ থেকে ১২ মার্চ ঈদুল ফিতরের ছুটি। এ ছাড়া ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস।
এপ্রিল: ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ।
মে: ১ মে মে দিবস। ১৭ থেকে ১৯ মে ঈদুল আজহা এবং ২০ মে বুদ্ধ পূর্ণিমা।
জুন: ১৬ জুন আশুরা।
জুলাই: প্রদত্ত তালিকায় কোনো ছুটি নেই।
আগস্ট: ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস, ১৫ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী এবং ২৫ আগস্ট জন্মাষ্টমী।
সেপ্টেম্বর: প্রদত্ত তালিকায় কোনো ছুটি নেই।
অক্টোবর: ৮ ও ৯ অক্টোবর দুর্গাপূজার ছুটি।
নভেম্বর: প্রদত্ত তালিকায় কোনো ছুটি নেই।
ডিসেম্বর: ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস এবং ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন।
২০২৭ সালে কোথায় পাওয়া যাবে টানা ছুটি?
বছরের ছুটির তালিকা বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি সময়ে সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সরকারি ছুটি মিলিয়ে দীর্ঘ অবকাশ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশে প্রচলিত শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বিবেচনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো:
১. ঈদুল ফিতর: মার্চে দীর্ঘ ছুটির সুযোগ
১০ মার্চ বুধবার থেকে ১২ মার্চ শুক্রবার পর্যন্ত ঈদুল ফিতরের ছুটি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর সঙ্গে ১৩ মার্চ শনিবার যুক্ত হলে টানা চার দিনের অবকাশ পাওয়া সম্ভব।
২. স্বাধীনতা দিবস: মার্চে দীর্ঘ সপ্তাহান্ত
২৬ মার্চ শুক্রবার। এর সঙ্গে ২৭ মার্চ শনিবার যুক্ত হওয়ায় দুই দিনের সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি পাওয়া যাবে।
৩. ঈদুল আজহা: মে মাসে দীর্ঘ অবকাশ
১৭ মে সোমবার থেকে ২০ মে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঈদুল আজহা ও বুদ্ধ পূর্ণিমার ছুটি তালিকাভুক্ত রয়েছে।
এর আগে ১৪ ও ১৫ মে শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে।
ফলে ১৪ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ সময় কোনো অতিরিক্ত নৈমিত্তিক ছুটির প্রয়োজন নেই।
৪. দুর্গাপূজা: অক্টোবরের সপ্তাহান্ত
৮ অক্টোবর শুক্রবার এবং ৯ অক্টোবর শনিবার দুর্গাপূজার ছুটি রয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই টানা দুই দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।
৫. বিজয় দিবস: ডিসেম্বরের ছুটির পরিকল্পনা
১৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিজয় দিবস। এর পরদিন ১৭ ডিসেম্বর শুক্রবার এবং ১৮ ডিসেম্বর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।
বৃহস্পতিবারের সরকারি ছুটির সঙ্গে শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে টানা তিন দিনের অবকাশ পাওয়া সম্ভব।
কত দিন নৈমিত্তিক ছুটি নিলে বড় ভ্রমণ সম্ভব?
যারা দীর্ঘ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য সরকারি ছুটির আগে বা পরে নৈমিত্তিক ছুটি নেওয়া একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে।
প্রদত্ত পরিকল্পনায় সমতল এলাকায় কর্মরতদের জন্য বছরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি, একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১০ দিন এবং সাপ্তাহিক বা সরকারি ছুটির আগে-পরে সর্বোচ্চ তিন দিন সংযুক্ত করার নিয়ম ধরে একটি ছুটি পরিকল্পনাকারী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তবে নৈমিত্তিক ছুটির প্রকৃত বিধি, সংযুক্তির অনুমোদন এবং দাপ্তরিক শর্ত নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন শাখা থেকে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
মাত্র এক দিন ছুটি নিয়ে দীর্ঘ অবকাশ
ঈদুল ফিতরের ছুটির সঙ্গে ৮ মার্চ সোমবার এক দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিতে পারলে ৫ মার্চ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘ বিরতি তৈরির সুযোগ হতে পারে।
এতে শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি, শবে কদর, ঈদুল ফিতর এবং পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটি একসঙ্গে যুক্ত হবে।
ঈদুল আজহায় সাত দিনের ছুটি
ঈদুল আজহার ক্ষেত্রে ১৪ মে শুক্রবার থেকে ২০ মে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি পাওয়া সম্ভব বলে প্রদত্ত ক্যালেন্ডারে দেখা যাচ্ছে।
এটি দেশের অভ্যন্তরে দীর্ঘ ভ্রমণ কিংবা পারিবারিক সফরের জন্য ভালো একটি সময় হতে পারে।
ডিসেম্বরের ছুটিতে ভ্রমণের সুযোগ
১৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিজয় দিবস। ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি।
এর সঙ্গে ১৯, ২০ ও ২১ ডিসেম্বর তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিতে পারলে ১৬ থেকে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা ছয় দিনের অবকাশ তৈরি হতে পারে।
২০২৭ সালের ছুটির পরিকল্পনা কীভাবে করবেন?
বছরের শুরুতেই ছুটির পরিকল্পনা করে রাখলে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজ অনেক সহজ হয়।
১. প্রথমেই সরকারি ছুটির চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন সংগ্রহ করুন।
২. যেসব ছুটি শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করুন।
৩. ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় আগেভাগে ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন।
৪. নৈমিত্তিক ছুটির কোটা বিবেচনায় রেখে ছুটি ভাগ করে ব্যবহার করুন।
৫. ছুটির আবেদন করার আগে অফিসের প্রশাসনিক অনুমোদন নিশ্চিত করুন।
৬. ধর্মীয় ছুটির সম্ভাব্য তারিখ পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রাখুন।
২০২৭ সালের ছুটির ক্যালেন্ডার ও পরিকল্পনাকারী ব্যবহার করুন
২০২৭ সালের ছুটির তালিকা শুধু পড়ার জন্য নয়, বরং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ছুটির পরিকল্পনা করার জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্রস্তুত করা ইন্টারঅ্যাকটিভ ছুটির পরিকল্পনাকারীতে রয়েছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা।
১. সব ছুটির তালিকা: বছরের ১২ মাসের ছুটি, তারিখ, বার ও ছুটির ধরন দেখা যাবে।
২. রবিবার ও বৃহস্পতিবারের ছুটি: এই দুই দিনে যেসব সরকারি ছুটি পড়েছে, সেগুলো আলাদাভাবে দেখা যাবে।
৩. নৈমিত্তিক ছুটির পরিকল্পনা: নিজের ছুটির কোটা নির্ধারণ করে কোন সময়ে কত দিন ছুটি নিলে দীর্ঘ অবকাশ পাওয়া সম্ভব, তা হিসাব করা যাবে।
এ ছাড়া ক্যালেন্ডারে সরকারি ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি এবং প্রস্তাবিত নৈমিত্তিক ছুটি আলাদাভাবে চিহ্নিত করার সুবিধা রয়েছে।
শেষ কথা
২০২৭ সালের ছুটির তালিকা আগেভাগে জানা থাকলে সরকারি চাকরিজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিকল্পনা সহজে সাজাতে পারবেন। বিশেষ করে মার্চ, মে ও ডিসেম্বর মাসে ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে দীর্ঘ অবকাশ তৈরির সুযোগ রয়েছে।
তবে মনে রাখতে হবে, এখানে দেওয়া তারিখগুলো সরবরাহ করা পরিকল্পনামূলক ক্যালেন্ডারের তথ্য। সরকারি প্রজ্ঞাপন, ধর্মীয় চাঁদ দেখার সিদ্ধান্ত এবং দাপ্তরিক ছুটির বিধি অনুযায়ী চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা উচিত।


